|
ব্রিটেইনে মক্তবগুলোয়
কম-বয়েসীদের সিটিজেনশিপ পড়াবার সিদ্ধান্ত
'জঙ্গীবাদের'
হাত থেকে দূরে সরিয়ে
রাখার লক্ষ্যে ব্রিটেইনের বিভিন্ন এলাকার মক্তবগুলোতে মুসলিম
শিশু-কিশোর-তরুণ শিক্ষার্থীদের
সিটিজেনশিপ পাঠদানের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
এছাড়াও আধুনিক সময়ের
নিরীখে ইসলাম সংক্রান্ত বিষয়াদি নিরীক্ষা করার লক্ষ্যে একটি স্বাধীন বৌর্ড গঠনের
দায়িত্ব দেয়া হয়েছে কেমব্রিজ
বিশ্ববিদ্যালয়কে।
শুক্রবার প্রকাশিত এক
প্রতিবেদন থেকে জানা যাচ্ছে এ-তথ্য।
সরকারের দাবী মুসলিম
সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে আসা অনুরোধের ভিত্তিতেই মক্তবে সিটিজেনশিপ শিক্ষা দেয়ার
উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
সদ্য-প্রকাশিত, 'প্রিভেনটিং
ভায়োলেন্ট এক্সট্রিমিজমঃ নেক্সট স্টেপস ফর কমিউনিটিজ'
শীর্ষক প্রতিবেদনে
জানানো হয়েছে কম-বয়েসী মুসলিমদের প্রান্তীকৃত অবস্থানে চলে যাওয়া ঠেকানোর লক্ষ্যে
মক্তব্যগুলোতে কোরান
শিক্ষার পাশাপাশি
সিটিজেনশিপ শিক্ষাদানের মত উদ্যোগ চালু হতে যাচ্ছে সামনের সেপ্টেম্বর থেকে।
ইসলামী বিশ্বাস ধারণ
করার সাথে ব্রিটিশ হবার যে কোনো বিরোধ নেই তা প্রদর্শন করাটাই হবে নতুন উদ্যোগের
অন্যতম লক্ষ্য।
নতুন শিক্ষাবর্ষে বিভিন্ন শহরের
মক্তবগুলোতে নতুন পাঠদান শুরু হবে বলে জানা গেছে।
নতুন উদ্যোগটির মধ্য
দিয়ে কমিউনিটি লিডারশিপের উপরে নতুন করে গুরুত্ব আরোপ করা সম্ভব হবে বলেও দাবী করা
হয়েছে সরকারের পক্ষ থেকে।
'জঙ্গীবাদ'
ঠেকাতে মক্তব্যের
পাঠ্যসূচিতে নতুন বিষয় অর্ন্তভূক্ত করা ছাড়াও,
বিশজন
এাকাডেমিক
ও ধর্মতত্ত্ব বিশেষজ্ঞের সমন্বয়ে ইসলাম নিরীক্ষা সংক্রান্ত একটি স্বাধীন বৌর্ড
গঠনের সিদ্ধান্তের খবরও দেয়া হয়েছে সরকারের পক্ষ থেকে।
কেমব্রিজ
বিশ্ববিদ্যালয়ের তত্ত্বাবধানে গঠিতব্য এ-বৌর্ড আধুনিক সময়ের প্রেক্ষাপটে ইসলাম
সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করবেন।
ব্রিটিশ সমাজ ব্যবস্থায়
অঙ্গীভূত হবার ক্ষেত্রে মুসলিম নারীদের নিকাব ব্যবহারের ইতিবাচক বা নেতিবাচক
ভূমিকার মত ব্যাপারগুলো নিয়ে গবেষণা করবে বৌর্ড।
মক্তবের
বিষয়সূচিতে নতুনত্ব প্রসঙ্গে বক্তব্যদান-কালে কমিউনিটি সেক্রেট্যারী হেজেল
ব্লিয়ার্স বলেন, 'সহিংস
উগ্রবাদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর জন্যে আমাদের তরুণ সম্প্রদায়কে যথাযথভাবে শিক্ষিত
করে তোলার ব্যাপারটি নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে আমাদের দায়-দায়িত্ব আছে।'
তিনি আরও উল্লেখ করেন
ব্রিটেইনের সমাজ-ব্যবস্থায় প্রচলিত মূল্যবোধের সাথে মুসলিমদের ধর্মবিশ্বাসের
যে-কোনো বিরোধ নেই এটা বুঝানোর ব্যাপারটিকেও নুতন উদ্যোগের ক্ষেত্রে গুরত্ব দেয়া
হচ্ছে।
জানা
গেছে,
লন্ডন,
লেস্টার,
বার্মিংহ্যাম,
ওল্ডহ্যাম,
রচডেল ও ব্রার্ডফৌডের
মক্তবগুলোর শিক্ষকদেরকে নতুন পাঠক্রম সংক্রান্ত ট্রেনিং দেয়া হবে এবারের গ্রীষেমর
বন্ধে।
স্টেইট ফর চিলড্রেন,
স্কুলস এন্ড ফ্যামেলিস
সেক্রেট্যারী এড বলসের মতে উগ্রবাদীরা দুনিয়াটাকে মোটাদাগে সাদা-কালোতে ভাগ করে এবং
বিরাজমান বিভাজন-পার্থক্যগুলোকে প্রকটতর ভাবে সামনের দিকে টেনে আনে।
এছাড়া উগ্রবাদীরা অজ্ঞতা
ও সংষকারের কারণে গড়ে ওঠা ভীতির আবহকে কাজে লাগায়।
বলস বলেন,
'এটা ঠেকানোর ক্ষেত্রে
শিক্ষা হতে পারে একটি শক্তিশালী অস্ত্র।'
তার মতে,
তরুণ সম্প্রদায়কে
বিভিন্ন সংস্কৃতি ও বিভিন্ন ধর্ম-বিশ্বাসের ব্যাপারে শিক্ষা দেয়া সম্ভব হলে তা
আখেরে পারস্পরিক সম্মাননাবোধ এবং সহনশীলতা বিকাশে সহায়ক হবে।
এর ফলে উগ্রবাদের
বিস্তার ঠেকানো সম্ভব হবে বলেও মত রেখেছেন এড বলস।
লেবার
সরকার জানিয়েছে মক্তবে সিটিজেনশিপ শিক্ষাদান সংক্রান্ত সিদ্ধান্তকে উপরে থেকে
চাপিয়ে দেয়া কোনো পদক্ষেপ হিসাবে দেখার কোনো অবকাশ নেই।
বরং মুসলিম সম্প্রদায়ের
ভিতর থেকে আসার আহবানের ভিত্তিতেই নতুন পদক্ষেপটির ব্যাপারে অগ্রসর হয়েছে কর্তৃপক্ষ।
সরকারী বক্তব্যের
সমর্থনে মুসলিম কাউন্সিল অফ ব্রিটেইনের ইমাম শেখ ইব্রাহিম মগরা বিবিসি রেডিও ফৌরকে
বলেন, 'আমাদের
সন্তানদের শিক্ষাদানের জন্য উন্নততর একটি পন্থার কথা আমাদের ভাবনাতে ছিলো।'
তিনি আরও বলেন,
'আমাদের তরুণদের এটা
বুঝাতে হবে যে, তারা একাধারে গর্বিত মুসলিম এবং গর্বিত ব্রিটিশ তরুণ হতে পারে।'
ইব্রাহিম মনে করেন
কমিউনিটিকে বিচ্ছিন্ন,
নিয়ন্ত্রণ বা পাল্টে
দেয়ার চেষ্টা প্রচ্ছন্ন না থাকলে,
কমিউনিটি শক্তিশালী হয়
এমন যে-কোনো কিছুকে স্বাগত জানানো যায়।
লন্ডনঃ ১৮ জুলাই,
২০০৮ |