|
ভারত-রাজনীতিতে
উত্তেজনাঃ মনমোহনের
অগ্নিপরীক্ষা
আস্থা-ভৌটে
মার্কিন
যুক্তরাষ্ট্রের সাথে বিতর্কিত পরমাণু চুক্তি সাক্ষর সংক্রান্ত বিতর্ককে কেন্দ্র করে
ভারতীয় রাজনীতির টানাপোড়েন সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছে গেছে।
বিষয়টিকে কেন্দ্র করে
লোকসভার অকাল অধিবেশন বসেছে সোমবার।
আর চুক্তি স্বাক্ষরের
লক্ষ্যে মরীয়া হয়ে ওঠা কংগ্রেস পার্টির নেতৃত্বাধীন ইউপিএ সরকারের উদ্যোগটির
ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়ার জন্য লোকসভার আস্থা-ভৌট অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে মঙ্গলবার।
ক্ষমতাসীন দলের পক্ষ
থেকে আস্থা-ভৌটে জয়লাভের ব্যাপারে ব্যাপক আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়েছে।
এদিকে উদ্ভূত পরিস্থিতির
সুবাদে ক্ষমতার স্বপ্ন দেখতে শুরু করা হিন্দুত্ববাদী বিজেপির নেতৃত্বাধীন এনডিএ
জোটের পক্ষ থেকেও আস্থা-ভৌটে জয়লাভের আশা প্রকাশ করা হয়েছে।
দীর্ঘ
দিনের টানা-পোড়েনের পরে সম্প্রতি ইউপিএ সরকারের উপর থেকে বামপন্থীরা সমর্থন
প্রত্যাহার করে নেয়ার পরিণতিতে আস্থা-ভৌটের অনিবার্যতা তৈরী হয়েছে লোকসভাতে।
উল্লেখ্য,
চুক্তি বিরোধীরা মনে
করেন, চুক্তি স্বাক্ষরের পরিণতিতে পরমাণু শক্তির ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের
ইচ্ছা-অনিচ্ছার কাছে বাধা পড়বে ভারতের স্বার্থ।
এছাড়াও এ-ধরণের চুক্তির
ফলে ভারতের জোট-নিরপেক্ষ ইমেজের ভরাডুবি হবে বলেও মনে করেন চুক্তি বিরোধীরা।
কিন্তু চুক্তি সাক্ষরের
জন্য মরীয়া হয়ে ওঠা সরকার - বিশেষ করে
প্রধানমন্ত্রী মনমোহন
সিংহ - মনে করেন মার্কিনীদের সাথে চুক্তি করা হলে তা হবে ভারতের পরমাণু-স্বার্থের
অনুকূল।
খবরে
প্রকাশ,
সোমবার বিশেষ অধিবেশনের
প্রথমদিনে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে পরমাণু চুক্তি সাক্ষর সংক্রান্ত সরকারী উদ্যোগ নিয়ে
বিতর্ক অনুষ্ঠিত হয়।
লোকসভায় বক্তব্যদান-কালে
মনমোহন বলেন,
'ভারতের জনগণ-যে আমাদের প্রতি
পুনরায় সমর্থন দান করবেন, সে-ব্যাপারে আমার সন্দেহ নেই।'
এদিকে,
বিভিন্ন জরীপকারী
সংস্থা-সংগঠনের পক্ষ থেকে আস্থা-ভৌটের ফল যে-কোনো দিকে যেতে পারে বলে তথ্য দেয়া
হচ্ছে।
সরকার টিকিয়ে রাখা জন্য সাধারণ
সংখ্যা-গরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারাটাই সরকারের জন্যে যথেষ্ঠ হবে।
কিন্তু বামেরা সরে যাবার
কারণে বর্তমানে লোকসভাতে সরকারের পক্ষের ও বিরোধী পক্ষের সংখ্যা খুবই কাছাকাছি চলে
এসেছে।
এমনকি মঙ্গলবারের ভৌটে
হাতে-গোনা কয়েকটি ভৌটের ব্যবধানে ফলাফল নির্ধারিত হবার সমূহ সম্ভাবনা আছে।
খবর
পাওয়া গেছে,
ভৌটে জেতার জন্য বেপরোয়া হয়ে
ওঠা কংগ্রেস পার্টি,
লোকসভাতে ভৌট দেয়ানোর জন্য
ইতিমধ্যে ৬ জন দাগী এমপিকে বিশেষ ব্যবস্থাধীনে জেলখানা থেকে বের করে এনেছে।
এদের মধ্যে কেউ-কেউ
খুনের দায়ে জেল খাটছেন।
ভারতীয় সংবিধান মোতাবেক
এসব এমপির ভৌট দানের অধিকার থাকলেও,
কংগ্রেসের এহেন উদ্যোগকে
'রাজনৈতিক অনৈতিকতা' হিসাবে আখ্যায়িত করা হচ্ছে বিভিন্ন মহল থেকে।
এছাড়াও বিজেপির
নেতৃত্বাধীন কয়েকজন এমপিকে ভৌট-দান থেকে বিরত রাখার জন্যও কংগ্রেস চেষ্টা চালিয়ে
যাচ্ছে বলে জানা গেছে।
একাধিক সূত্রে প্রকাশ,
শেষ পর্যন্ত জনা দশেক
বিরোধী-এমপিকে ভৌটদান থেকে বিরত রাখায় সক্ষম হবে।
এদের মধ্যে,
পশ্চিমবঙ্গ-ভিত্তিক
তৃণমূল কংগ্রেস নেতা মমতা ব্যানার্জীর নামও শোনা গেছে।
তবে বিজেপি সোমবার
জানিয়েছে,
কংগ্রেস যতো উদ্যোগই নিক না
কেনো, এনডিএর কোনো সদস্যকে ভোট-দান থেকে বিরত রাখার ব্যাপারে সাফল্য আসবে না।
ভৌট যোগাড়ের ব্যাপারে
পিছিয়ে থাকছে না বিজেপিও।
বিভিন্ন অঞ্চল থেকে
অসুস্থ এমপিদের নয়াদিল্লী নিয়ে আসার জন্য বিমানের টিকেটের ব্যবস্থা করা হচ্ছে দলটির
পক্ষ থেকে।
এমনকি অতি-সম্প্রতি
হার্ট-অপারেশন হওয়া একজন এমপিকেও হাসপাতাল থেলে তুলে লোকসভায় নিয়ে আসতে যাচ্ছে
বিজেপি।
আস্থা-ভৌটে সরকার হেরে গেলে,
নিয়ম মোতাবেক ছ'মাসের
মধ্যে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
তবে নয়াদিল্লীর
পর্যবেক্ষকরা সংবাদ-মাধ্যমকে জানিয়েছেন ইউপিএ সরকার আস্থা-ভৌটে হেরে গেলে,
আগামী সেপ্টেম্বর মাসেই
নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবার সমূহ সম্ভাবনা আছে।
লোকসভার মোট আসন সংখ্যা
৫৪১টি।
ভারতের এনডিটিভির এক জরীপে জানা
যায়, সরকার সোমবার পর্যন্ত ২৭১ জন এমপিকে নিজেদের পক্ষে রাখতে পেরেছেন।
পক্ষান্তরে বিরোধীদের
হাতে আছে ২৬৮ জন এমপির সমর্থন।
সিএনএন-আইবিএন এর হিসাবে
অবশ্য সরকার ও বিরোধীদের পক্ষে যথাক্রমে ২৬৯ ও ২৬৮টি ভৌট থাকার কথা বলা হয়েছে।
দ্য টাইমস নাও চ্যানেলের
পক্ষ থেকে উভয়দিকে ২৬৮টি ভৌট থাকার তথ্য দেয়া হয়েছে।
লন্ডনঃ
২১ জুলাই
২০০৮ |