|
রক্তগঙ্গা ইরাকেঃ তীর্থযাত্রী আর বিক্ষোভ মিছিলে আত্মঘাতী বোমা
ভয়াবহ
আত্মঘাতী হামলার পরিণতিতে সোমবার ইরাকে প্রাণ হারিয়েছেন কমপক্ষে পঞ্চান্নজন মানুষ।
এছাড়াও তিন শতাধিক
ব্যক্তি আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
সংবাদ-মাধ্যম জানিয়েছে,
আত্মঘাতী নারী-স্কোয়াডের
মাধ্যমে রাজধানী বাগদাদে বা উত্তরের কিরকুক শহরে হামলাগুলো চালানো হয়েছে।
কে বা কারা হামলা
চালিয়েছে, তা জানা যায়নি।
তবে দু'টি হামলাই চালানো
হয়েছে শিয়া জনগোষ্ঠীর উপরে।
সংবাদ-মাধ্যম সূত্রে জানা যাচ্ছে,
সোমবার অল্প সময়ের
ব্যবধানে বাগদাদের তিনটি স্থানে শিয়া তীর্থযাত্রীদের উপরে আত্মঘাতী বোমা হামলাগুলো
চালানো হয়।
শিয়াদের কাছে পরম শ্রদ্ধেয় বারো
ইমামের একজনের মৃত্যু বার্ষিকী
উপলক্ষ্যে আয়োজিত একটি
ধর্মীয় পরবে যোগ দেয়ার জন্য সোমবার মিলিয়ন মানুষের সমাবেশ হয়েছিলো বাগদাদে।
রাজধানীতে চালানো
হামলাগুলোতে প্রাণ হারান কমপক্ষে বত্রিশ ব্যক্তি।
এছাড়াও আহত হন শতাধিক।
হাসপাতাল ও পুলিশ
সূত্রগুলো সংবাদ-মাধ্যমকে জানিয়েছে এসব তথ্য।
বাগদাদের কেন্দ্রস্থলে
কারাদাতে আত্মঘাতী বোমা হামলাগুলো চালানো হয়েছে।
এ-সময় ভক্তবৃন্দ শহরের
উত্তর-পশ্চিম দিকে অবস্থিত খাদিমিয়া মাজারের দিকে যাচ্ছিলেন।
২০০৩ ও ২০০৫ সালেও
খাদিমিয়াতে ধর্মোৎসব চলাকালে বড়ো ধরণের হামলা চালানো হয়েছিলো।
এদিকে,
বাগদাদের বাইরে উত্তর
ইরাকের কিরকুকেও আত্মঘাতী হামলা চালানো হয় সোমবার।
তথ্যে প্রকাশ,
একটি বিক্ষোভ সমাবেশের
উপরে কিরকুকের হামলা দু'টি চালানো হয়।
জানা গেছে,
কিরকুকে আসন্ন প্রাদেশিক
পরিষদ নির্বাচনের বিরোধিতা করে বিক্ষোভ সমাবেশটির আয়োজন করা হয়।
কিরকুকবাসীদের অনেকে মনে
করেন, প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচনের মধ্য দিয়ে তেল-সম্পদের প্রদেশের বর্তমান
নিয়ন্ত্রণ ব্যাহত হবে।
তবে হামলা চালানোর জন্যে
বিক্ষোভ সমাবেশটিকে কেনো বেছে নেয়া হয়েছে, তা স্পষ্ট নয়।
কিরকুকের হামলা দু'টিতে
কমপক্ষে তেইশ ব্যক্তি নিহত ও আশীজনের বেশি মানুষ আহত হবার প্রাথমিক খবর পাওয়া গেছে।
গত কয়েক
সপ্তাহ ধরে ওয়াশিংটন ও বাগদাদের পক্ষ থেকে ইরাক পরিস্থিতির ক্রমাগত উন্নতি নিয়ে
যে-সব দাবী উত্থাপন করা হচ্ছিলো,
সোমবারের হামলার মধ্য
দিয়ে তা বড়ো ধরণের ধাক্কা খেয়েছে।
ইরাকী কর্তৃপক্ষের
সাথে-সাথে যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসনের পক্ষ থেকে সোমবারের হামলার নিন্দা জানানো হয়েছে।
কে বা কারা হামলা
চালিয়েছে সে-ব্যাপারে কোনো-দিক থেকে সোমবার রাত পর্যন্ত কোনো দাবী উত্থাপিত না হলেও,
বিশেষতঃ বাগদাদের হামলার
ধরণ দেখে কোনো-কোনো পর্যবেক্ষক আল-কায়দার দিকে সন্দেহের আঙ্গুল তুলছেন।
উলেখ্য,
শিয়া ধর্মস্থানগুলোর
উপরে আল-কায়দা অতীতে বহু হামলা চালিয়েছে।
উল্লেখ্য,
গত জুনের সতেরো তারিখের পরে
ইরাকে এতবড়ো হামলা আর হয়নি।
বাগদাদের উপরে চালানো
হামলাতে আটষট্টি ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছিলো।
লন্ডনঃ
২৯ জুলাই, ২০০৮
|