|
বাংলাদেশে সরকারের আরেকটি অধ্যাদেশ
বাতিল করেছে হাইকৌর্ট
বাংলাদেশে
সেনা-নিয়ন্ত্রিত তত্বাবধায়ক সরকারের জারী করা আরও একটি অধ্যাদেশ বাতিল ঘোষণা করেছে
দেশটির হাইকৌর্ট।
বৃহস্পতিবার প্রদত্ত এক রায়ে
'আদালত অবমাননা অধ্যাদেশ-২০০৮' অবৈধ ঘোষণা করেছে আদালত।
বিচারপতি এবিএম খায়রুল
হক ও বিচারপতি মোঃ আবু তারিকের হাইকৌর্ট বেঞ্চ থেকে গুরুত্বপূর্ণ এ-রায়টি দেয়া
হয়েছে।
চলতি
বছরের
মে
মাসে
অধ্যাদেশটি
জারী
করা
হয়েছিলো
প্রেসিডেন্টের
পক্ষ
থেকে।
এ-নিয়ে
উচ্চ
আদালত
বর্তমান
সরকারের
জারী
করা
দুটি
অধ্যাদেশ
বাতিল
করল।
এর
আগে
গত
১৩
জুলাই
হাইকৌর্টের
একই
বেঞ্চ
মুসলিম
বিবাহ
ও
তালাক
নিবন্ধন
অধ্যাদেশ
বাতিল
করে।
উল্লেখ্য,
আদালত
জানিয়েছে,
এখতিয়ার
বহির্ভূতভাবেই
অধ্যাদেশটি
জারী
করেছে
সরকার।
নির্বাচন
সংশ্লিষ্ট
বিষয়
ছাড়া
অন্য
কোনো
বিষয়ে
অধ্যাদেশ
জারী
করার
ক্ষমতা
তত্বাবধায়ক
সরকারের
নেই,
এ-বিবেচনায়
হাইকৌর্ট
মুসলিম
বিবাহ
ও
তালাক
নিবন্ধন
অধ্যাদেশের
মতো
আদালত
অবমাননা
অধ্যাদেশও
বাতিল
করেছে
হাইকৌর্ট।
তবে
সরকার
জানিয়েছে
হাইকৌর্ট
প্রদত্ত
রায়টির
বিরুদ্ধে
সহসাই
উচ্চ
আদালতে
অাপীল
করা
হবে।
আপীল
দায়ের
করার
জন্য
ডেপুটী
এটর্নী
জেনারেল
ইদ্রিস
খান
হাইকৌর্ট
থেকে
সনদও
নিয়েছেন।
এ-প্রসঙ্গে
খান
সাংবাদিকদের
বলেন, 'বিষয়টিতে
সাংবিধানিক
প্রশ্ন
জড়িত
রয়েছে।
তাই
সরকার আপীল
করবে।'
অধ্যাদেশটি
বিচার
বিভাগের
সহজাত
ক্ষমতা
ব্যাহত
করার
প্রয়াস
উল্লেখ
করে
রায়ে
বলা
হয়, 'অধ্যাদেশটি
আইনের
শ্রেষ্ঠত্ব
ও
আইনের
শাসন
লঙ্ঘন
করেছে।
তাই
এটি
সাংবিধানিকভাবে
অবৈধ।
তাই
অধ্যাদেশটি
অবৈধ
ও
বাতিল
ঘোষণা
করা
হলো।'
রায়ের
অভিমতে
আদালত
বলেছে,
অধ্যাদেশটি
জরুরী
প্রয়োজন
বা
নির্বাচন
সংক্রান্ত
বলে
প্রতীয়মান
হয়
না।
আগের
আইন
বাতিল
করে
নতুন
এ
অধ্যাদেশটি
জারী
নীতি
নির্ধারনী
সিদ্ধান্তের
মধ্যে
পড়ে।
তাই
অধ্যাদেশটি
সংবিধানের
সঙ্গে
সাংঘর্ষিক।
রায়ে
বলা
হয়েছে,
অধ্যাদেশটি
হাইকৌর্ট
ও
সুপ্রিম কৌর্টকে
সমুন্নত
করার
পরিবর্তে
অবনত
করেছে।
সুপ্রিম
কৌর্ট
সর্বোচ্চ
আদালত।
বিচারপ্রার্থী
যেনো
বিচারের
রায়ের
ফল
ভোগ
করতে
পারে
সেজন্য 'আদালত
অবমাননা'
আইন।
রায়ের
পর
বিচারপ্রার্থী
ফল
ভোগ
করতে
না
পারলে
আইনের
শাসন
ব্যাহত
হবে।
রায়ে
সন্তোষ
প্রকাশ
করে
রিটকারী
এাডভোকেট
তাজুল
ইসলাম
সাংবাদিকদের
বলেন,
'এ
রায়ে
সুপ্রিম
কৌর্টের
মর্যাদা
পুনঃপ্রতিষ্ঠিত
হয়েছে।
আদালতের
সম্মানজনক
অবস্থান
ফিরে
আসবে।
অধ্যাদেশটির-যে
প্রয়োজনীয়তা
ছিলো
না,
তা
রায়ে
প্রমাণিত
হয়েছে।'
গত
২৫
মে
১৯২৬
সালের
আদালত
অবমাননা
আইন
বাতিল
করে
নতুন
আদালত
অবমাননা
অধ্যাদেশ
২০০৮
প্রণয়ন
করা
হয়।
নতুন
জারী
করা
ওই
অধ্যাদেশ
কেনো
সংবিধান
পরিপন্থী
ঘোষণা
করা
হবে
না,
তা
জানতে
চেয়ে
৬
জুলাই
হাইকৌর্টের
এ-বেঞ্চ
সরকারের
প্রতি
স্যুয়োমটো
রুল
জারী
করেছিলো।
সুপ্রিম
কৌর্টের
আইনজীবী
মোঃ
শামসুল
হক
ও
তাজুল
ইসলামের
দায়ের
করা
রিটের
পরিপ্রেক্ষিতে
গত
৮
জুন
বিচারপতি
সৈয়দ
মাহমুদ
হোসেন
ও
বিচারপতি
ফরিদ
আহাম্মদের
হাইকৌর্ট
বেঞ্চ
আদালত
অবমাননা
অধ্যাদেশের
কয়েকটি
ধারা
কেনো
সংবিধান
পরিপন্থী
ও
বাতিল
ঘোষণা
করা
হবে
না, তা
জানতে
চেয়ে
সরকারের
প্রতি
রুলনিশি
জারী
করেছিলো।
দু'টি
রুলের
ওপর
একসঙ্গে
শুনানি
শেষে
বৃহস্পতিবার
হাইকৌর্ট
দু'দিন-ব্যাপী
রায়
দেয়।
রিটকারী
পক্ষে
শুনানিতে
অংশ
নেন
ব্যারিস্টার
আবদুর
রাজ্জাক।
সরকার
পক্ষে
শুনানি
করেন
এটর্নী
জেনারেল
সালাহ্উদ্দিন
আহমেদ।
আদালতের
সহায়তাকারী
হিসেবে
বক্তব্য
রাখেন
ব্যারিস্টার
রফিক
উল
হক,
ব্যারিস্টার
আমীর
উল
ইসলাম,
ডঃ
শাহদীন
মালিক,
আজমালুল
হোসেন
কিউসি,
সাবেক
এাটর্নী
জেনারেল
মাহমুদুল
ইসলাম
ও
ব্যারিস্টার
এএইচএম
শামসুদ্দিন
চৌধুরী।
ঢাকা থেকে
আবদুর রহিম হারমাছি
লন্ডনঃ ২৪
জুলাই, ২০০৮
|