|
ব্রিটেইনে ম্যারেইজ ভিসার জন্য স্পন্সরের বয়স হবে কমপক্ষে একুশ
এখন
থেকে কোনো ব্রিটিশ নাগরিক যদি কোনো ম্যারেইজ ভিসার স্পন্সর হতে চায়, তাহলে তার বয়স
কমপক্ষে একুশ হতে হবে।
এতোদিন পর্যন্ত
এ-বয়ঃসীমা ছিলো আঠারো।
বুধবার হৌম অফিস থেকে
জানানো হয়েছে নতুন এ-তথ্য।
বুধবার কর্তৃপক্ষ
জানিয়েছে, স্পন্সরের বয়ঃসীমা বৃদ্ধির মধ্যে দিয়ে ফৌর্সড ম্যারেইজ প্রথার বিরুদ্ধে
কার্যকর লড়াই করা সম্ভব হবে।
হৌম অফিসের তথ্যের বরাতে
জানা যাচ্ছে,
ফৌর্সড ম্যারেইজের শিকার হওয়া
যতো ব্যক্তিকে নিয়ে ফৌর্সড ম্যারেইজ ইউনিট কাজ করতে হয়, তার মধ্যে ৩০ শতাংশেরই বয়স
আঠারো থেকে একুশের ভিতরে।
স্পন্সরের বয়ঃসীমা
বৃদ্ধি করা ছাড়াও ফৌর্সড ম্যারেইজের প্রকোপ ঠেকাতে আরও কয়েকটি পদক্ষেপের ঘোষণা
দিয়েছে হৌম অফিস।
ব্রিটিশ সরকার উপরোক্ত সমস্যা
ঠেকাতে নতুন যে-সব পদক্ষেপ গ্রহণের ঘোষণা দিয়েছে সেগুলো নিম্নরূপঃ
(১)
ম্যারেইজ ভিসার জন্য স্পন্সর হতে আগ্রহী ব্যক্তির বয়ঃসীমা এখন থেকে আঠারোর পরিবর্তে
একুশ বছর হতে হবে।
উল্লেখ্য,
নিয়মানুসারে একজন
ব্রিটিশ নাগরিক বা স্থায়ীবাসের অনুমিত প্রাপ্ত ব্যক্তির (পারমেন্ট রেসিডেন্ট)
স্পাউস ম্যারেইজ ভিসার অধীনে ব্রিটেইনে আসতে পারেন।
এজন্য অবশ্য ব্রিটিশ
নাগরিক বা স্থায়ীবাসের অনুমিত প্রাপ্ত ব্যক্তিটিকে স্পাউসের স্পন্সর হতে হবে।
এ-আইনের ফাঁক গলে
ব্রিটেইনে বিশেষতঃ দক্ষিণ এশীয় সম্প্রদায়ের ভিতরে অনেক সময় ফৌর্সড ম্যারেইজ সংঘটিত
হয় বলে অভিযোগ আছে।
কর্তৃপক্ষ মনে করছে,
স্পন্সরের বয়ঃসীমা বাড়ানো হলে ফৌসর্ড ম্যারেইজ সংখ্যা কমে যাবার সমূহ সম্ভাবনা আছে।
এক্ষেত্রে,
আঠারো বছরের তুলনায় একুশ
বছরের একজন ব্যক্তি কাকে বিয়ে করবে না করবে, সে-ব্যাপারে অধিক স্বাধীন এবং
ব্যক্তিগত মতামত প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে অধিক সক্ষম হয় বলে ধরে নেয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য,
ব্রিটেইনে দক্ষিণ এশীয়
সম্প্রদায়ের ভিতরে কখনও-কখনও ফৌর্সড ম্যারেইজ সংঘটিত হবার প্রমাণ পাওয়া গেছে
বিভিন্ন সময়ে।
অভিযোগ আছে যে, অভিভাবকদের
চাপের মুখে ব্রিটেইনে জন্ম নেয়া ও বেড়ে ওঠা ছেলে-মেয়েদের কেউ-কেউ ভিনদেশের
ছেলে-মেয়েদের সাথে বিয়ে-বন্ধনে আবদ্ধ হতে বাধ্য হয়।
এক্ষেত্রে সাধারণত দেখা
যায় ভিনদেশী পাত্র-পাত্রীটি ব্রিটিশ-অভিবাসী অভিভাবকটির জন্মস্থানের মানুষ হয়ে
থাকেন।
বেশির ভাগ ক্ষেত্রে ভিনদেশের
পাত্র-পাত্রীটি অভিভাবকদের রক্ত-সম্পর্কের আত্মীয় হলেও,
ফৌর্সড ম্যারেইজের সাথে
বিপুল অঙ্কের অর্থ জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেছে বিভিন্ন সময়ে।
(২)
অন্যদেশ থেকে ম্যারেইজ ভিসার অধীনে ব্রিটেইনে আসতে ইচ্ছুক স্পাউসটিকে ব্রিটেইনে
আসার আগেই ইংরেজি শিক্ষার ব্যাপারে কর্তৃপক্ষে সাথে বুঝাপড়ায় আসতে হবে।
ব্রিটিশ জীবন-ধারার
অঙ্গীভূত হবার জন্য এটি প্রয়োজন বলে জানানো হয়েছে।
ব্রিটেইনে আসার পরে
স্পাউসটি পূর্ব-অঙ্গীকার রক্ষা করছে কি-না, তা পরীক্ষা করবে ইউনাইটেড কিংডম বৌর্ডার
এজেন্সী।
যদি দেখা যায় যে, স্পাউসটি
পূর্বের অঙ্গীকার পালন করছেন না, তাহলে তার ব্রিটেইনে থাকার অনুমতি বাতিলের অধিকার
কর্তৃপক্ষের হাতে থাকবে।
(৩) বিয়ে
সংক্রান্ত সম্পর্কটির অপব্যবহার হয়েছে এমন প্রমাণ পাওয়া গেলে 'লীভ টু রিমেইন'-এর
সুযোগ বাতিল করার ক্ষমতা থাকবে কর্তৃপক্ষের হাতে।
ব্রিটেইনে আসতে পারা,
আসার সুযোগ করে দেয়া এবং
নাগরিকত্ব পাওয়া বা পাইয়ে দেয়ার মতো অসৎ-উদ্দেশ্য থেকে নামে-মাত্র বিয়ে-শাদী
সম্পন্ন করার কথা অনেক সময় শোনা যায় ব্রিটেইনে।
(৪) যেসব
ব্যক্তি পরবর্তী সময়ে ম্যারেইজ ভিসার স্পন্সর হতে চাইবেন, তাদের প্রত্যেককেই
ব্রিটেইনের বাইরে বিয়ে করতে যাবার আগে কর্তৃপক্ষের কাছে ব্রিটেইনের বাইরে বিয়ে করার
অভিপ্রায়টি রেজিস্টার করে যেতে হবে।
কর্তৃপক্ষ মনে করে,
এ-ব্যবস্থার ফলে একজন
ব্যক্তি জানাতে পারবেন যে, ভিনদেশে যেয়ে তিনি বিয়ে করতে যাচ্ছেন।
এছাড়াও কার সাথে বিয়ে
হচ্ছে না হচ্ছে, সে-ব্যাপারেও পাত্র বা পাত্রীটির আগাম ধারণা থাকবে।
উল্লেখ্য,
অনেক সময় অভিযোগ পাওয়া
যায় যে, অভিভাবকরা বেড়াতে নিয়ে যাবার পরে চাপের মুখে বা আবেগী প্রক্রিয়া ব্যবহার
করে ছেলে-মেয়েদেরকে ভিনদেশী (সাধারণতঃ অভিভাবকের আত্মীয়) পাত্র-পাত্রীর সাথে বিয়েতে
বাধ্য করেন।
(৫)
ফৌর্সড ম্যারেইজের শিকার হতে পারে এমন ব্যক্তিদের যাতে বিশেষজ্ঞ দল চিহ্নিত করতে
পারেন, তা 'কৌড অফ প্র্যাকটিসের' মাধ্যমে নিশ্চিত করা হবে।
হৌম
অফিসের নতুন সিদ্ধান্তমালার ব্যাপারে বক্তব্যদান-কালে বুধবার হৌম সেক্রেট্যারী
জ্যাকী স্মিথ বলেন,
'ফৌর্সড
ম্যারেইজের শিকার ব্যক্তিরা বছরের পর বছর ধরে শারীরিক এবং মানসিক নিপীড়ণের শিকার হন।'
কখনও-কখনও অপরাধের শিকার
ব্যক্তিটিকে অবৈধভাবে আটকে রাখা বা ধর্ষণের মতো ঘটনা ঘটে থাকে বলেও জানিয়েছেন স্মিথ।
তিনি আরও বলেন,
'এর
[ফৌর্সড ম্যারেইজের] কোনো স্থান আমাদের সমাজে নেই।'
ফৌর্সড ম্যারেইজ নির্মূল
করা এবং আক্রান্ত ব্যক্তিকে যথাযথ সাহায্য-সহযোগিতা দেয়ার ব্যাপারে কর্তৃপক্ষ
সম্ভাব্য সকল কিছু করতে প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন ব্রিটিশ হৌম সেক্রেট্যারী।
স্পন্সরের বয়ঃসীমা বাড়ানোর সিদ্ধান্তটিকে ফৌর্সড ম্যারেইজ বন্ধের ব্যাপারে সরকারের
দৃঢ় অবস্থানের প্রমাণ হিসাবে আখ্যায়িত করেছে হৌম অফিস।
ইমিগ্রেশন মিনিস্টার
লিয়ান ব্রাইন নতুন সিদ্ধান্ত প্রসঙ্গে জানান,
'যাকে খুশী তাকে বিয়ে
করার অধিকার ব্রিটিশ নাগরিকদের আছে।
কিন্তু কর্তৃপক্ষ দেখতে
চায় নবাগতরা ব্রিটেইনে এসে সাফল্যের পরিচয় দিচ্ছে এবং সাধারণ মানের সাথে নিজেদের
মিলিয়ে নিতে পারছে।'
হৌম
অফিসের দেয়া তথ্যমতে কর্তৃপক্ষ বছরে গড়ে ফৌর্সড ম্যারেইজ বা ফৌর্সড ম্যারেইজের
ঝুঁকি সংক্রান্ত আনুমানিক ৫ হাজারটি অনুসন্ধান ও ৪ শত মামলা পরিচালনা করে।
২০০৭ সালে ব্রিটেইনের
ফৌর্সড ম্যারেইজ ইউনিট ২১৫টি ওভারসীজ ফৌর্সড ম্যারেইজের ঘটনার ব্যাপারে যুক্ত হয়েছে।
লন্ডনঃ ২৩
জুলাই, ২০০৮ |