|
বেঙ্গালুরুর পরে সিরিজ-বোমা
আহমেদাবাদেঃ আতঙ্কগ্রস্ত সমগ্র
ভারত
শনিবার
সন্ধ্যায় সিরিজ বোমা-হামলা চালিয়ে প্রাথমিক খবর পাওয়া পর্যন্ত কমপক্ষে বিশজন
মানুষকে হত্যা করা হয়েছে ভারতের পশ্চিমাঞ্চলীয় রাজ্য গুজরাটের রাজধানী আহমেদাবাদ
শহরে।
দক্ষিণের কর্নাটক রাজ্যের
বেঙ্গালুরুতে বোমা-হামলার একদিনের মাথায় আহমেদাবাদের উপরে হামলাটি চালানো হলো।
অতি-অল্প পরিচিত একটি
মুসলিম উগ্রবাদী গ্রুপের পক্ষ থেকে হামলার দাবী করা হলেও,
সরকার বলছে কে বা কারা
হামলা চালিয়েছে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
খবরে
প্রকাশ,
শনিবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যে
পৌনে সাতটার দিকে আহমেদাবাদের উপরে প্রথম হামলাটি চালানো হয়।
এরপর প্রায় দেড় ঘন্টা
সময় ধরে শহরটির চৌদ্দটি এলাকায় সর্বমোট ষোলটি বোমার বিস্ফোরণ ঘটে।
সিরিজ বোমা-হামলায়
বিশজনের প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে প্রাথমিকভাবে।
এছাড়াও আহত হয়েছে শতাধিক
ব্যক্তি।
বোমা হামলার শিকার হওয়া
স্থানগুলোর মধ্যে মানিনগর নামক একটি এলাকাও আছে।
উল্লেখ্য,
মানিনগর হচ্ছে
হিন্দুত্ববাদী বিজেপির নেতা নরেন্দ্র মোদির নির্বাচনী আসন।
মোদি বেশ কয়েক বছর ধরেই
গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী পদে আছেন।
তার প্রধানমন্ত্রীত্বের
প্রথম মেয়াদেই,
২০০২ সালে ভয়াবহ সাম্প্রদায়িক
দাঙ্গায় প্রাণ হারিয়েছিলেন কয়েক হাজার ভারতীয় মুসলিম।
জানা
গেছে,
মানিনগর ছাড়াও দুটি হাসপাতালের
উপরেও বোমা হামলা চালানো হয়েছে শনিবার।
হামলার সময় সিভিল ও এলজি
নামের হাসপাতাল দুটিতে অন্যান্য স্থানে বোমায় আহত অনেক মানুষ-জনকে নিয়ে আসা হচ্ছিলো।
সংবাদ-মাধ্যম জানিয়েছে
নগরীর সারকেজ এলাকাতে একটি সিএনজি বাস এবং সঙ্গম থিয়েটারে বোমা বিস্ফোরিত হলে প্রাণ
হারাণ বেশ কিছু মানুষ।
বোমা-বিস্ফোরণের শিকার
হওয়া অন্যান্য স্থানগুলো হচ্ছে ইসানপুর,
নারোল সার্কেল,
বাপুনগর,
সারনপুর ব্রীজ,
হাটকেশওয়ার,
অধব,
সর্দার প্যাটেল মার্কেট,
জুহাপুর,
আম্বুর টাওয়ার বিল্ডিং ও
রায়পুর।
ভারতীয় ও আর্ন্তজাতিক
সংবাদ-মাধ্যমগুলোতে প্রচারিত স্থির ও ভিডিও-চিত্রে বোমার ঘায়ে আহত-নিহত মানুষজনকে
রক্তাক্ত অবস্থায় রাস্তায় পড়ে থাকতে দেখা গেছে।
বোমার আঘাতে এদের অনেকের
শরীরের বিভিন্ন অংশ উড়ে গেছে।
বোমার আঘাতে কয়েকটি
যাত্রীবাহী বাস ও দোকান-পাট পুরোপুরি বিধস্ত হয়েছে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে,
ষোলটি বোমার বেশির ভাগগুলোই
টিফিন-বক্সের মধ্যে ভরে সাইকেলের সাথে বেঁধে বহন করা হয়েছিলো।
মে মাসে ১৬ তারিখে
এ-কায়দায় বোমা ফাটিয়ে জয়পুরে ৬৫ ব্যক্তিকে হত্যা করা হয়েছিলো।
ভারতীয় একটি
টিভি-চ্যানেল জানিয়েছে 'ইন্ডিয়ান
মুজাহেদিন'
নামের একটি সংগঠনের পক্ষ থেকে
হামলার দায়-দায়িত্ব স্বীকার করে ই-মেইল পাঠানো হয়েছে।
তবে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ
হামলার পরপর দেয়া এক বক্তব্যে বলা হয়েছে, হামলাকারীর পরিচয় সম্পর্কে শুরুতেই
নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ইন্ডিয়ান মুজাহেদিন'
জয়পুর ও উত্তর প্রদেশে
হামলার দায়-দায়িত্বও দাবী করেছিলো।
কয়েকটি হামলার সাথে
নিজেদের নাম জড়াতে চাইলেও,
এমনিতে
'ইন্ডিয়ান
মুজাহেদিনের'
নামধাম তেমন একটা শোনা যায় না।
ভারতীয়
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে,
বেঙ্গালুরু ও আহমেদাবাদের
বিস্ফোরণের ধরণের মধ্যে মিল লক্ষ্য করা গেছে।
আহমেদাবাদের হামলার পরে
পুরো ভারত-জুড়ে সর্তকাবস্থা বহাল করা হয়েছে।
এছাড়াও আক্রান্ত শহরের
নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ন্যাশনাল সিকিউরিটি
গার্ডের সদস্যদের রাস্তায় নামানো হয়েছে।
রোববার দেশের পরিস্থিতি
নিয়ে কথা বলার জন্য সর্বোচ্চ পর্যায়ের বৈঠক বসবে নয়াদিল্লীতে।
এদিকে আহমেদাবাদের
হামলার ঘটনার কড়া নিন্দা করেছে রাজ্য ও কেন্দ্র বিজেপি।
মুখ্যমন্ত্রী মোদির পক্ষ
থেকে শান্তি বজায়ে রাখার জন্য সর্ব-মহলের প্রতি আহবান জানানো হয়েছে।
বিজেপির শীর্ষনেতা
লালকৃষ্ণ আদবানীর পক্ষ থেকে সন্ত্রাসবাদ-বিরোধী কড়া আইন প্রণয়নে ব্যর্থতার জন্য
কেন্দ্রীয় সরকারের কড়া সমালোচনা করা হয়েছে।
লন্ডনঃ ২৬
জুলাই, ২০০৮ |