|
বাংলাদেশে
মান্নান ভূঁইয়া-সহ
দুর্নীতির অভিযোগে বন্দী পাঁচ নেতা
মুক্ত
বাংলাদেশে সেনা নিয়ন্ত্রিত তত্বাবধায়ক সরকারের করা বিভিন্ন মামলায় আটক বিএনপির
সাবেক মহাসচিব আব্দুল মান্নান ভূঁইয়াসহ আরও পাঁচ রাজনৈতিক নেতাকে জামিন দিয়েছে
দেশটির হাইকৌর্ট।
এ-পাঁচজনের মধ্যে চারজন বিএনপির
ও একজন আওয়ামীলীগ নেতা।
সোমবার অন্য যারা জামিন
পেয়েছেন, তারা হলেন
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এম
শামসুল ইসলাম,
আওয়ামী লীগ নেতা ইঞ্জিনিয়ার
মোশাররফ হোসেন,
ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ও সাবেক
বিএনপি সাংসদ নাসিরউদ্দিন আহমেদ পিন্টু ও বিএনপি নেতা প্রয়াত আকবর হোসেনের ছেলে
ইসমাইল হোসেন সায়মন।
গ্যাটকো
দুর্নীতি মামলায় মান্নান ভূঁইয়া,
শামসুল ইসলাম ও সায়মনকে
দু'মাসের জামিন দিয়েছে হাইকৌর্ট।
আদালত তাদের বিরুদ্ধে
মামলার কার্যক্রমও একই সময় পর্যন্ত স্থগিত রাখার নির্দেশ দিয়েছে।
মামলাটি কেনো বাতিল করা
হবে না, তার কারণ জানাতে সরকারের প্রতি রুলও জারী করা হয়েছে।
মান্নান ভূঁইয়া,
শামসুল ইসলাম ও সায়মনের আলাদা তিনটি রিট আবেদনের
পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার বিচারপতি শরিফউদ্দিন চাকলাদার ও বিচারপতি মোঃ ইমদাদুল হক
আজাদের বেঞ্চ জামিন
আদেশ দেন।
হাইকৌর্টের আদেশের পর মান্নান ভূঁইয়া ও শামসুল ইসলামের আইনজীবী ব্যারিস্টার ফাহিমউল
হক সাংবাদিকদের বলেন,
তাদের বিরুদ্ধে আর কোনও
মামলা নেই।
তাই তাদের কারামুক্তিতেও কোনও
বাধা নেই।
গ্যাটকো মামলায় মান্নান ভূঁইয়া
ও শামসুল ইসলাম গত ১৮ মে ঢাকার মহানগর বিশেষ জজ আদালতে আত্মসমর্পণের পর বিচারক
তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
এদিকে দুর্নীতির অপর
দু'টি মামলায় বিচারপতি শরিফউদ্দিন চাকলাদার ও বিচারপতি মোঃ ইমদাদুল হক আজাদের
হাইকৌর্ট বেঞ্চ আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনকেও
দু'মাসের জামিন দিয়েছে।
জ্ঞাত-আয় বহির্ভূত সম্পদ
অর্জন ও প্লট-বরাদ্দের দুর্নীতির অভিযোগে মোশাররফ হোসেনের বিরুদ্ধে মামলা দু'টি
করা হয়।
তার বিরুদ্ধে মামলার কার্যক্রমও
দু'মাসের জন্য স্থগিত করেছে আদালত।
মামলাটি কেনো বাতিল করা
হবে না, আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে তার কারণ জানাতে সরকারের প্রতি রুল জারী করা
হয়েছে।
মোশাররফের আইনজীবী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ সাংবাদিকদের বলেন,
ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফের
বিরুদ্ধে আর কোনও মামলা না থাকায় তার কারামুক্তিতে বাধা নেই।
ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফকে গত
বছরের ২৫ ফেব্রুয়ারি গ্রেপ্তার করা হয়।
এদিকে নাসিরউদ্দিন আহমেদ
পিন্টুকেও একই বেঞ্চ অন্য একটি মামলায় দু'মাসের জামিন দিয়েছে।
পিন্টু ২০০৭ সালের ১৫
ফেব্রুয়ারী আদালতে আত্মসমর্পণ করলে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
গ্যাটকো
মামলার দুই আসামী জামায়াতে ইসলামীর আমির মতিউর রহমান নিজামী ও বিএনপি নেতা এমকে
আনোয়ার ইতোমধ্যে হাইকৌর্ট থেকে জামিনে ছাড়া পেয়েছেন।
দুর্নীতি দমন কমিশনের
দায়ের করা এ-মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ও
তার মন্ত্রীসভার নয়
সদস্য-সহ মোট ২৪ জন আসামী।
সংসদ ভবনে মামলাটি
মহানগর জজ আদালতের বিশেষ এজলাসে মামলার বিচার কাজ চলছে।
২০০৭
সালের ২ সেপ্টেম্বরে রাতে গ্যাটকো মামলাটি দায়েরের পরদিনই খালেদা জিয়া ও তার ছেলে
আরাফাত রহমান কোকোকে গ্রেপ্তার করা হয়।
চিকিৎসার জন্য সাময়িক
মুক্তি নিয়ে কোকো এখন থাইল্যান্ড আছেন।
গ্যাটকো মামলা
দুর্নীতির মাধ্যমে চট্টগ্রাম বন্দর ও কমলাপুরের কন্টেইনার ডিপো পরিচালনার দায়িত্ব
গ্লৌবাল
এাগ্রৌ
ট্রেইড কোম্পানীর (গ্যাটকো) হাতে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগে ১৩ জনের বিরুদ্ধে রাজধানীর
তেজগাঁও থানায় মামলাটি দায়ের করেন দুর্নীতি দমন কমিশনের উপ-পরিচালক গোলাম শাহরিয়ার
চৌধুরী।
মামলা
দায়েরের সময় খালেদা জিয়া ছাড়া সাবেক কোনও মন্ত্রীকে আসামী করা হয়নি।
তদন্ত শেষে গত ১৩ মে ঢাকার মহানগর হাকিমের আদালতে মামলার
অভিযোগপত্র দেন দুর্নীতি দমন কমিশনের
উপ-পরিচালক মোহাম্মদ জহিরুল হুদা।
এতে
আগের ১৩ জনের সঙ্গে জোট সরকারের ১০ জন মন্ত্রী-সহ মোট ২৫ জনকে আসামী করা হয়।
আসামীদের মধ্যে সাবেক
নৌমন্ত্রী আকবর হোসেন মারা যাওয়ায় তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
এরপর গত
১৫ মে মান্নান ভূঁইয়া ছাড়াও এম সাইফুর রহমান,
মতিউর রহমান নিজামী,
এমকে আনোয়ার,
এম শামসুল ইসলাম ও আমীর
খসরু মাহমুদ চৌধুরী-সহ ১১ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারী পরোয়ানা জারী ও সম্পত্তি জব্দের
আদেশ দেয় ঢাকার মহানগর হাকিম আদালত।
একই সঙ্গে কারাগারে থাকা
সব আসামিকে আগামী ২২ মে আদালতে হাজির করার নির্দেশও দেওয়া হয়।
মামলার অভিযোগপত্রে বলা
হয়,
আসামীরা ক্ষমতার অপব্যবহার করে
চট্টগ্রাম বন্দর ও কমলাপুরের কন্টেইনার ডিপো পরিচালনার দায়িত্ব গ্লৌবাল
এাগ্রৌ
ট্রেড কোম্পানীর (গ্যাটকো) হাতে ছেড়ে দেন।
এতে রাষ্ট্রের প্রায় ১৫
কোটি টাকা ক্ষতি হয়েছে।
এছাড়া সাবেক
নৌ-পরিবহনমন্ত্রী আকবর হোসেনের ছেলে ইসমাইল হোসেন সায়মন ও কোকো ঠিকাদারের কাছ থেকে
দুই কোটি ১৯ লাখ টাকারও বেশি আর্থিক সুবিধা নিয়েছেন।
গ্যাটকো মামলার আসামীরা
গ্যাটকো
মামলায় খালেদা জিয়া-সহ তার মন্ত্রিসভার আসামীদের মধ্যে রয়েছেন এম সাইফুর রহমান,
মান্নান ভূঁইয়া,
খন্দকার মোশাররফ হোসেন,
এম শামসুল ইসলাম,
এমকে আনোয়ার,
আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী,
একেএম মোশাররফ হোসেন ও
মতিউর রহমান নিজামী।
অপর আসামিরা হলেন খালেদা
জিয়ার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকো,
সাবেক নৌ-পরিবহন সচিব
জুলফিকার হায়দার চৌধুরী,
চট্টগ্রাম বন্দর
কর্তৃপক্ষের দুই সাবেক চেয়ারম্যান কমৌডর জুলফিকার আলী পিএসসি ও এএনএম শাহাদত হোসেন,
চট্টগ্রাম বন্দর
কর্তৃপক্ষের সাবেক পরিচালক (পরিবহন) এএম সানওয়ার হোসেন,
বন্দরের প্রধান অর্থ ও
হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা আহমদ আবুল কাশেম,
বন্দরের সাবেক সদস্য
লুৎফুল কবীর,
একে রশিদ উদ্দিন আহমেদ,
সাবেক নৌ-পরিবহনমন্ত্রী
আকবর হোসেনের ছেলে ইসমাইল হোসেন সায়মন,
গ্যাটকোর পরিচালক সৈয়দ
গালিব আহমেদ,
সৈয়দ তানভীর আহমেদ,
একেএম মুসা কাজল,
এহসান ইউসুফ,
শাহজাহান এ হাসিব এবং
নিউ ডিওএইচএস-এর বাসিন্দা জাহানারা আনসার।
ঢাকা
থেকে আবদুর রহিম হারমাছি
২৮ জুলাই
২০০৮
|