|
পরাজয়ের
ফলে
ব্রাউনকে সময় বেঁধে দিচ্ছে ক্যাবিনেটঃ দাবী মিডিয়ার
শুক্রবারের
গ্লাসগৌ ইস্ট উপ-নির্বাচনে পরাজয়ের পরিণতিতে স্বপদে বহাল থাকার ব্যাপারে নির্ধারিত
সময়-সীমার মধ্যে আটকা পড়তে যাচ্ছেন ব্রিটেইনের প্রধানমন্ত্রী গর্ডন ব্রাউন।
ব্রিটিশ মিডিয়াতে এ-খবর
প্রচারিত হচ্ছে গুরুত্ব সহকারে।
তবে পর্যবেক্ষকরা
জানাচ্ছেন,
দলের করুণ অবস্থা নিয়ে দলের
ভিতরে বড়ো ধরণের হতাশা বিরাজ করলেও এবং
বিভিন্ন সমীকরণের কারণে
মিডিয়ার রকমারী খবর সত্ত্বেও এখনই নেতৃত্বের চ্যালেঞ্জের মধ্যে পড়তে যাচ্ছেন না
ব্রাউন।
খবরে
প্রকাশ,
স্কটিশ ন্যাশনাল পার্টির
(এসএনপি) হাতে গ্লাসগৌর আসনটি হারানোর পর শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে শুরু করে শনিবার
সকালের মধ্যে ব্রাউনের রাজনৈতিক ভবিষ্যত নিয়ে আলাপ করেছেন ক্যাবিনেট সদস্যরা।
তথ্যমতে,
শান্তিপূর্ণভাবে পদ ছেড়ে
দেয়ার ব্যাপারে ব্রাউনকে অনুরোধ জানানো হবে কি-না,
তা নিয়ে ক্যাবিনেটের
শীর্ষস্থানীয় সদস্যদের মধ্যে কথা হয়েছে।
জাস্টিস সেক্রেট্যারী
জ্যাক স্ট্র এবং লেবার পার্টি হুইপ জেফ হুনকে এ-ব্যাপারে দলের ভেতরে বিভিন্ন পর্যায়
থেকে চাপ দেয়ার কথাও শোনা যাচ্ছে।
একটি সূত্র-মতে,
পুরো ব্রিটেইনের ভিতরে
পঁচিশতম ও স্কটল্যান্ডের তৃতীয়
'নিরাপদ'
আসন হিসাবে চিহ্নিত
গ্লাসগৌ ইস্টের উপ-নির্বাচনে পরাজয়টিকে স্বাভাবিক নিতে পারছে না লেবার পার্টির
উপর-নিচ কোনো অংশ।
এক হিসাবে দেখা যাচ্ছে,
বিজয়ী স্কটিশ ন্যাশনাল
পার্টি (এসএনপি) আগেরবারের তুলনায় এবার যে-পরিমাণ ভৌট নিজেদের দিকে টেনে নিতে সক্ষম
হয়েছে,
তা যদি পরবর্তী সাধারণ
নির্বাচনে দেশের অন্যান্য আসনেও প্রতিফলিত হয়,
তাহলে লেবার পার্টি গোটা
বিশেকের বেশি আসন পাবে না।
পত্র-পত্রিকাগুলো
জানিয়েছে,
দলের অবস্থা পুনরুদ্ধার ও নিজের
অবস্থান রক্ষার জন্য আগামী শরৎ পর্যন্ত ব্রাউনকে সময় দেয়ার ব্যাপারে ক্যাবিনেটের
শীর্ষস্থানীয় সদস্যরা বোঝাপড়ার আসতে পেরেছেন।
রক্ষণশীল পত্রিকাগুলো,
বিশেষতঃ দ্য টাইম,
নাম-ধামহীন সূত্র ব্যবহার করে নির্দিষ্টভাবে দু'মাস সময় দেয়ার কথা বলা হয়েছে।
আশা করা হচ্ছে এ-সময়ের
মধ্যে দলের জনপ্রিয়তা কমপক্ষে ৩০ শতাংশে পৌঁছানোর পারলে দলের ভেতরে বিদ্রোহ ঠেকিয়ে
দিতে সক্ষম হবেন ব্রাউন।
টেলিগ্রাফ,
টাইমসের মতো প্রভাবশালী
ডানপন্থী পত্রিকা-সহ প্রধান বিরোধী দল কনজারভেটিভ পার্টির সমর্থক ওয়েবসাইটগুলোতে,
ক্যাবিনেটের অভ্যন্তরে
গর্ডন ব্রাউনের বিরুদ্ধে প্রায়-বিদ্রোহ অবস্থার খবর পরিবেশন করা হলেও,
শনিবার বিকেল পর্যন্ত
তেমন কোনো প্রমাণ যায়নি।
বরং অধুনা ব্রাউন-বিরোধী
হয়ে ওঠা গার্ডিয়ান পত্রিকার মতে,
দলের অবস্থা নিয়ে
অসন্তোষ থাকলে ব্রাউনের বিরুদ্ধে বিদ্রোহের সূচনা হবার তেমন কোনো সম্ভাবনা নেই।
উল্লেখ্য,
গর্ডন ব্রাউনের পরে
ক্যাবিনেটের দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ হিসাবে বিবেচিত জাস্টিস সেক্রেট্যারী জ্যাক স্ট্র,
বিজনেস সেক্রেট্যারী জন
হাটন,
কিংবা লেবার পার্টি হুইপ জেফ
হুন দলীয় বিবেচনা থেকেই প্রধানমন্ত্রীর পাশে দাঁড়াচ্ছেন।
এরা মনে করছেন ব্রাউনকে
টেনে নামানোর অর্থ হচ্ছে,
একের পর এক নির্বাচনী
পরাজয়,
জীবন-যাত্রার ব্যয়ের তুমুল
বৃদ্ধির কারণে জনগণের তোপের মুখে থাকা দলকে আরও দূর্বল করে দেয়া।
উল্লেখ্য,
শনিবার আনুষ্ঠানিকভাবে
টৌরীদের পক্ষ থেকে সাধারণ নির্বাচনের তারিখ ঘোষণার আহবান জানিয়ে ফেলা হয়েছে।
ক্যাবিনেটের ধারণা
প্রধানমন্ত্রী পদে নতুন মুখে আগমন ঘটনো হলে,
টৌরীদের পক্ষ থেকে
সাধারণ নির্বাচনের চাপ প্রবলতর করা হবে।
কিন্তু বর্তমানে লেবার
পার্টির জনপ্রিয়তার যে-দশা তাতে করে নির্বাচনী বিজয় নিয়ে দলের নীতি-নির্ধারকরা
একেবারেই আশাবাদী হতে পারছেন না।
তরুণ
বিদেশ মন্ত্রী ডেইভিড মিলিব্যান্ডের সমর্থনের ব্যাপারটিও গর্ডন ব্রাউনকে আগামী
কিছুদিন অন্তত স্বস্তিতে রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য,
দলের ভেতরে বিভিন্ন মহল
থেকেই মিলিব্যান্ডকে ব্রাউনের উত্তরসূরী হিসাবে তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়।
মিলিব্যান্ড অবশ্য কখনও
এ-ব্যাপারে প্রকাশ্য আগ্রহ ব্যক্ত করেননি।
বিশ্লেষকদের ধারণা,
গ্লাসগৌ ইস্টের পরাজয়
পরবর্তী ঝাপটা কোনোভাবে সামাল দিতে পারলেও,
অবিলম্বে বাজার দর,
ক্রেডিট ক্র্যাঞ্চের মতো
সমস্যাগুলো থেকে বেরিয়ে আসার ব্যাপারে বড়ো ধরণের সাফল্য দেখাতে না পারলে আগামী কয়েক
মাসের মধ্যেই ব্রাউনের রাজনৈতিক ভবিষ্যতে ফয়সালা হয়ে যাবে।
লন্ডনঃ ২৬
জুলাই, ২০০৮ |