|
ব্রাউন ছুটি কাটাচ্ছেন সাফৌকেঃ প্রধান মন্ত্রীত্বের গদি টলছে লন্ডনে
পরিবারকে
নিয়ে
দু'সপ্তাহের অবকাশ যাপনের জন্য সাফৌকে অবস্থান করছেন ব্রিটেইনের
প্রধানমন্ত্রী গর্ডন ব্রাউন।
এদিকে তাকে পদ থেকে
হঠানোর প্রচেষ্টা হঠাৎ করেই যেনো প্রবল হয়ে উঠেছে লন্ডনে।
মঙ্গলবার টাইমস অনলাইন ও
ইভনিং স্ট্যান্ডার্ড পত্রিকার সান্ধ্য-সংখ্যায় প্রকাশিত প্রতিবেদনে দাবী করা হয়,
ব্রাউনকে সরানোর
ব্যাপারে একমত হতে পেরেছেন ক্যাবিনেটের শীর্ষ-স্থানীয় তিনজন সদস্য।
উপরের
পত্রিকা দুটির দাবী-মতে,
নতুন নেতা নির্বাচনের
ব্যাপারে লেবার পার্টির ভিতরে বেশ ভালো রকমের তোড়জোড় তৈরী হয়েছে।
ফরেইন সেক্রেট্যারী
ডেইভিড মিলিব্যান্ড,
লেবার পার্টির ডেপুটি হ্যারিয়েট
হারমেন ও হেলথ সেক্রেট্যারী এালান
জনসন এখন গর্ডন ব্রাউনকে বিদায় করানোর চেষ্টায় শামিল আছেন।
এছাড়াও জানানো হয়েছে,
ব্রাউন যদি বিদায় না নেন,
তাহলে আগামী
সেপ্টেম্বরের দলের বার্ষিক সম্মেলনে একাধিক জুনিয়র মন্ত্রী পদত্যাগের ঘোষণা দিতে
পারেন।
ইভনিং স্ট্যান্ডার্ড পত্রিকার
পক্ষ থেকে এ-সংখ্যা দশজন হতে পারে বলে দাবী করা হয়েছে।
এদিকে টাইমস পত্রিকা
সরকারের একটি সূত্রকে উদ্ধৃত করে জানিয়েছেঃ
'ডাউনিং
স্ট্রীটে এখন হাতে-গোণা কয়েকজন মাত্র লোক আছে, যারা কিছু একটি ঘটে যাওয়া ঠেকানোর
চেষ্টা করছেন।'
চিরকালের লেবার পার্টি বিরোধী পত্রিকা দুটির দাবী-মতে, মিলিব্যান্ড ও জনসনকে নিয়ে
এখন একটি জুটি বাঁধার চেষ্টা করা হচ্ছে।
মঙ্গলবার
রাতে গার্ডিয়ানের অনলাইনে সংস্করণে প্রকাশিত এক লেখাতে দলের বর্তমান পরিস্থিতির কড়া
সমালোচনা করেছেন ডেইভিড মিলিব্যান্ড।
লেখাতে দলনেতা
পরিবর্তনের কোনো আহবান জানানো হয়নি,
তবে দলের বর্তমান
দুরাবস্থা নিয়ে তীব্র আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন ফরেইন সেক্রেট্যারী।
পর্যবেক্ষকদের ধারণা,
মঙ্গলবারের লেখার মধ্য
দিয়ে ব্রাউনের ব্যাপারে মিলিব্যান্ডের অবস্থান অনেকটাই স্পষ্ট হয়ে গেছে।
এছাড়াও কয়েকটি আগে
উপ-নির্বাচনে পরাজয়ের পরে 'আমার সময় এসেছে' বলে হারমেন যে-মন্তব্য করেছিলেন সেদিকেও
নজর রাখছেন পর্যবেক্ষকরা।
ক্যাবিনেটের ভিতরে ব্রাউনের ব্যাপারে নুতন চিন্তা-ভাবনার কথা প্রচার করা ছাড়া,
কয়েকজন এমপির প্রকাশ্য
অবস্থানের বিবরণও সবিস্তারে এসেছে মিডিয়াতে।
ইংল্যান্ডের
উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় এ-তিন এমপির অবস্থানকে 'ল্যাঙ্কাস্টার প্লট' হিসাবে আখ্যায়িত
করা হয়েছে।
ল্যাঙ্কাশায়ারের পেন্ডেল আসনের
এমপি গর্ডন প্রেন্টিস সর্ব-প্রথম দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ করে প্রকাশ্যেই ব্রাউনের
পদত্যাগের আহবান জানিয়েছেন সোমবার।
তিনি দাবী করেন, এখন
বিদায় নেয়াটা ব্রাউন ও দল উভয়ের জন্যেই মঙ্গলকর।
টনি ব্লেয়ার বিদায় নেয়ার
সময় দলনেতা পদের জন্য গর্ডন ব্রাউন ছাড়া আর কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকার কথা স্মরণ
করেও গভীর আক্ষেপ প্রকাশ করেন এই এমপি।
এদিকে,
গত সপ্তাহে গ্লাসগৌ
ইস্টে উপ-নির্বাচনে ভয়াবহ পরাজয়ের কথা উল্লেখ করে ম্যানচেস্টারের ব্ল্যাকলের এমপি
গ্রাহাম স্ট্রিঙ্গার জানিয়েছেন, দলীয় নেতৃত্বের ব্যাপারে সরাসরি চ্যালেঞ্জ
উপস্থাপনের সময় এসেছে এখন।
নর্থ এান্ড
সেফটেন ইস্ট আসনের এমপি জোর্জ হাওয়ার্থ ও ব্রাউনের প্রকাশ্য বিরোধিতা করে মাঠে
নেমেছেন প্রকাশ্যে।
নেতা পরিবর্তনের সরাসরি
আহবান না জানালেও,
সংবাদ-মাধ্যমের সাথে আলাপকালে
তিনি বলেন,
'প্রধানমন্ত্রীর ভূমিকা নিয়ে
আলোচনা উত্থাপনের সময় এসে গেছে।'
এতো
কিছুর মধ্যেও দুয়েকজন শীর্ষ-স্থানীয় লেবার পার্টি নেতা এসে দাঁড়াচ্ছেন ব্রাউনের
পাশে।
পার্লামেন্টারী লেবার পার্টির
টনি লয়েড এমন একজন।
মঙ্গলবার ব্রাউন
বিরোধীদের সমালোচনা করে তিনি বলেন,
'আমরা সবকিছু নিয়ে
নিজেরা নিজেদের ভিতরে কথা বলতে পারি,
অথবা বাইরের মানুষকে সব
কিছু শুনিয়ে-শুনিয়ে আলাপ করতে পারি।'
হাইয়ার এডুকেশন
মিনিস্টার বিল রামেল
জানিয়েছেন গর্ডন ব্রাউনকে নেতা পদ থেকে সরানোটা হবে ভয়াবহ এক ভুল।
পর্যবেক্ষকদের ধারণা,
ব্যাক-বেঞ্চার এমপিদের
কথাবার্তা থেকেও ব্রাউনের তেমন কোনো ক্ষতির সম্ভাবনা নেই।
তবে যেসব ক্যাবিনেট
সদস্যের নাম মঙ্গলবার শোনা গেছে, তারা সত্যিকার অর্থে ব্রাউনের বিরুদ্ধে দাঁড়ালে
অদূর ভবিষ্যতে ব্রিটেইনে নতুন প্রধানমন্ত্রী পদে নতুন মুখ দেখা যাবার সমূহ সম্ভাবনা
আছে।
লন্ডনঃ
২৯ জুলাই, ২০০৮ |