|
জর্জ বুশের সাথে ফৌনালাপ
আস্থা-ভৌটে বিজয়ী মনমোহন সিংহের
যুক্তরাষ্ট্রের
সাথে পরমাণু চুক্তি স্বাক্ষরের জন্য মরীয়া ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংহ
বৃহস্পতিবার টেলিফৌনে আলাপ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ বুশের সাথে।
জানা গেছে,
চুক্তি সাক্ষরের
ব্যাপারে পরবর্তী করণীয় স্থির করার লক্ষ্য থেকেই,
আস্থা-ভৌটে জিততে না
জিততেই বুশের সাথে ফৌনালাপ করে ফেলেছেন মনমোহন।
সর্বোচ্চ পর্যায়ের আলাপ
ছাড়াও,
বৃহস্পতিবার আরও কথা বলেছেন
ভারতের বিদেশ মন্ত্রী প্রণব মুখার্জি ও ইউএস সেক্রেট্যারী অফ স্টেইট কন্ডোলিৎসা
রাইস।
স্মরণ
করা যেতে পারে কয়েকদিন ব্যাপী অনেক বাক-বিতন্ডা,
অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগের
পরে,
গত বাইশ তারিখ সামান্য ব্যবধানে
লোকসভার আস্থা-ভৌট জিতে নিয়েছে মনমোহনের দল কংগ্রেস পার্টির নেতৃত্বাধীন ক্ষমতাসীন
ইউপিএ সরকার।
ভৌটে জিতলেও,
ভৌট বাগানোর জন্য
বিরোধিদের মধ্যে ঘুষ বিতরণের অভিযোগ এবং দাগী এমপিদের জেলখানা থেকে ছাড়িয়ে আনার
অভিযোগে ব্যাপক সমালোচনার মধ্যে পড়েছেন মনমোহন সিংহ ও দল।
ভারতের সরকারী সূত্র
থেকে সংবাদ মাধ্যমকে জানানো হয়েছে, লোকসভার আস্থা-ভৌটে জেতার জন্য মনমোহন সিংহকে
অভিনন্দন জানিয়েছেন জর্জ বুশ।
এরা দু'জন বিতর্কিত
পরমাণু চুক্তি স্বাক্ষরের ব্যাপারে পরবর্তী কর্মসূচি নিয়ে কথাবার্তা বলেন।
আস্থা-ভৌট জিতে যাবার ফলশ্রুতিতে ভারতকে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে পরমাণু চুক্তিতে আবদ্ধ
করার ক্ষেত্রে মনমোহন আর কোন সমস্যায় পড়বেন না বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন বুশ।
ইউএস ন্যাশনাল সিকিউরিটি
কাউন্সিলের মুখপাত্র গর্ডন জনড্রি এক বিবৃতিতে জানান, চুক্তি স্বাক্ষর করার
ব্যাপারে যতো দ্রুত সম্ভব অগ্রসর হবার ব্যাপারে সহমত হয়েছেন দু'নেতা।
উল্লেখ্য,
পরমাণু চুক্তি সংক্রান্ত
বিরোধিতাকে কেন্দ্র করে বামপন্থীরা সরকারের উপর থেকে সমর্থন তুলে নেয়ায় কারণে
ঝুঁকির মধ্যে পড়ে গিয়েছিলো ইউপিএ সরকার।
বুশ-মনমোহন ছাড়াও বৃহস্পতিবার ফৌনালাপ করেছেন ভারতের বিদেশ মন্ত্রী প্রণব মুখার্জি
ও মার্কিন সেক্রেট্যারী অফ স্টেইট কন্ডোলিৎসা রাইস।
ইন্টারন্যাশনাল এটমিক
এনার্জী এজেন্সী যাতে করে দু'দেশের চুক্তি স্বাক্ষরের পথে বাধা দাঁড় না করায়,
সে-ব্যাপারে ভারত সরকার যে-ব্যাপক চেষ্টা চরিত্র করে যাচ্ছে, তা রাইসকে বিস্তারিত
অবহিত করেন মুখার্জি।
তিনি আরো জানান, চুক্তি
স্বাক্ষরের সর্বশেষ ধাপটি নিষ্কন্টক করার জন্য নিউক্লিয়ার সাপ্লাইয়ার্স গ্রুপের
(এনজিএস) সাথে দর কষাকষির দায়িত্ব এখন যুক্তরাষ্ট্র গ্রহণ করবে কি-না, তা
যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাপার।
উল্লেখ্য,
দু'দেশের মধ্যে পরমাণু
চুক্তি স্বাক্ষর করতে হলে উপরে উল্লেখ সংস্থা দুটির সম্মতি প্রয়োজন।
ভারতীয়
কর্তৃপক্ষের ধারণা, ভারতের সাথে একটি স্বচ্ছ,
পরিচ্ছন্ন ও শর্তহীন
চুক্তি করার ব্যাপারে এনএসজি'র কাছ থেকে ছাড় অর্জনে সক্ষম হবে যুক্তরাষ্ট্র।
চুক্তি-বিরোধিরা অবশ্য
মনে করেন, চুক্তি স্বাক্ষরের মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবধীন রাষ্ট্রে পরিণত
হতে চলেছে ভারত।
তবে দেশটির ক্ষমতাসীন মহলের
দাবী, চুক্তির মধ্য দিয়ে জ্ব্বালানী নিরাপত্তা নিশ্চিত হওয়া ছাড়াও,
আর্ন্তজাতিক অঙ্গনে
ভারতের আসন দৃঢ়তর হবে।
লন্ডনঃ
২৪
জুলাই, ২০০৮ |