|
উপজেলা নির্বাচনের দায়িত্ব
নির্বাচিত সরকারেরঃ লন্ডনে শেখ হাসিনা
সেনা-নিয়ন্ত্রিত
তত্ত্বাবধায়ক সরকারের নির্বাচন-নকশার সাথে একমত পোষণ করছেন না বাংলাদেশ আওয়ামী
লীগের
প্রধান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
যুক্তরাজ্য যুবলীগের
উদ্যোগে লন্ডনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ভাষণদান-কালে সোমবার শেখ হাসিনা জানান, উপজেলা
নির্বাচনের দায়িত্ব নির্বাচিত সরকারের।
উল্লেখ্য,
বাংলাদেশে বর্তমানে
ক্ষমতাসীনরা জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে উপজেলা নির্বাচনের ঘোষণা দিয়েছেন।
নির্বাচন
বিষয়ে বক্তব্য
ছাড়াও এক-এগারোর সরকারের দুর্নীতি-বিরোধী অভিযানকে দুর্নীতিবাজ-অনিয়মকারী
রাজনীতিকদের জন্য একটি
'শিক্ষা' হিসাবে আখ্যায়িত করেছেন শেখ হাসিনা,
যা সেনা-নিয়ন্ত্রিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রতি তার অ-নেতিবাচক মনোভাবের পরিচায়ক
বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। উল্লেখ্য, এক-এগারোর পর বাংলাদেশ থেকে আমেরিকা
যাবার আগে ঢাকা বিমান-বন্দরে শেখ হাসিনা সেনা-নিয়ন্ত্রিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের
প্রতি সমর্থন জ্ঞাপন করে নিশ্চিত করেছিলেন যে, তার দল আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় গেলে
তিনি এ-সরকারের সকল কৃত-কর্মকে আইনসিদ্ধতা দিবেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান,
আওয়ামী লীগ-প্রধানের আগমনকে কেন্দ্র করে পূর্ব লন্ডনের ওয়েস্টহ্যাম
আন্ডারগ্রাউন্ডের অদূরবর্তী ইমপ্রেশন ইভেন্টস ভেন্যুতে লোক জমায়েত শুরু হয় বিকেলের
দিক থেকে।
সন্ধ্যা নাগাদ হলটি আওয়ামী লীগ ও
এর অঙ্গ-সংগঠনগুলোর লোকজনে ভরে যায়।
দলের বাইরের বেশ কিছু
মানুষকেও শেখ হাসিনার বক্তব্য শোনার জন্য হাজির থাকতে দেখা যায়।
লন্ডনে অধ্যয়নরত
বাংলাদেশী ছাত্র-ছাত্রীদের অনেকে উপস্থিত হন সোমবারের অনুষ্ঠানটিতে।
আনুমানিক সন্ধ্যে সাড়ে
সাতটার দিকে অনুষ্ঠান-স্থলে আসেন শেখ হাসিনা।
তাকে কাছ থেকে এক-নজর
দেখার জন্য পুরো হলঘর জুড়ে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরী হয়।
এ-সময় অনুষ্ঠানের
আয়োজনকারী যুবলীগের নেতা-কর্মীদের অনুষ্ঠানের পরিবেশ বজায়ে রাখার জন্য গলদ-ঘর্ম হতে
দেখা যায়।
শেখ
হাসিনার তার ভাষণে আগামী ডিসেম্বর মাসের জন্য জাতীয় সংসদ নির্বাচন সম্পন্ন করার
জন্য বাংলাদেশের ক্ষমতাসীন মহলের প্রতি আহবান জানান।
এছাড়াও তিনি উল্লেখ করেন
যে,
উপজেলা নির্বাচন অনুষ্ঠানের
দায়িত্ব একটি নির্বাচিত সরকারের হাতেই থাকা উচিত।
সেনা-নিয়ন্ত্রিত
তত্ত্বাবধায়ক সরকার অবশ্য স্থানীয় নির্বাচনের দায়িত্ব নিজেদের হাতে নিয়ে নিয়েছে।
আওয়ামী লীগ-প্রধান তার
ভাষণে এক-এগারোর সরকারের দুর্নীতি-বিরোধী অভিযানকে বাংলাদেশের
দুর্নীতিবাজ-অনিয়মকারী রাজনীতিকদের জন্য একটি
'শিক্ষা' হিসাবে অভিহিত করেন।
বেআইনীভাবে অর্থ-সম্পদ
অর্জনের চিন্তা-ভাবনা কারও মধ্যে থাকলে, তা বাদ দেয়ার জন্য আহবান জানান সাবেক
প্রধানমন্ত্রী।
শেখ
হাসিনা জানান,
কারাবাসের মাসগুলোতে বাংলাদেশের
উজ্জ্বল ভবিষ্যত কীভাবে বাস্তবায়িত করা যায়, তা নিয়ে বিস্তারিত ভাবনার মতো অবসর
পেয়েছেন তিনি।
আওয়ামীলীগ প্রধান জানান,
আগামী নির্বাচনে বিজয়ী
হতে পারলে,
২০১১ সালের মধ্যে বাংলাদেশের
প্রতিটি ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেয়ার ব্যবস্থা করা হবে।
দেশের গ্যাসের মজুত
নিয়েও সন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি।
সরকার গঠন করতে পারলে
আওয়ামীলীগ ডিগ্রী-ক্লাস পর্যন্ত অবৈতনিক শিক্ষা চালু,
নারীদের জন্য সরকারী
পর্যায়ে ব্যাপক প্রশিক্ষণ ও সহজ-শর্তে ক্ষুদ্র-ঋণ দানের ব্যবস্থা এবং নিরক্ষরতা
দূরীকরণ করবে বলে অঙ্গীকার করেন শেখ হাসিনা।
তিনি আশা প্রকাশ করেন,
২০২১ সালে স্বাধীনতার
সুবর্ণ জয়ন্তীর মধ্যেই বাংলাদেশ একটি সুখী-সমৃদ্ধশালী রাষ্ট্রে পরিণত হবে।
বক্তব্যের এক পর্যায়ে
সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ-প্রধান জানান,
বর্তমান ক্ষমতাসীন মহলের
পক্ষ থেকে তার বিরুদ্ধে যে-সব মামলা দায়ের করা হয়েছে,
সেগুলোর প্রত্যেকটিই
বানোয়াট ও ভিত্তিহীন।
যুক্তরাজ্য যুবলীগ আয়োজিত অনুষ্ঠানটিতে আওয়ামীলীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনগুলোর
নেতা-কর্মীরা ছাড়াও অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট কলামিস্ট আবদুল গাফফার
চৌধুরী,
কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগ নেতা ডঃ
মোহাম্মদ সেলিম,
কমিউনিটি ব্যক্তিত্ব মুশতাক
কোরেশী,
সাংবাদিক আমিনুল হক বাদশা।
এছাড়াও শেখ হাসিনার সাথে ছিলো তার ছোটবোন শেখ রেহানার কন্যা
টিউলিপ।
সোমবারের অনুষ্ঠানের
সূচনাতে যুক্তরাজ্য যুবলীগের সভাপতি আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী অনুষ্ঠানে আগত সকলকে
সংগঠনের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা জানান।
শেখ হাসিনার বক্তব্য-শেষে অনুষ্ঠানে আগত সকলকে নৈশভোজে আপ্যায়িত করে যুবলীগ।
এ-সময় প্রত্যেক টেবিলে
হাসি-মুখে ঘুরে-ঘুরে সকলের খোঁজ-খবর নেন
বাংলাদেশে চিকিৎসার অযোগ্য 'অসুখে' মারাত্মক 'অসুস্থ' এবং সে-কারণে প্যারৌলে
মুক্তি-পাওয়া শেখ হাসিনা।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশে আওয়ামী লীগ শেখ হাসিনার 'স্থায়ী মুক্তি'র আন্দোলন করেছে।
লন্ডনঃ ২২
জুলাই, ২০০৮ |