London:

Home

About us

Services

Contact

Archive

গ্সগৌ ইস্টে লেবার পরাজিতঃ ব্রাউনের ভাগ্যাকাশে দূর্যোগের ঘনঘটা

নয় সপ্তাহের মধ্যে তৃতীয় বারের মত একটি উপ-নির্বাচনে পরাজিত হয়েছে ব্রিটেইনের ক্ষমতাসীন লেবার পার্টি। শুক্রবারের উপ-নির্বাচনে সুদীর্ঘ দিন ধরে দখলে থাকা স্কটল্যান্ডের গ্লাসগৌ ইস্ট আসনটি হারিয়ে গত এগারো বছর ধরে ক্ষমতায় থাকা দলটির চলমান সঙ্কটই শুধু ঘনীভূত হয়নি, বরং গত বছরের মাঝামাঝিতে ব্যাপক জনপ্রিয়তা নিয়ে টনি ব্লেয়ারের স্থলাভিষিক্ত হওয়া প্রধানমন্ত্রী গর্ডন ব্রাউনের রাজনৈতিক ভবিষ্যত নিয়ে আরেক দফা শঙ্কা তৈরী হয়েছে। বিশেষতঃ দেশের সর্ববৃহৎ ট্রেইড ইউনিয়নের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে ব্রাউনে ভবিষ্যত নির্ধারণের জন্য ক্যাবিনেটের প্রতি আহবান জানানোর কারণে পুরো ব্যাপারটি এবার ভিন্নমাত্রা পেয়ে যাচ্ছে। ক্যাবিনেটের প্রভাবশালী সদস্যরা অবশ্য দৃশ্যতঃ প্রধানমন্ত্রীর পক্ষেই আছেন।

শুক্রবার গ্লাসগৌ ইস্টের ির্বাচনী ফলাফলে দেখা যাচ্ছে, স্কটল্যান্ডের স্বাধীনতাপন্থী দল স্কটিশ ন্যাশনাল পার্টির (এসএনপি) প্রার্থী জন ম্যাসন ৩৬৫ ভৌটের ব্যবধানে হারিয়ে দিয়েছেন লেবার পার্টির প্রার্থী মার্গারেট কারেন। ম্যাসন ও কুরান যথাক্রমে ১১,২৭৭ ও ১০,৯১২ ভৌট পেয়েছেন। উল্লেখ্য, গত নির্বাচনে গ্লাসগৌ ইস্ট থেকে ১৩ হাজার ভৌটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছিলেন লেবার প্রার্থী। আসনটি পুরো ব্রিটেইনের ভেতরেই লেবারদের সুনিশ্চিততম আসনগুলোর একটি হিসাবে এতোদিন পর্যন্ত পরিচিত ছিলো। হিসাবে দেখা যাচ্ছে, শুক্রবারের নির্বাচনে ২২ শতাংশ ভৌট নিজেদের দিকে দোল খাওয়াতে করাতে সক্ষম হয়েছে এসএনপি, যা মে মাসের ক্রু ান্ড ন্যানিচ আসনের উপ-নির্বাচনের তুলনায় ৫ শতাংশ বেশি। সে-নির্বাচনে প্রধান বিরোধ দল ১৭ শতাংশ ভৌট স্বপক্ষে দোল খাইয়ে নির্বাচনে জয়লাভ করেছিলেন।

শুক্রবার বিকেলের দিকে পাওয়া একটি হিসাবে দেখা যায় সাধারণ নির্বাচনে যদি গ্লাসগৌ ইস্টের ফলের পুণরাবৃত্তি ঘটে তাহলে স্কটল্যান্ডের কির্কক্যাল্ডী ান্ড কাউডেনবীথ আসনটি থেকে স্বয়ং গর্ডন ব্রাউন জিতে বেরিয়ে আসতে পারবেন কি-না, সে-ব্যাপারে যথেষ্ঠ সন্দেহের অবকাশ আছে। গত নির্বাচনে আসনটি ২৪,২৭৮ ভৌট (৫৮.১ শতাংশ) পেয়ে এ-আসনে জয়ী হয়েছিলেন ব্রাউন। দ্বিতীয় স্থান অধিকারী এসএনপির ালেন বাথ পেয়েছিলেন ৬,০৬২ আসন (১৪.৫ শতাংশ)। এ-হিসাব অনুসারে ২১.৭৯ শতাংশ ভৌট নিজেদের দিকে 'দোল' খাওয়াতে পারলে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর আসনটি জিতে নিতে পারে এসএনপি। কোন নির্দিষ্ট আসন হিসাবে না ধরে দল হিসাবে দেখলে, এসএনপির শুক্রবারের 'সুইং' ব্রাউনের আসন দখলের জন্য প্রয়োজনের তুলনায় বেশি। গ্লাসগৌ ইস্টে বিজয়ী ম্যাসন সংবাদ-মাধ্যমে দেয়া এক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, 'এটি একটি মহাকাব্যিক বিজয়। এবং এর কম্পন [ব্রিটিশ পার্লামেন্ট ভবন] ওয়েস্টমিনিস্টার পর্যন্ত অনুভূত হচ্ছে। উল্লেখ্য, বর্তমানে স্কটিশ আইনসভার নিয়ন্ত্রণে আছে এসএনপি। গত বছরের স্থানীয় নির্বাচনে দলটি প্রথমবারের মতো আঞ্চলিক আইনসভার নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। আগামী ২০১০ সাল নাগাদ ব্রিটিশ ইউনিয়ন থেকে বেরিয়ে স্কটল্যান্ডের স্বাধীনতার ব্যাপারে স্কটল্যান্ডে একটি গণভৌট আয়োজনের প্রয়াসী এসএনপি। এছাড়াও স্কটল্যান্ডের অর্থনৈতিক নীতিমালা নিয়েও লেবারদের সাথে বাদানুবাদে লিপ্ত আছে এসএনপি।

শুক্রবারের ফলাফলের ব্যাপারে প্রতিক্রিয়া ব্যক্তকালে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন মন্ত্রী গার্ডিয়ানকে বলেন, 'তৃতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় থাকা সরকারের ক্ষেত্রে এমনটি হয়ে থাকে এভাবে ভেবে আমরা বসে থাকতে পারিনা। আমরা চতূর্থবারের মতো জিততে চাই। আমরা সমস্যার মধ্যে আছি।' এদিকে এসএনপি ও স্কটিশ পার্লামেন্টের নেতা ালেক্স স্যালমন্ড নিজ-দলের অসাধারণ বিজয়ের ব্যাপারে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত-কালে বলেন, 'এটা ছিলো দুই সরকারের [ আঞ্চলিক ও কেন্দ্রীয় ] শক্তির পরীক্ষা।' উল্লেখ্য, উপ-নির্বাচনে লেবার পার্টিকে হারানোর চেষ্টায় মরীয়া এসএনপি নেতা নিজ-দলের প্রার্থীর পক্ষে বারোবার গ্লাসগৌ ইস্ট আসনটি সফর করেন। এ-সফরগুলোর সময় একের পর এক জ্বালাময়ী ভাষণ দিয়ে স্কটল্যান্ডের বিরুদ্ধে কেন্দ্রে ক্ষমতাসীন সরকারের নানান বৈষম্য উন্মোচিত করেছিলেন স্যালমন্ড।

এদিকে স্বল্প সময়ের ব্যবধানে তৃতীয়বারের পরাজয়ে বড়ো ধরণের প্রতিক্রিয়া হয়েছে লেবার পার্টি সদা-ঘনিষ্ঠ ট্রেইড ইউনিয়নগুলোর মধ্যে। এমনকি শুক্রবার গ্লাসগৌর ফল প্রকাশের পর-পর দেয়া এক বক্তব্যে ব্রিটেইনের অন্যতম বৃহৎ ট্রেইড ইউনিয়ন ব্রিটিশ জেনারেল ইউনিয়নের (জিএমবি) পক্ষ থেকে গর্ডন ব্রাউনের রাজনৈতিক ভবিষ্যত ফয়সালা করার জন্য লেবার ক্যাবিনেটের প্রতি আহবান জানিয়ে ফেলা হয়েছে। উল্লেখ্য করা যেতে পারে ট্রেইড ইউনিয়নগুলো হচ্ছে লেবার পার্টির ক্ষমতার অন্যতম ভিত। ৬ লক্ষ সদস্য-বিশিষ্ট জিএমবির সাধারণ সম্পাদক পল কেনী সংবাদ-মাধ্যমে বক্তব্য দান-কালে লেবার পার্টির শীর্ষ-পর্যায়কে উদ্দেশ্য করে বলেন, 'তিনি [ব্রাউন] হয় থাকবেন নয়তো চলে যাবেন। কিন্তু পর্দা আড়াল থেকে যে-গুঞ্জরণ চলছে তা বন্ধ হতে হবে। আপনারা হয় তাকে সমর্থন দিন নয়তো তাকে সরিয়ে দিন।'

শুক্রবার ওয়ারউইকে লেবার পার্টির ন্যাশনাল পলিসি ফৌরামে যোগ দেয় আরো কয়েকজন ইউনিয়ন নেতার পক্ষ থেকেও গর্ডন ব্রাউনের ব্যাপারে নাখোশ মনোভাব ব্যক্ত করা হয়েছে বলে শোনা গেছে। এ-দাবীটি অবশ্য এসেছে প্রভাবশালী ডানপন্থী দৈনিক টাইমসের পক্ষ থেকে। ম্যানচেস্টারের ব্ল্যাকলী থেকে নির্বাচিত লেবার পার্টির এমপি গ্রাহাম স্ট্রিঙ্গারের পক্ষ থেকে গর্ডন ব্রাউনকে বিদায় করার জন্য ক্যাবিনেটের প্রতি আহবান জানানো হয়েছে বকে শোনা যাচ্ছে।

ব্রিটেইনের সর্ববৃহৎ ইউনিয়ন ইউনাইটের পক্ষ থেকে অবশ্য কিছুটা হলেও ব্রাউনকে ছাড় দেয়া হয়েছে। ২ মিলিয়নের অধিক সদস্য-সম্পন্ন ট্রেইড ইউনিয়ন ইউনাইটের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক টনি উডলে জানিয়েছেন ব্যক্তির নয় বরং নীতিমালাতে পরিবর্তন আনয়ন করাটাই হচ্ছে লেবার পার্টির জন্য জরুরী। ক্যাবিনেটের শীর্ষ-স্থানীয় কয়েকজন সদস্যের পক্ষ থেকেও ব্রাউনের প্রতি সমর্থন ব্যক্ত করা হয়েছে। এদের মধ্যে আছেন চ্যান্সেলর ালিস্টার ডার্লিং, ডিফেন্স সেক্রেট্যারী দেস ব্রাউন, বিজনেস সেক্রেট্যারী জন হাটন।

লন্ডনঃ ২৫ জুলাই, ২০০৮

 

আজকের প্রধান খবর8

জুলাই আর্কাইভ 8

আর্কাইভ8

 
 

© 2007 Confidence Services Ltd.