|
বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতের
বিরুদ্ধে স্পেইন-প্রবাসীদের বিক্ষোভ অব্যাহত
স্পেইনে
নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ডঃ মোঃ সাইফুল আমিন খানের বিরুদ্ধে একটানা বিক্ষোভ
চালিয়ে যাচ্ছেন দেশটিতে অবস্থানরত প্রবাসী বাংলাদেশীরা।
আর্থিক অনিয়ম,
আদম-ব্যবসা থেকে শুরু করে
স্বদেশী
লোকজনের সাথে দূর্ব্যবহারের
অভিযোগ এনে গত মাসের শুরুর দিক থেকে ডঃ খানকে অপসারণের দাবী অব্যাহত রেখেছেন
প্রবাসীরা।
স্মরণ করা যেতে পারে, জুন মাসের
আট তারিখে বার্সিলোনাতে একটি অনুষ্ঠানের যোগদান-কালে কয়েকশো প্রবাসীর প্রতিরোধের
মধ্যে পড়েন ডঃ খান।
এর পর থেকেই স্পেইনের
বিভিন্ন স্থানে প্রবাসীরা রাষ্ট্রদূত অপসারণের কর্মসূচি দিয়ে চলেছেন।
গত ১০
তারিখ, 'জাগো বিবেক' নামের একটি সংগঠন মাদ্রিদে এক সাংবাদিক সংবাদের আয়োজন করে
রাষ্ট্রদূতের অপসারণের বাদী জানায়।
সংগঠনের পক্ষ থেকে ৬টি
দূর্নীতি-অনিয়মের অভিযোগ সম্বলিত 'স্পেইন-বাংলাদেশ সম্পর্কের মারাত্মক অবনতির
দায়ভার কার' শিরোনামের একটি লীফলেটও প্রচার করা হয়।
লীফলেটে রাষ্ট্রদূতের
বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলো হচ্ছেঃ (১) আদম ব্যবসা (২) প্রবাসী কল্যাণ তহবিল থেকে
অর্থ আত্মসাৎ (৩) স্পেইন-প্রবাসীদের কাছ থেকে চাঁদা গ্রহণ (৪) মাদ্রিদস্থ বাংলাদেশী
কমিউনিটির সাথে দূর্ব্যবহার ও কমিউনিটিতে বিভেদ সৃষ্টি (৫) সম্প্রতি মাদ্রিদে একটি
অনুষ্ঠান থেকে রাষ্ট্রদূতের আদেশে বাংলাদেশ এসৌসিশনের সভাপতিকে চেয়ার থেকে তুলে
দেয়া (৬) ব্যর্থ কূটনীতির কারণে সাম্প্রতিক সময়ে শতাধিক প্রবাসীর দেশে ফিরে যেতে
বাধ্য হওয়া।
সাংবাদিক সম্মেলন থেকে ডঃ
আমিনের অপসারণের জন্য স্পেইন-সহ ইউরৌপে অবস্থানরত সকল প্রবাসীকে সোচ্চার থাকার
আহবান জানানো হয়।
এছাড়াও তাকে প্রত্যাহার করার
জন্য বাংলাদেশ সরকারকে পনেরো দিনের সময়-সীমা বেঁধে দেয়া হয়।
সংবাদ সম্মেলনটিতে
স্পেইন-প্রবাসী সর্বস্তরের লোকজন বক্তব্য রাখেন।
এদিকে
পূর্ব-ঘোষিত পনেরো দিনের সময়-সীমা শেষ যতোই ঘনিয়ে আসছে, মাদ্রিদের বাংলাদেশী
কমিউনটিতে বর্তমান রাষ্ট্রদূতের বিরুদ্ধে ক্ষোভের মাত্রা ততোই বেড়ে চলেছে বলে মনে
হচ্ছে।
এখন বলতে গেলে নিয়মিতভাবেই
কোনো-না-কোনো স্থানে ডঃ সাইফুল আলম খানের অপসারণের দাবীতে কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
পরিস্থিতি নিয়ে
প্রতিক্রিয়া দান-কালে, শনিবার স্পেইনের বাংলাদেশ এসৌসিয়েশনের সাবেক সভাপতি আব্দুল
মালিক ইউকেবেঙ্গলিকে বলেন, 'রাষ্ট্রদূত দেশ থেকে লোক এনে আদম-ব্যবসা করবেন, আর
দূতাবাসের স্টাফ রাস্তায় কাজ খুঁজে বেড়াবে, এটা আমাদের জন্য চরম লজ্জাকর।'
তিনি আরও বলেন, 'অর্থ
আত্মসাৎকারী দুর্নীতিবাজ এ-রাষ্ট্রদূতকে আমরা প্রতিরোধ করবো।
সরকারকে বলবো তাকে ফেরত
নিয়ে সৎ ও বিবেকবান একজন রাষ্ট্রদূতকে যেনো স্পেইনে নিয়োগ দেয়া হয়।'
কমিউনিটি
নেতা আব্দুল কাইয়ুম বলেন, 'অবিলম্বে এ-দুর্নীতিবাজ রাষ্ট্রদূতকে ফেরত নিতে হবে।
আমরা তাকে আর আমাদের
রাষ্ট্রদূত হিসাবে দেখতে চাই না।'
প্রবাসী মুক্তিযোদ্ধা
রফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, 'বাংলাদেশী কমিউনিটির স্বার্থ নিয়ে চাঁদাবাজ
এ-রাষ্ট্রদূতের কোনো মাথাব্যাথা নেই।'
সাম্প্রতিক সময়ে শতাধিক
স্পেইন-প্রবাসীর দেশ ফেরত যেতে বাধ্য হবার জন্য রাষ্ট্রদূতকে দায়ী করেন তিনি।
রফিকুল ইসলাম আরও জানান
অবিলম্বে বর্তমান রাষ্ট্রদূতকে প্রত্যাহার করা না হলে আনেদালনের বৃহত্তর কর্মসূচি
ঘোষণা করা হবে।
মাদ্রিদ
থেকে ইউকেবেঙ্গলির স্পেইন প্রতিনিধি মিনাজুল আলম মামুন
২০ জুলাই
২০০৮ |