|
ইরানে দূতাবাস খুলতে পারে
যুক্তরাষ্ট্রঃ বিদায়ের আগে নমনীয় বুশ
তিন
দশকের মধ্যে প্রথমবারের মত ইরানের সাথে বৈঠকে বসার সিদ্ধান্তের খবর দিতে না দিতেই,
দেশটিতে দূতাবাস খোলার
খবর পাওয়া গেছে যুক্তরাষ্ট্রের তরফ থেকে।
বৃহস্পতিবার লন্ডনের
গার্ডিয়ান পত্রিকার সূত্রে জানা গেছে এ-তথ্য।
পর্যবেক্ষকদের ধারণা
বিদায়ের আগে ইতিবাচক কিছু উদ্যোগের সাথে নিজের নাম জড়ানোর বাসনা থেকেই জর্জ বুশের
প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইরানের সাথে নরম আচরনের রাস্তা অনুসরণ করা শুরু হয়েছে।
উল্লেখ্য,
আগামী শনিবার তিন দশকের
মধ্যে প্রথমবার ইরানের সাথে সংলাপে বসবে যুক্তরাষ্ট্র।
গার্ডিয়ান সূত্রে প্রকাশ,
আগামী মাসেই তেহরানে
একটি ইউএস ইন্টারেস্ট সেকশন খোলার ঘোষণা আসার সমূহ সম্ভাবনা আছে।
ইন্টারেস্ট সেকশন খোলা
হলে ইরানে কূটনীতিক নিয়োগ দেবে যুক্তরাষ্ট্র।
বুশ প্রশাসনের এহেন
সিদ্ধান্তকে পুরো মাত্রার দূতাবাস খোলার প্রথম ধাপ হিসাবে ধরা হচ্ছে।
গত কয়েক সপ্তাহ ধরে কথার
লড়াই আর পেশি শক্তির পারস্পরিক মহড়ার পরে,
যুক্তরাষ্ট্রের তরফ থেকে
ইরান বিষয়ে পর-পর দুটি ইতিবাচক ঘোষণা দেয়া হলো।
উল্লেখ্য,
ইরানের পরমাণু
কর্মসূচিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসনের পক্ষ থেকে গত কিছুদিন ধরে বেশ কড়া
কথাবার্তা হচ্ছিলো।
আর সে-সব কথাবার্তার
সমানে জবাব দিয়ে যাচ্ছিলো ইরান।
এছাড়াও গত সপ্তাহে
ইসরায়েলের ভূমিতে আঘাত হানতে সক্ষম একাধিক মিসাইলেরও পরীক্ষা চালিয়েছেন দেশটি।
পাল্টা জবাব হিসাবে
ব্রিটেইনকে সাথে নিয়ে পারস্য উপসাগরে নৌ-মহড়ার আয়োজন করে যুক্তরাষ্ট্র।
ইরানে
দূতাবাস খোলার ব্যাপারে মার্কিন প্রস্তুতির যে-খবর বেরিয়েছে, তা কতটা বাস্তবে রূপ
নিবে, তার অনেক কিছুই অবশ্য তেহরানের সিদ্ধান্তের উপর নির্ভর করেছে।
অবশ্য গত সপ্তাহে ইরানী
প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমেদিনেজাদ ইঙ্গিত দেন যে, মার্কিন দূতাবাসের ব্যাপারে তার
পক্ষ থেকে কোন আপত্তি নেই।
তিনি জানিয়েছিলেন,
দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উন্নয়নের ব্যাপারে মার্কিনীদের তরফ থেকে কোন প্রস্তাব এলে
ইরান তা ইতিবাচক অবস্থান থেকেই বিবেচনা করবে।
বর্তমানে সুইৎজারল্যান্ড
দূতাবাসের মধ্য দিয়ে ইরানে মার্কিন স্বার্থাদি দেখভাল করা হয়।
অবশ্য এখানে কর্মরত সকল
লোকজনই যুক্তরাষ্ট্রের।
স্মরণ করা যেতে পারে,
১৯৭৯ সালে রেজা শাহ
পাহলভীর রাজত্বের পতনের পরে তেহরানে মার্কিন দূতাবাসে হামলা চালিয়ে কূটনীতিকদের আটক
করা হয়।
এদেরকে ১৯৮১ সাল পর্যন্ত
ইরানীদের হাতে আটক থাকতে হয়।
উল্লেখ্য,
পরমাণু কর্মসূচি
পুরোপুরি বন্ধ করে দেয়ার আগে ইরানের সাথে কথা বলার ব্যাপারে এতদিন পর্যন্ত একেবারেই
রাজী ছিলো না বুশ প্রশাসন।
উল্টোদিকে ইরানের পক্ষ
থেকে সব-সময় বলা হয় পরমাণু কর্মসূচির ব্যাপারে মার্কিনীদের সাথে সরাসরি কথা বলার
ব্যাপারে তারা আগ্রহী।
কিন্তু মার্কিনীরা
সরাসরি আলাপে না বসে ব্রিটেইন,
ফ্রান্স বা জার্মানীকে
সামনে ঠেলে দেয়ার কারণে যুক্তরাষ্ট্রের উপরে নাখোশ ইরান।
খবরে
প্রকাশ,
ইরানের সাথে সম্পর্ক কেমন
হবে-না-হবে, তা নিয়ে বুশ প্রশাসনের ভিতরে গত কিছুদিন ধরে বেশ বাক-বিতণ্ডা চলেছে।
জানা গেছে,
ভাইস প্রেসিডেন্ট ডিক
চেনীর পক্ষ থেকে ইরানের পরমাণু প্রকল্প বন্ধ করার লক্ষ্যে সামরিক হামলা চালানোর
পক্ষে মত দেয়া হয়েছিলো।
পক্ষান্তরে,
স্টেইট ডিপার্টমেন্টের
পক্ষ থেকে ইরানের সাথে কূটনীতিক সম্পর্কের রাস্তায় হাঁটার জন্য বুশের প্রতি বেশ
কিছুদিন ধরে আহবান জানানো হচ্ছিলো।
তবে স্টেইট ডিপার্টমেন্ট
জানিয়েছে, ইরানের সাথে কূটনীতির পথে হাঁটার ব্যাপারটিকে যুক্তরাষ্ট্রের দূর্বলতা
হিসাবে দেখার কোনো অবকাশ নেই।
পর্যবেক্ষকদের কারও-কারও
মতে,
ওয়াইট হাউস থেকে বিদায় নেয়ার
আগে ইতিবাচক কোন পদক্ষেপের সাথে নিজের নাম জড়িত করার বাসনা থেকেই শেষ পর্যন্ত
স্টেইট ডিপার্টমেন্টের বাতলানো পথটিতে সম্মতি দিয়েছেন।
তবে অন্য অনেকের ধারণা,
আসন্ন প্রেসিডেন্ট
নির্বাচনের প্রচারণার ক্ষেত্রে দলীয় প্রার্থী জন ম্যাককেইনের জন্য সহায়ক পরিবেশ
সৃষ্টির তাগিদ থেকেই ইরানের সাথে কূটনীতির পথে হাঁটার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বুশ প্রশাসন।
উল্লেখ্য,
ইরানের সাথে আলোচনায়
বসার যৌক্তিকতার কথা বলে ইতোমধ্যে মানুষজনের মধ্যে বেশ একটা গ্রহণযোগ্য অবস্থান
তৈরীতে সক্ষম হয়েছেন ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রার্থী বারাক ওবামা।
লন্ডনঃ
১৭ জুলাই, ২০০৮ |