|
ইরাক থেকে ব্যাপক সেনা-প্রত্যাহারের পরিকল্পনা ঘোষণা
ব্রাউনের
ইরাক
থেকে বিরাট
সংখ্যক সেনা-প্রত্যাহার সংক্রান্ত একটি পরিকল্পনা ঘোষণা
করেছে ব্রিটেইন।
দেশটির
প্রধানমন্ত্রী গর্ডন ব্রাউনের শনিবার প্রদত্ত বক্তব্য বাস্তবে পর্যবসিত হলে আগামী
বছরের মধ্যেই এ-ঘটনা ঘটতে পারে।
ইরাক
সফরে থাকা অবস্থায়,
শনিবার
ব্রাউনের ঘোষিত সেনা-প্রত্যাহার
সংক্রান্ত চার দফা রৌড-ম্যাপের বরাতে জানা যাচ্ছে এ-তথ্য।
একদিনের সফরে
ইরাকে অবস্থান-কালে
শনিবার ব্রাউন জানিয়েছেন, অদূর ভবিষ্যতে বসরা বিমান-বন্দরটি
ইরাকী বাহিনীর হাতে ছেড়ে দেয়া হবে।
এ-বিমান-বন্দরটি
বর্তমানে ব্রিটিশ বাহিনীর দায়িত্বে আছে।
এখানে
ব্রিটিশ বাহিনীর প্রধান দপ্তরটিও অবস্থিত।
শনিবার
এখানে দেয়া বক্তব্যে ব্রাউন ব্রিটিশ সেনাদের উদ্দেশ্যে জানান,
বর্তমানে তারা শেষবারের মতো ইরাকে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন।
উল্লেখ্য,
ইরাক ও
যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে মার্কিন সেনা-সংখ্যার আর একদফা
হ্রাস
সংক্রান্ত নতুন একটি ঘোষণা আসার চব্বিশ ঘন্টার মধ্যে ব্রিটেইনের পক্ষ থেকে সেনা
সরিয়ে আনার ঘোষণাটি দেয়া হলো।
তবে
পর্যবেক্ষকদের কেউ-কেউ ব্রাউনের অঙ্গীকার কতটুকু বাস্তবায়িত হবে,
সে-ব্যাপারে অনিশ্চয়তা প্রকাশ করেছেন।
উল্লেখ্য,
গত
অক্টোবরে এক ঘোষণায়
ব্রাউন জানিয়েছিলেন, ইরাকে অবস্থানরত ব্রিটিশ সেনার সংখ্যা
আড়াই হাজারে নামিয়ে নিয়ে আসা হবে।
কিন্তু
দীর্ঘ চলে গেলেও সে-ঘোষণাটি বাস্তবায়িত হয়নি।
সেনা-প্রত্যাহার সংক্রান্ত শনিবারের ঘোষণাটিতেও অস্পষ্টতা তৈরী করেছেন ব্রাউন।
বুশ
প্রশাসনের মতো
তিনিও জানান যে, কতো সেনা সরানো হবে
এবং ঠিক কখন সরানো হবে, এ-সব
ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য দেয়া সম্ভব নয়।
তিনি
বলেন, 'আমি
কোনো
ধরণের অবাস্তব সময়সূচি স্থির করতে যাচ্ছি না।'
তবে
ব্রাউন জানান,
ইরাকের পরিস্থিতির উন্নতি ঘটার কারণেই সেনা-প্রত্যাহারের
ব্যাপারে তিনি দৃঢ় অবস্থান নিতে সক্ষম হচ্ছেন।
ইরাক
থেকে সরে আসার সংক্রান্ত রৌড-ম্যাপটিতে ব্রাউন যে-সমস্ত লক্ষ্য স্থির করেছেন,
সেগুলো হচ্ছঃ (১) ইরাকী পুলিশ ও মিলিটারীর জন্য অধিক প্রশিক্ষণের
ব্যবস্থা,
যাতে-করে
তারা নিরাপত্তার দায়-দায়িত্ব বুঝে নিতে পারে (২) রাজনৈতিক পরিস্থিতির উন্নতি ঘটানোর
লক্ষ্যে এ-বছরের শেষ নাগাদ বা আগামী বছরের সূচনাতে প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচন
সম্পন্ন করা (৩) ইরাকী অর্থনীতির পুনর্গঠন প্রক্রিয়া জোরদার করা।
উল্লেখ্য,
এ-বছর
ইরাকী প্রবৃদ্ধির হার ৭ ভাগ।
গত বছর
এ-হার ছিলো মাত্র ১ ভাগ।
(৪) এমন
একটি অবস্থা তৈরী করা,
যাতে-করে ইরাকীরা বসরা বিমান-বন্দরের দায়-দায়িত্ব বুঝে নিতে
পারে।
জানা গেছে,
সংক্ষিপ্ত সফরটিতে বসরাতে ব্রিটিশ বাহিনীর সদর দফতরে যাবার আগে বাগদাদে কিছু সময়ের
জন্য অবস্থান করেন ব্রাউন।
এ-সময়
তিনি ইরাকের প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রীর সাথে আলাপ করেন।
আরও
জানা যায়,
ইরাকে
সফর-কালে
ব্রাউনের সাথে সাক্ষাত করেছেন মার্কিন বাহিনীর কমান্ডার জেনারেল ডেইভিড প্যাট্রিয়াস।
আগামী
মঙ্গলবার ইরাকের সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়ে হাউস অফ কমন্সে বক্তব্য রাখবেন ব্রাউন।
লন্ডনঃ
১৯ জুলাই, ২০০৮ |