|
বাংলাদেশে ঢাবির ঝুঁকিপূর্ণ হল থেকে শিক্ষার্থীদের সরিয়ে নেওয়া
হচ্ছে
বাংলাদেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত
তিনটি হল ভবন থেকে শিক্ষার্থীদেরকে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
শনিবার গভীর রাতে দেশটির
রাজধানী ঢাকা-সহ বিভিন্ন স্থানে মাঝারি ধরণের ভূমিকম্প অনুভূত হওয়ার পর রোববার
প্রভৌস্ট স্ট্যান্ডিং কমিটীর এক জরুরী সভায় ভূমিকম্পে ক্ষতি হতে পারে এমন
ঝুঁকিপূর্ণ ভবন থেকে শিক্ষার্থীদের সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।
সোমবার সকাল থেকেই
শিক্ষার্থীরা ওইসব ভবন থেকে চলে যাওয়া শুরু করে।
ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের
তালিকায় রয়েছে রোকেয়া হলের অনার্স ভবন,
জগন্নাথ হলের 'পূর্ব
বাড়ি' ভবন এবং হাজী মুহম্মদ মুহসীন হলের দোতলার একাংশ।
রোকেয়া
হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডঃ লায়লা নূর ইউকেবেঙ্গলিকে জানান,
গত ৩১ মে অনার্স ভবনকে
ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করে শিক্ষার্থীদের ফয়জুন্নেসা চৌধুরানী হোস্টেলে বরাদ্দ দেওয়ার
সিদ্ধান্ত হয়।
কিন্তু ওই হোস্টেলের ছাত্রীরা
তখন বিরোধিতা করায় গত দু'মাসেও অনার্স ভবনের ছাত্রীরা সেখানে যেতে পারেনি।
প্রাধ্যক্ষ জানান,
শনিবার রাতের ভূমিকম্পের
ফলে ঝুঁকির মাত্রা উপলদ্ধি করে ফয়জুন্নেসা হোস্টেলের ছাত্রীরা এখন সহযোগিতা করায়
অনার্স ভবনের বাসিন্দারা সোমবার সকাল থেকে ওই হোস্টেলে উঠতে শুরু করেছে।
সোমবার রাতের মধ্যেই
অনার্স ভবনের ১৩৫ জন শিক্ষার্থীকে হলের অন্যান্য কক্ষে সরিয়ে নেওয়া হবে বলে তিনি
জানান।
মুহসীন
হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক আহমেদ জামাল আনোয়ার ইউকেবেঙ্গলির এ-প্রতিবেদকের সঙ্গে
আলাপকালে জানান,
হলের পাঠকক্ষ ও মিলনায়তন-সহ
অন্য যেসব কক্ষে বরাদ্দ দেওয়া যাচ্ছে, ঝুঁকিপূর্ণ রুমের ছাত্ররা আপাতত সেখানেই উঠছে।
'যতদ্রুত সম্ভব'
ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের
সংস্কার কাজ সমাপ্ত করে শিক্ষার্থীদের আগের জায়গায় ফিরিয়ে নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।
জগন্নাথ
হলের ঝুঁকিপূর্ণ ভবন পূর্ববাড়ীতে প্রায় ৬০০ শিক্ষার্থী থাকে জানিয়ে হলটির
প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক অজয় কুমার বলেন,
এতো শিক্ষার্থীকে
স্থানান্তর করা কষ্টসাধ্য কাজ।
শিক্ষার্থীরাও সরতে
চাইছে না।
উপাচার্য অধ্যাপক এমএমএ ফায়েজের
সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন,
'প্রয়োজনে
ছাত্রদের বিশ্ববিদ্যালয় জিমন্যাসিয়াম-সহ অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হবে।
এ সঙ্কটের মুহূর্তে
শিক্ষার্থীদের সতর্ক থাকতে হবে।'
মুহসীন
হলের ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে ২৩৬
b¤^i কক্ষের আবাসিক
ছাত্র শফিকুল ইসলাম বলেন,
'আমি
এ মুহূর্তে রুম ছাড়বো না।
তবে প্রচণ্ড আতঙ্কে আছি।
অন্য কোনো রুম বরাদ্দ
পেলেই আমি ছেড়ে দেবো।'
ঢাকা
থেকে আবদুর রহিম হারমাছি
২৮ জুলাই
২০০৮
|