|
নিজেই আত্মপক্ষ সমর্থন করবেন
কারাদজিকঃ অজানা কাহিনী প্রকাশ
গত
শতাব্দীর শেষ দশকে বসনিয়া হারজেগোভিনাতে বসনিকদের (বসনীয় মুসলিম) উপরে গণহত্যা
পরিচালনা-সহ যুদ্ধাপরাধের দায়ে অভিযুক্ত রাদোভান কারাদজিক নিজেই নিজের পক্ষ সমর্থন
করবেন হল্যান্ডের দ্য হেইগ শহরের ওয়ার ক্রাইমস ট্রাইব্যুনালে।
বুধবার কারাদকিজের
আইনজীবী জানিয়েছেন এ-তথ্য।
এ-সপ্তাহের মধ্যেই
কারাদজিককে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হবে বলে জানিয়েছে সার্বিয়া কর্তৃপক্ষ।
বারো বছর আত্মগোপন করে
থাকার পরে সোমবার সার্বিয়ার রাজধানী বেলগ্রেইডে উপকন্ঠ থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে
কারদাজিককে।
বুধবার বিভিন্ন মিডিয়াতে
কারদাজিকের আত্মগোপনকালীন একযুগের বিভিন্ন কাহিনী প্রকাশিত হয়েছে।
বুধবার
বার্তা-সংস্থার সাথে আলাপ-কালে কারাদজিকের আইনজীবী স্ভেতা ভুজাকিক বলেন,
'সার্বিয়াতে তার
[কারাদজিক] জন্য একদল আইনজীবী দাঁড়াবেন।
কিন্তু দ্য হেইগে বিচার
চলাকালে তিনি আইনজীবী ছাড়াই আত্মপক্ষ সমর্থন করবেন।'
'ঈশ্বরের
করুণাত' কারাদজিক বিচারে জয়লাভ করবেন বলে দাবী করেছেন
ভূজাকিক
।
সার্ব-কর্তৃপক্ষের দেয়া
গ্রেফতারের দিন-তারিখের সাথেও দ্বিমত প্রদর্শন করেছেন কারাদজিকের আইনজীবী।
সার্ব-কর্তৃপক্ষ
কারাদজিককে সোমবার গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে।
কিন্তু ভূজাকিক জানিয়েছেন
তার মক্কেলকে গ্রেফতার করা হয়েছে শুক্রবার।
আইনজীবীটি জানিয়েছেন,
বর্তমানে বেলগ্রেইডের
কারাগারে অবস্থানরত কারাদজিক শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ আছেন,
তবে এখন পর্যন্ত তিনি
তদন্তকারী কর্মকর্তাদের কোনো প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছেন না।
ভূজাকিক বলেন,
'নীরবতার মধ্য দিয়েই
আত্মপক্ষ সমর্থন করছেন তিনি [কারাদজিক]।'
এদিকে
রাদোভান কারাদজিকের ভাই লুকা কারাদজিকের সংবাদ-মাধ্যমের সাথে আলাপে বুধবার জানান,
২০০৯ সালের জানুয়ারীতে
প্রকাশ্য জীবনে ফিরে আসার পরিকল্পনা করছিলেন।
উল্লেখ্য,
আগামী জানুয়ারী থেকে দ্য
হেইগের ট্রাইবুন্যালে নতুন মামলা দায়ের বন্ধ হয়ে যাবার কথা।
লুকা আরও বলেন,
'[হেইগে না নিয়ে] একজন
আন্তর্জাতিক বিচারকের উপস্থিতিতে সার্বিয়াতে রেখেই তার বিচার করাটা হবে অধিক নায্য।'
সার্ব
কর্তৃপক্ষ সূত্রে প্রকাশ,
গ্রেফতারের পরে এতোদিন
ধরে আত্মগোপনের জন্য বড়ো করে তোলা কারাদজিকের চুল-দাড়ি ছেঁটে ফেলা হয়েছে।
এর ফলে তার পূর্বের
চেহারা অনেকটাই ফিরে এসেছে।
তবে তাকে আগের তুলনায়
স্বাভাবিকভাবেই কিছু বুড়োটে দেখাচ্ছে।
উল্লেখ্য,
এতোদিন ধরে বেলইগ্রেড
শহরে বসে লম্বা চুল-দাড়ি আর বড়ো চশমার আড়ালে নিজেকে লুকিয়ে রেখে 'অল্টারনেটিভ
মেডিসিনের' ডাক্তার হিসাবে জীবন-যাপন করছিলেন বসনিয়া হারজেগোভিনাতে গণহত্যা চালানোর
দায়ে অভিযুক্ত এ-নেতা।
কারাদজিকের ছদ্মবেশ
এতোটাই নিখুঁত ছিলো যে,
বাড়ীওয়ালা থেকে শুরু করে
আশেপাশের লোকজন কখনও তাকে কোনো রকমের সন্দেহ করেনি।
বুধবার কর্তৃপক্ষ
জানিয়েছেন,
কারাদজিক খোলামেলাভাবেই
বেলগ্রেইড শহরে ঘুরাফেরা করতেন এবং বাড়ী পাশের পাবের তিনি ছিলেন একজন নিয়মিত খদ্দের।
আত্মগোপনের জীবনে তিনি
'অল্টারনেটিভ মেডিসিনের' উপরে সার্বিয়ার বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন সময়ে বৃক্ততা করে
বেড়াতেন বলে জানিয়েছে সার্বিয়ার ব্লিক পত্রিকা।
দৈনিকটি আরও জানিয়েছে,
সাদা চুল-দাড়িতে আচ্ছাদিত কারাদজিককে অনেকে ভারতীয় কোনো গুরু মনে করতো।
আত্মগোপন-কালীন জীবনে কারাদজিকের একজন গার্লফ্রেন্ড ছিলো বলেও জানানো হয়েছে
সার্বিয়ার একাধিক সংবাদ-মাধ্যমে।
তথ্য-মতে,
মিলা নামের
গার্লফ্রেন্ডটি প্রায় সর্বক্ষণ কারদাজিকের সাথে অবস্থান করতেন।
তার এক দৌহিত্রের
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করার খবর দেয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য,
আত্মগোপন-কালীন জীবনে
দ্রাগান দাবিক নাম ধারণ করেছিলেন কারাদজিক।
কারাদজিকের ওয়েবসাইট বানানোর জন্য বেলগ্রেইডের ফ্ল্যাটে
যাওয়া জোরান প্যাবলোভিচ
জানিয়েছেন ঘরে দেয়ালে তিনি মার্কিন বাস্কেট-বল টীম এলএ লেকার্সের জার্সী পরিহিত চার
তরুণের ফটৌ দেখতে পেয়েছিলেন।
কারদাজিক এদেরকে তার
দৌহিত্র হিসাবে পরিচয় দিয়েছিলেন।
বাড়ীর পাশের পাব মালিক
মিস্কো কোভিজানিক বুধবার সাংবাদিকদের জানান,
কারাদজিক নিয়মিতভাবে তার দোকানে আসতেন।
কারাদজিকের গ্রেফতারের খবরে ব্যথিত হয়েছেন বলেও জানিয়েছেন
কোভিজানিক।
এদিকে
কারদজিকের গ্রেফতারকে ঘিরে সার্বিয়াতে রাজনৈতিক অস্থিরতার আলমত টের পাওয়া যাচ্ছে।
সার্বিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী
ভোজিস্লাভ কোস্তুনিকা
এর পক্ষ থেকে কারাদজিকের গ্রেফতারে ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়েছে।
এ-নেতা গত মে মাসের
নির্বাচনে পরাজিত হয়ে ক্ষমতা ছেড়েছেন।
অভিযোগ আছে যে,
ক্ষমতায় থাকা-কালে
কারদাজিককে গ্রেফতারের কোনো উদ্যোগ নেননি তিনি।
বুধবার সার্ব
জাতীয়তাবাদীরা কারাদজিকের গ্রেফতারের প্রতিবাদে রাস্তায় নেমে পুলিশের সাথে সংঘাতে
লিপ্ত হচ্ছে।
তারা ক্ষমতাসীন সরকারের
'বিশ্বাসঘাতক' আখ্যায়িত করে স্লৌগান দেয়।
সার্ব জাতীয়তাবাদীদের
অভিযোগ, পাশ্চাত্যের চাপের মুখে বর্তমান সরকার কারাদজিককে গ্রেফতার করেছে।
শোনা যাচ্ছে, ইউরৌপীয়ান
ইউনিয়নের সদস্যত্ব পাবার জন্য কারাদজিককে গ্রেফতার করার শর্ত দেয়া হয়েছিলো সার্বিয়া
সরকারকে।
উল্লেখ্য,
১৯৯২ থেকে ১৯৯৫ সালের
ভিতরে বসনিয়া-হারজেগোভিনাতে জাতিগত সংঘাত চলাকালে কমপক্ষে ৮ হাজার বসনীয় মুসলিম
হত্যার দায়ে কারাদাজিককে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের
পরে ইউরৌপের মাটিতে এতো বড়ো গণহত্যা আর কখনও সংঘটিত হয়নি।
লন্ডনঃ ২৩
জুলাই, ২০০৮ |