|
বাংলাদেশে উপজেলা নির্বাচন রোখার হুমকি দিয়েছে আওয়ামী লীগ
জাতীয়
সংসদ নির্বাচনের আগে অন্য কোনও নির্বাচন প্রতিহত করার হুমকি দিয়েছে বাংলাদেশের
অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ।
আসন্ন
সিটি ও পৌর-নির্বাচনে
আওয়ামীলীগ অংশ নিলেও দলটি বরাবরই জাতীয় নির্বাচনের আগে উপজেলা নির্বাচনের বিরোধিতা
করে আসছে।
নির্বাচন কমিশন
ডিসেম্বরে জাতীয় নির্বাচনের আগে অক্টোবরে উপজেলা নির্বাচনের
প্রস্তুতি শুরু করেছে।
উল্লেখ্য,
দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ,
ভিজিএফ
ও ভিজিডি কার্ডে সুবিধাভোগীদের সংখ্যা বাড়ানো,
সারাদেশে রেশন ব্যবস্থা চালু এবং শেখ হাসিনার স্থায়ী মুক্তির দাবিতে শনিবার
দেশব্যাপী গণ-অনশন কর্মসূচি পালন করে আওয়ামী লীগ।
সকাল
সোয়া ১১টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত অনশন কর্মসূচি চলে।
কর্মসূচি শেষে ফলের রস খাইয়ে অনশন ভঙ্গ করান জিল্লুর
রহমান।
ধানমণ্ডিতে শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কার্যালয়ে গণ-অনশনে
আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলী,
কার্যনির্বাহী সংসদ ও উপদেষ্টা পরিষদের প্রায় সব সদস্যই অংশ নেন।
কর্মসূচির
সমাপনী বক্তব্যে দলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জিল্লুর রহমান শনিবার বলেছেন,
'জরুরী
অবস্থার মধ্যে আর কোনও নির্বাচন হতে দেবো না।
এমনকি
জাতীয় নির্বাচনের আগে আর কোনও নির্বাচনে আমরা অংশ
নেবো না;
কাউকে
অংশ নিতেও দেবো
না।'
তিনি আরও
বলেন,
'দেশে
নীরব দুর্ভিক্ষ চলছে।
এ-অবস্থায় সবচেয়ে বেশি সাহায্য করতে পারতেন শেখ হাসিনা।
তাকে
নিঃশর্ত মুক্তি না দিলে দেশের মানুষ সহ্য করবে না।'
জাতীয় সংসদ
নির্বাচনের আগে অন্য কোনও নির্বাচন জনগণ মেনে নেবে না,
এ-দাবী করে আওয়ামী
লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আমির হোসেন আমু বলেন, 'জনগণের দাবী
আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠিত করবে।'
সবার কাছে নির্বাচনকে গ্রহণযোগ্য করার জন্য জরুরী
অবস্থা প্রত্যাহারের দাবী জানিয়ে সভাপতিমণ্ডলীর অপর সদস্য
তোফায়েল আহমদ বলেন, 'তত্ত্বাবধায়ক সরকার সম্পূর্ণভাবে
ব্যর্থ হয়েছে।
অনির্বাচিত সরকার বেশি দিন ক্ষমতায় থাকলে কী হয়,
তা
প্রমাণিত হয়েছে।
এ-সরকারের
নীতিনির্ধারকদের কোনও জনসম্পৃক্ততা নেই।
তারা
জনগণের দুঃখ-কষ্ট
বুঝার চেষ্টাও করেন না।'
সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মতিয়া চৌধুরী বলেন,
'তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতায়-থাকাকে প্রলম্বিত
করতেই জরুরী অবস্থা জারী
রাখতে চাচ্ছে।'
তিনি
সরকারের প্রতি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন,
'আগুন নিয়ে খেলবেন না।
এর
পরিণাম ভালো হবে না।'
প্রচার ও
প্রকাশনা সম্পাদক নাট্যব্যক্তিত্ব আসাদুজ্জামান নূর বলেন,
'আমি সারা জীবনে অনেক নাটক করেছি।
কিন্তু,
এখন যে-নাটক
হচ্ছে,
তার
অবসান চাই।'
তিনি নিজ-দলের সিনিয়র নেতাদের উদ্দেশে বলেন,'আপনারা
ভাবুন
- সংলাপ ও আলোচনায় আর যাবেন কিনা?
নির্বাচনে অংশ নেবেন কি-না?
নাকি
ষড়যন্ত্র প্রতিহত করতে আন্দোলনের কর্মসূচি দেবেন।'
সকাল থেকে
সেখানে আরও বক্তব্য রাখেন সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী,
ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মুকুল বোস,
আব্দুল
মান্নান,
অধ্যাপক
আলী আশরাফ,
অবসরপ্রাপ্ত ক্যাপ্টেন এবিএম তাজুল ইসলাম,
এাডভোকেট
সাহারা খাতুন,
আব্দুল
মান্নান খান,
নাজমা
রহমান,
ডাঃ
মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন,
ডাঃ
দীপু মণি,
হাবিবুর
রহমান সিরাজ প্রমুখ।
সকালে অনশন
কর্মসূচি উদ্বোধনের পর আমির হোসেন আমু সাংবাদিকদের বলেন,
'দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে জনগণের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ এবং
সরকারের উদ্যোগহীনতার প্রতি ক্ষোভ জানাতেই আওয়ামী লীগ দেশব্যাপী অনশন কর্মসূচি পালন
করছে।'
তিনি বলেন,
'দ্রব্যমূল্য সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে নিয়ে আসতে হবে এবং
অবিলম্বে শেখ হাসিনাকে স্থায়ীভাবে মুক্তি দিতে হবে।'
তোফায়েল আহমেদ
বলেন,
'দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করতে সরকার ব্যর্থ
হয়েছে।'
সংলাপে
সরকার আওয়ামী লীগকে বিভিন্ন বিষয়ে আশ্বাস দিলেও তারা সে-অবস্থান
থেকে সরে এসেছে বলে অভিযোগ করে তিনি বলেন,
'সংলাপ
তামাশায় পরিণত হয়েছে।'
ধানমন্ডির
কার্যালয়ের বাইরে ছাউনির মধ্যে মহিলা আওয়ামী লীগ ও যুব মহিলা লীগের সদস্যরা অনশনে
অংশ নেন।
বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ-সহ
সহযোগী সংগঠনগুলো অনশন পালন করে।
আওয়ামী লীগের
কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের দোতলায় মহানগর শাখা,
নিচতলায়
নিজ কার্যালয়ে যুবলীগ ও
স্বেচ্ছাসেবক লীগ এবং তিনতলায় হকার্স লীগ কর্মসূচি পালন করে।
ঢাকার
বাইরে সব জেলাতেই স্থানীয় কার্যালয়ে গণঅনশন কর্মসূচি পালিত হয়।
গত ১৩
জুলাই আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর এক সভায় এ কর্মসূচির সিদ্ধান্ত নেয় দলটি।
আওয়ামী
লীগের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী দল বিএনপি কোনও স্থানীয় নির্বাচনেই অংশ নিচ্ছে না।
ইতোমধ্যে তারা এসব নির্বাচন প্রতিহত করার ঘোষণাও দিয়েছে।
ঢাকা থেকে আবদুর রহিম হারমাছি
১৯ জুলাই ২০০৮ |