|
আস্থা-ভৌট জিতে নিয়েছে মনমোহনের
সরকারঃ লোকসভায় লঙ্কাকাণ্ড
মঙ্গলবার
সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত লোকসভার আস্থা-ভৌট জিতে নিয়েছে ভারতে ক্ষমতাসীন কংগ্রেস পার্টির
নেতৃত্বাধীন ইউপিএ সরকার।
এর আগে অবশ্য দিনব্যাপী
তুমুল হৈ-হট্টগোল,
বিরোধীদের পক্ষ থেকে সরকারের
বিরুদ্ধে ঘুষদানের অভিযোগ উত্থাপন আর প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবীকে কেন্দ্র করে
অরাজক পরিস্থিতি তৈরী হয়ে লোকসভাতে।
সরকার পক্ষ জানিয়েছে,
আস্থা-ভৌটে জয়লাভের মধ্য
দিয়ে আর্ন্তজাতিক অঙ্গনে ভারতের অবস্থান শক্ত হবে।
এদিকে,
বিরোধীরা জানিয়েছে,
'অনৈতিক'
পন্থা অবলম্বন করে ভৌট
জিতেছে সরকার।
উল্লেখ্য,
যুক্তরাষ্ট্রের সাথে
বিতর্কিত পরমাণু চুক্তি সাক্ষরে মরীয়া মনমোহন সিংহের সরকারের উপর থেকে বামপন্থীরা
সমর্থন প্রত্যাহার নেয়ার ফলশ্রুতিতে মঙ্গলবারের আস্থা-ভৌটটি অনুষ্ঠিত হয়।
জানা
গেছে,
লোকসভার আস্থা-ভৌটে সরকারের
পক্ষে ২৭৫টি এবং সরকারের বিরুদ্ধে ২৫৬টি ভৌট পড়ে।
এছাড়া ১০ জন সাংসদ
ভৌটদানে বিরত থাকেন।
১৯ ভৌটে জয়লাভের ঘটনাকে
'প্রত্যয়পূর্ণ
এক বিজয়'
হিসাবে আখ্যায়িত করেছেন মনমোহন
সিংহ।
উল্লেখ্য,
সোমবারের জরীপগুলোতে
কয়েক ভৌটের ব্যবধানে জয়-পরাজয় নির্ধারিত হবার কথা বলা হয়েছিলো।
ভৌটের পরে নয়াদিল্লীর
পার্লামেন্ট ভবনের সামনে সাংবাদিকদের সাথে আলাপ-কালে মনমোহন আরও দাবী করেন,
‘এ-বিজয়ের ভিতর দিয়ে
প্রমাণিত হয়েছে যে,
বিশ্বসভাতে সঠিক স্থান বুঝে
নেয়ার ব্যাপারে ভারত প্রস্তুত আছে।‘
মনমোহনের
পক্ষ থেকে আস্থা-ভৌটে জয়ের মাধ্যমে আর্ন্তজাতিক অঙ্গনে ভারতের স্থান মজবুত হবার কথা
বলা হলেও,
তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করা
হচ্ছে বিরোধীদের পক্ষ থেকে।
কমিউনিস্ট পার্টি অফ
ইন্ডিয়া (মার্কসিস্ট) এর পক্ষ থেকে ইউপিএর বিজয়কে গণতন্ত্রের জন্য
'একটি
কালো দিবস'
হিসাবে আখ্যায়িত করা হয়েছে।
অন্যদিকে,
হিন্দুত্ববাদী বিজেপির
দাবীমতে মনমোহনের সরকার একটি
'দুর্নীতিগ্রস্ত
বিজয়'
অর্জন করেছে।
বহুজন সমাজবাদীর পক্ষ
থেকে অবশ্য আস্থা-ভৌটের ফলের জন্য ইউপিএ ছাড়াও বিজেপির নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোটকেও
দায়ী করা হয়েছে।
উল্লেখ্য,
গত কয়েকদিন ধরেই ভারতের
বাম-ডান শিবির থেকেই সরকারের বিরুদ্ধে ভৌটের জেতার লক্ষ্যে
'অনৈতিক'
কার্যকলাপের আশ্রয় নেয়ার
অভিযোগ আনা হচ্ছিলো।
সংবাদ-মাধ্যমগুলো জানিয়েছে,
মঙ্গলবার লোকসভার
অধিবেশনের শুরু থেকে ঘটতে থাকে একের পর এক নাটকীয় ঘটনা।
অধিবেশনের এক-পর্যায়ে
বিজেপির তিন সাংসদ ৩০ মিলিয়ন রুপীর বান্ডিল-সহ লোকসভা কক্ষে হাজির হন।
তাদের দাবী,
আস্থা-ভৌটে সরকারের
পক্ষে দাঁড়ানোর জন্যে এ-অর্থ দেয়া হয়েছে।
বিজেপির পক্ষ থেকে
মনমোহনের পদত্যাগের দাবীতে তুমুল শোরগোল শুরু করা হয় এ-সময়।
উল্টোদিকে,
রুপীর বান্ডিল নিয়ে
লোকসভায় ঢোকা বিজেপি সাংসদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য জোর দাবী জানানো শুরু হয়
সরকার পক্ষ থেকে।
ঘুষ বিষয়ক বিতন্ডার পরিণতিতে
একাধিকবার লোকসভার অধিবেশন বিঘ্নিত হয়।
এ-সময় লোকসভার ভিতরেই
সরকারী ও বিরোধী সাংসদরা পরস্পর-বিরোধী শ্লোগান দিতে থাকেন।
স্পীকার
সোমনাথ ব্যানার্জি বারবার চেষ্টা করেও লোকসভার পরিবেশ রক্ষায় ব্যর্থ হয়ে অধিবেশন
স্থগিত ঘোষণা করে।
পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত
হলে আবার অধিবেশন শুরু হয়।
এভাবে কয়েকবার অধিবেশন
স্থগিত ও চালু করার পর সন্ধ্যে সাড়ে সাতটার দিকে ভৌট অনুষ্ঠিত হয়।
মঙ্গলবার ভারতের লোকসভার
পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায়,
যে টিভি-চ্যানেলগুলো এক
পর্যায়ে সরাসরি সম্প্রচার বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়।
সম্প্রচার বন্ধ থাকা
সময়টুকুতে একটি টিভি-চ্যানেলে মাদার তেরেসার ফটৌ প্রদর্শিত হতে থাকে।
এদিকে
মার্কিন যুক্তরাষেট্রর বুশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে মনমোহন সিংহের আস্থা ভৌটের বিজয়ে
¯^w¯Í
প্রকাশ করা হয়েছে।
ভারতে বিপুল বিরোধিতা সত্ত্বেও আস্থা ভৌটে মনমোহন সিংহের অবস্থান সংরক্ষণকে প্রসংশা
করে ওয়াইট হাউসের
মুখপাত্র ডানা পেরিনো বলেন, 'স্পষ্টতঃ ভারতের রাজনীতিতে সামাল দেয়া কঠিন কাজ,
কিন্তু তিনি [মনমোহন সিংহ] অবস্থান
ধরে রেখেছেন এবং একটি ঐক্যমত গড়ে তোলার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।' পেরিনো বলেন,
'সমর্থন ওখানকার [ভারতের] চেয়ে এখানে [যুক্তরাষ্ট্রে] বেশি, কিন্তু আমি জানি প্রধান
মন্ত্রী সিংহ এর উপরে কাজ করে যাচ্ছেন এবং তিনি খুব আস্থশীল।'
পর্যবেক্ষকদের ধারণা,
আস্থা-ভৌটে জেতার পরে
যুক্তরাষ্ট্রের সাথে ভারতের পরমাণু চুক্তি স্বাক্ষরের পথে জোর কদমে হাঁটা শুরু হবে
এবং সে-সাথে শুরু হবে
আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে ভারতের এক নতুন অধ্যায় যেখান নেহেরু প্রতিষ্ঠিত
নির্জোট আন্দোলনের শ্মশানাগ্নিতে মনমোহন সিংহ পথের দিশা খুঁজবেন।
লন্ডনঃ ২২ জুলাই ২০০৮ |