কিউবাতে
পরমাণু বোমাবাহী বিমানের ঘাঁটি বানাতে চাচ্ছে রাশিয়া
পরমাণু
বোমাবাহী রুশ বিমানগুলোর জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিবেশী কিউবাতে জ্বালানী ঘাঁটি
নির্মানের ব্যাপারে সক্রিয় চিন্তা-ভাবনা চলছে।
সোমবার মস্কৌর
শীর্ষস্থানীয় একটি পত্রিকাতে এ-ব্যাপারে বিস্তারিত খবর প্রকাশ হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সরকারীভাবে
খবরটি প্রত্যাখান করা হলেও,
ক্রেমলিনের সাথে
পত্রিকাটির অন্তরঙ্গ সম্পর্কের কারণে পশ্চিমা মহল থেকে বিষয়টিকে গুরুত্বে সাথে দেখা
হচ্ছে।
ইউরৌপের মাটিতে মিসাইল শীল্ড
বসানোর ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে যে-চেষ্টা চলছে, তারা পাল্টা ব্যবস্থা
হিসাবেই মস্কৌর উদ্যোগটিকে বিবেচনা করছেন পর্যবেক্ষকরা।
গত
সোমবার মস্কৌর ইজভেসতিয়া পত্রিকাতে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে জানানো হয়, দূরপাল্লার
পরমাণু বোমাবাহী টিইউ-১৬০ এবং টিইউ-৯৫ জঙ্গী-বিমানগুলোর জন্য কিউবাকে ঘাঁটি হিসাবে
ব্যবহারে ইচ্ছুক রাশিয়া।
নাম-ধামহীন
'উচ্চ-পর্যায়ের' সামরিক সূত্রকে উদ্ধৃত করে তথ্যটি দিয়েছে পত্রিকাটি।
ইজভেসতিয়ার
প্রতিবেদনটিকে পশ্চিমা মহল থেকে খুব গুরুত্বের সাথে নেয়া হচ্ছে।
কেনো-না, এ-পত্রিকাটির
সাথে রুশ ক্ষমতার কেন্দ্র ক্রেমলিনের শীর্ষ-পর্যায়ের নেতাদের সম্পর্কের ব্যাপারটি
সর্বমহলে সুবিদিত।
একজন শীর্ষ সামরিক
কর্মকর্তা পত্রিকার প্রতিবেদনের এক জায়গায় বলেন,
'ওরা [যুক্তরাষ্ট্র]
পৌল্যান্ড ও চেক রিপাবলিকে এন্টি-মিসাইল সিস্টেম বসাতে-বসাতে,
আমাদের দূরপাল্লার
স্ট্র্যাটিজিক এয়ারক্রাফটগুলো কিউবাতে নেমে পড়বে।'
উল্লেখ্য,
ইরান ও উত্তর কোরিয়ার
মতো তথাকথিত দূর্বৃত্ত রাষ্ট্রগুলোর পক্ষ থেকে আক্রান্ত হবার 'আশঙ্কা' ব্যক্ত করে
ইউরৌপের মাটিতে এন্টি-মিসাইল শীল্ড বসানোর উদ্যোগ নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
রাশিয়া শুরু থেকেই
মার্কিনীদের এ-প্রচেষ্টার কড়া বিরোধিতা করছে।
প্রতিবেশী পৌল্যান্ড ও
চেক প্রজাতন্ত্রে এন্টি-মিসাইল শীল্ড বসানো হলে রাশিয়ার নিরাপত্তা ভয়াবহভাবে
বিঘ্নিত হবে বলে মনে করে মস্কৌ।
গত প্রায় দু'বছর যাবৎ
এন্টি-মিসাইল শীল্ডের ব্যাপারটি নিয়ে মস্কৌ-ওয়াশিংটনে চাপান-উতোর চলছে।
বৃহস্পতিবার মস্কৌর পক্ষ থেকে সোমবার প্রকাশিত খবরটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাখান
করা হয়েছে।
রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রাণালয়ের
তথ্য-বিভাগের প্রধান ইলশাত বাইচুরিন এ-প্রসঙ্গে বলেন,
'শান্তিমুখী নীতিমালার অনুসারী রাশিয়া অন্য রাষ্ট্রের সীমানাতে সামরিক ঘাঁটি তৈরি
করবে না।'
লন্ডন-ওয়াশিংটনের বিশ্লেষকদের
কেউ-কেউ মনে করছেন কিউবাকে পরমাণু ঘাঁটি হিসাবে ব্যবহার করার মধ্যে তেমন কৌশলগত লাভ
নেই রাশিয়ার।
ধারণা করার হচ্ছে এন্টি মিসাইল
শীল্ড সংক্রান্ত মার্কিন উদ্যোগ পাল্টা-জবাব হিসাবেই এ-উদ্যোগ নিয়ে থাকতে পারে রুশ
কর্তৃপক্ষ।
রুশ জঙ্গী বিমানগুলোর পাল্লার
কথা ভাবলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিবেশী কিউবাতে ঘাঁটি বসানোর খবরটিকে খুব একটা গুরুত্ব
দেয়ার কিছু নেই বলে মনে করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য,
২ থেকে ৩ হাজার
কিলোমিটার পাল্লার জঙ্গী বিমান দিয়ে বহু দূর থেকেই মার্কিন ভূমিতে পরমাণু হামলা
চালাতে পারে রাশিয়া।
রুশ
পত্রিকায় প্রকাশিত খবরের ব্যাপারে কিউবার প্রতিক্রিয়াটি এখনো স্পষ্ট হয়নি।
এদিকে মার্কিন কর্তৃপক্ষ
বৃহস্পতিবার জানিয়েছে,
তারা এ-পর্যন্ত রাশিয়ার
কাছ থেকে প্রকাশিত খবরের ব্যাপারে কোন ধরনের আনুষ্ঠানিক তথ্য পায়নি।
লন্ডনঃ ২৪
জুলাই, ২০০৮ |