|
নতুন করে ইসরায়লের প্রতি সমর্থন ও ইরানের
প্রতি সতর্কতা ওবামার
এবার
আর নিজের দেশে বসে নয়,
একেবারে ইসরায়েলের
মাটিতে দাঁড়িয়েই ইসরায়েলের পক্ষ বেশ কিছু কথা বলেছেন যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন
প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রার্থী বারাক ওবামা।
এছাড়াও ইসরায়েলকে হুমকি
দেয়া এবং পরমাণু কর্মসূচি না বাতিলে রাজী না হবার কারণে ইরানের উদ্দেশ্যে কড়া
সতর্কতা ব্যক্ত করেছেন তিনি।
জুনের তৃতীয় সপ্তাহে
দলীয় মনোনয়নের লড়াইয়ে হিলারী ক্লিন্টনকে হারিয়ে দেয়ার পর থেকে একাধিকবার ইসরায়েলের
পক্ষে সমর্থন ব্যক্ত করলেন ওবামা।
বুধবার
জেরুজালেমে দেয়া এক বৃক্ততায় ওবামা জানান,
আক্রান্ত হলে আত্মরক্ষার
অধিকার ইসরায়েলের অবশ্যই আছে।
এছাড়াও তিনি উল্লেখ
করেন, নিজ-প্রয়োজনেই ফিলিস্তিনীদের সাথে মিলে শান্তির পথ খুঁজে বের করা দরকার
ইসরায়েলের।
শান্তি-প্রক্রিয়ার প্রক্রিয়া
কেমন-তরো হবে, তা নির্দেশ করাটা যুক্তরাষ্ট্রের কাজের মধ্যে পড়ে না বলে জানান তিনি।
ওবামা বুধবার দিন আবারও
উল্লেখ করেন যে,
জেরুজালেম হবে ইসরায়েলের
রাজধানী,
তবে এ-সিদ্ধান্ত গৃহীত হবার
ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে জড়িত করতে হবে।
উল্লেখ্য,
মনোনয়ন লাভের পর-পর
সিনেটে দেয়া এক ভাষণে ফিলিস্তিনীদের অধিকার কথা উল্লেখ না করেই জেরুজালেমের উপরে
ইসরায়েলের অধিকারের কথা বলে তুমুল সমালোচিত হয়েছিলেন ওবামা।
পরিস্থিতি বেগতিক দেখে
পরে ওবামা দাবী করেন,
তার বক্তব্যের ভুল
ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
বুধবার অবশ্য পূর্বের
বক্তব্যের হুবহু পুনরাবৃত্তি করেননি তিনি।
তবে কোনো ব্যাখা দেয়া
ছাড়া ওবামা বুধবার দিন আবারও বলেন,
'আমি বলে চলেছি যে,
জেরুজালেম হবে ইসরায়েলের
রাজধানী।
আমি আরও বলেছি,
আমরা যেনো শহরটিকে শুধুই
কেটে টুকরো করে না দিই সেদিকে নজর রাখাটাও জরুরী।'
উল্লেখ্য,
জেরুজালেমের উপরে অধিকার
প্রতিষ্ঠার ব্যাপারটি ফিলিস্তিনীদের দাবীমালার অন্যতম।
গাজা
সীমান্তবর্তী ইসরায়েলের স্দেরত
শহরে দেয়া অপর ভাষণে ওবামা ইরানের নাম উল্লেখ করে বলেন,
'ইসরায়েল রাষ্ট্র এমন
শত্রুর মুখোমুখি হয়ে আছে,
যে কি-না তাকে ধ্বংস করে
ফেলতে চায়।'
তবে এ-ব্যাপারে অভয় দিয়ে
তিনি আরও বলেন, 'কিন্তু
ইসরায়েলের এমন এক বন্ধু আছে যার নাম যুক্তরাষ্ট্র,
যে সবসময় ইসরাইলী জনগণের
পক্ষে থাকবে।'
ওবামার স্দেরত শহর
ভ্রমণকে ইসরায়েলীদের প্রতি সমর্থন প্রমাণের ক্ষেত্রে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ হিসাবে মনে
করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, গত চার বছরে এ-শহরের
উপর গাজা থেকে ২ হাজারের অধিক রকেট নিক্ষেপ করেছে হামাস।
ওবামার এহেন সফরকে
যুক্তরাষ্ট্রের জায়নবাদী লবির মন পাবার চেষ্টা হিসাবেই চিহ্নিত করছেন অনেক বিশ্লেষক।
মাস চারেক আগে স্দেরত
ঘুরে গিয়েছিলেন গিয়েছিলেন ওবামার প্রতিদ্বন্দ্বী রিপাবলিকান পার্টির প্রার্থী জন
ম্যাককেইন।
স্দেরতের বৃক্ততায় ইরানের পরমাণু কর্মসূচির প্রতিও হুঁশিয়ারী ব্যক্ত করেন ওবামা।
তিনি বলেন,
'পরমাণু শক্তিধর ইরান
হবে একটি ভয়াবহ হুমকি।'
বিশ্ব সম্প্রদায়কে ইরানের পরমাণু অস্ত্রধারী হয়ে ওঠা ঠেকাতে হবে বলে মন্তব্য করেছে
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী।
এ-ব্যাপারটি নিশ্চিত
করার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র কোনো উপায়কেই পরিতাজ্য বিবেচনা করছে না।
এতোদিন পর্যন্ত ওবামা
ইরান সঙ্কট নিরসনে কূটনীতির উপরে জোর দেয়ার কথা বললেও বুধবার জানান, দেশটিকে
'বড়ো
গাজর'
ও
'বড়ো
লাঠি'র
মধ্যে একটি বেছে নিতে হবে।
'বড়ো
গাজর'
বলতে স্পষ্টতঃ পরমাণু কর্মসূচি
ত্যাগের বিনিময়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত প্যাকেজের কথা
বুঝিয়েছেন।
আর
'বড়
লাঠি'
বলতে ওবামা-যে প্রয়োজন মনে করলে
ইরানের বিরুদ্ধে বল প্রয়োগের কথা বুঝিয়েছেন তা বুঝতে কারও কোনো অসুবিধা হচ্ছে না।
ওবামার এ-অবস্থানটিকে
স্পষ্টতঃ জর্জ বুশের ইরান সংক্রান্ত প্রকাশ্য কথাবার্তার সাথে তুলনা করা যাচ্ছে।
বুধবার
ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী এহুদ বারাকের সাথে সকালের নাস্তা-কালীন বৈঠক ছাড়াও,
পশ্চিম তীরের রামাল্লাতে
গিয়ে ফিলিস্তিনী প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের সাথে আলাপ-আলোচনা করেন বারাক ওবামা।
এ-সময় আরও হাজির ছিলেন
ফিলিস্তিনের প্রধানমন্ত্রী সালাম ফায়েদ।
লন্ডনঃ ২৩
জুলাই, ২০০৮ |