|
জিনিভা বৈঠক নিষ্ফলঃ
পরমাণু
বিষয়ে ইরানকে সতর্কতা যুক্তরাষ্ট্রের
বহুলালোচিত
জিনিভা বৈঠক থেকে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি সংক্রান্ত সঙ্কটের সুরাহার আদৌ কোনো আলো
দেখা যায়নি।
এদিকে
গত কয়েকদিনের সৌহার্দ্যমূলক কথাবার্তার ইতি টেনে ইরানের উদ্দেশ্যে নতুন একদফা হুমকি
জারী করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
ইরানের
পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে আর্ন্তজাতিক সম্প্রদায়ের সাথে বৈঠকটিতে ইরানের পক্ষে অংশ নেন
উক্ত কর্মসূচি বিষয়ক দেশটির প্রধান আলোচক সাঈদ জলিলি।
আর
আর্ন্তজাতিক সম্প্রদায়ের পক্ষে বৈঠকে বসেন ইউরৌপীয়ান ইউনিয়নের ফরেইন পলিসী প্রধান
জেভিয়ার সোলান।
তবে
এ-বৈঠকে সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হিসাবে ছিলেন মার্কিন আন্ডার
সেক্রেট্যারী উইলিয়াম বার্নস।
উল্লেখ্য,
তিন
দশকের মধ্যে প্রথমবারের মতো শনিবার সামনা-সামনি বসেছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র।
পরমাণু
কর্মসূচি বিষয়ে ইরানের অবস্থান ও এ-কর্মসূচি বন্ধের বিনিময়ে আর্ন্তজাতিক সম্প্রদায়ে
দেশটিকে যে-সব সুবিধা দিবে,
সে-সব
বিষয় জিনিভা বৈঠকে ঠাঁই পায়।
খবরে
প্রকাশ,
শনিবারের আলাপে পরমাণু কর্মসূচি বন্ধ করে দেয়ার ব্যাপারে কোনো ধরণের সম্মতি পাওয়া
যায়নি ইরানের পক্ষ থেকে।
দেশটি
অবশ্য এ-ধরণের অবস্থানের কথা আগেই জানিয়ে রেখেছিলো।
বৈঠকের
ফল প্রসঙ্গে বক্তব্যদান-কালে সোলানা জানান,
বৈঠকে
যেটুকু অগ্রগতি হয়েছে তা
যথেষ্ট নয় বলে ইঙ্গিত
দিয়েছেন।
তিনি বলেন,
'এটি
একটি গঠনমূলক বৈঠক ছিলো,
কিন্তু
এখনও আমরা [ইরানের কাছ থেকে] আমাদের প্রশ্নের উত্তর পাইনি।'
পরমাণু
কর্মসূচি বন্ধের বিনিময়ে অর্থনৈতিক-প্রযুক্তিগত প্যাকেজ-প্রাপ্তি প্রসঙ্গকে ইরানের
সর্বশেষ অবস্থান বুঝাতে যেয়ে এ-মন্তব্য করেন সোলানা।
তিনি
আরও বলেন,
'বৈঠকে
কিছু অগ্রগতি হয়েছে,
তবে
যতটুকু হয়েছে তা অপর্যাপ্ত।'
পশ্চিমের পক্ষ
থেকে দেয়া সর্বশেষ প্রস্তাবের ব্যাপারে আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে ইরানের কাছ থেকে
জবাব পাবার আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন সোলানা।
ইরানের
উপরে আরও একদফা অবরোধ নেমে আসবে কিনা এ-ব্যাপারে কথা বলেননি ইইউ ফরেন পলিসি প্রধান।
সোলানার
বক্তব্য অনুসারে,
জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে ইরানের বিরুদ্ধে আরও প্রস্তাব উত্থাপন থেকে বিরত থাকার
বিনিময়ে,
দেশটির
কাছ থেকে নতুন সেজ্জট্রিফিউজ স্থাপন ও ইউরেনিয়াম পরিশোধন থেকে বিরত থাকার প্রস্তাব
দেয়া হয়েছিলো।
অন্যতম
বন্ধু রাষ্ট্র রাশিয়ার পক্ষ থেকেও দু'সপ্তাহের
মধ্যে বক্তব্য জানানোর আহবান জানানো হয়েছে ইরানের প্রতি।
এদিকে,
শনিবারের বৈঠকের পর স্পষ্টত ক্ষুব্ধ যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ইরানের বিরুদ্ধে কড়া
সতর্কতা জারী করা হয়েছে।
গত কয়েক
দিন ধরে বুশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে তেহরানের প্রতি দৃশ্যতঃ
নমনীয় আচরণ প্রদর্শন করা হচ্ছিলো।
তেহরানে
মাকিন দূতাবাস খোলা,
দু'দেশের
মধ্যে সরাসরি বিমান চলাচল শুরুর ব্যাপারে কথাবার্তা শোনা যাচ্ছিলো শুক্রবার পর্যন্ত।
কিন্তু
ইরানের অবস্থান স্পষ্ট হয়ে যাবার পরে,
শনিবার
ওয়াশিংটন জানিয়েছে হয় ইরানকে আর্ন্তজাতিক সম্প্রদায়ের প্রস্তাব মেনে নিতে হবে,
নয়তো আরও একদফা
'একঘরে'
হবার
জন্য প্রস্তুত হতে হবে।
এছাড়াও
সম্ভাব্য 'সংঘাতের'
ব্যাপারে প্রস্তুত থাকার জন্য ইরানের উদ্দেশ্যে প্রচ্ছন্ন হুমকি জারী করেছে
যুক্তরাষ্ট্র।
মার্কিন স্টেইট
ডিপার্টমেন্টের বিবৃতি পাঠ-কালে
মুখপাত্র শন ম্যাককৌরম্যাক বলেন,
'আমরা
আশা করি ইরানের জনগণ বুঝতে পারছেন যে,
তাদের নেতৃত্বকে হয় সহযোগিতা - যা
সকলের জন্য সুফল বয়ে আনবে,
অথবা
সংঘাত - যা শুধুই আরও একদফা বিচ্ছিন্নতা
বয়ে আনবে,
এ'দুয়ের
মধ্যে একটিকে বেছে নিতে হবে।'
মুখপাত্রটি জানান,
বৈঠক থেকে একটি বিষয় স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে যে, পরমাণু
কর্মসূচি স্থগিতের ঘোষণার পরই শুধুমাত্র ইরানের সাথে আলোচনায় বসবে যুক্তরাষ্ট্র।
উল্লেখ্য,
এ-ধরণের
বক্তব্য বুশ প্রশাসনের গত সাত বছরের বক্ত্যবেরই প্রতিধ্বনি মাত্র।
মাঝেখানে গত কয়েকটি দিন বুশ প্রশাসনকে একটু নমনীয়ভাবে কথা বলতে দেখা যাচ্ছিলো।
বৈঠকের
ব্যাপারে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে ইরানী পক্ষের প্রধান জলিলি বলেন,
'কিছু
বিষয়ে একমত হওয়া গেছে,
কিছু
বিষয়ে একমত হওয়া যায়নি।'
সঙ্কট
নিরসন সংক্রান্ত চলমান কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে ইরানী কার্পেট বুননের মতো
সময়-সাপেক্ষ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন,
'কখনও-কখনও
প্রক্রিয়াটি মিলিমিটার ধরে অগ্রসর হয়।'
চলমান
প্রক্রিয়ার সর্বশেষ ফলটি সুন্দর হবে বলেও আশা প্রকাশ করেছেন জলিলি।
লন্ডনঃ ১৯ জুলাই, ২০০৮ |