|
বাংলাদেশে মুক্তির পালা
অব্যাহতঃ এবার জিয়ার ছোট ছেলে কোকো
বাংলাদেশে
দুর্নীতির দায়ে গ্রেফতার-করা রাজনৈতিক নেতা বা রাজনীতি-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের
মুক্তি-দানের স্রোত অব্যাহত আছে। দেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন
কারাবন্দী খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকো সাময়িক মুক্তি পেয়েছেন।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা
ছয়টায় মুক্তি পেয়ে কোকো বঙ্গবন্ধু মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের প্রিজন সেল
থেকে নিচে নেমে আসেন।
এর আগে বিকেল পাঁচটার
দিকে তাকে বিদেশে চিকিৎসার জন্য দু'মাসের সাময়িক মুক্তির নির্দেশ দেয় সরকার।
এর আগে বিকেলে
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কারা শাখা থেকে জারী করা এক আদেশে আরাফাত রহমান কোকোকে
চিকিৎসার জন্য ১৭ জুলাই থেকে ১৬
সেপ্টেম্বর ২০০৮ পর্যন্ত
সাতটি শর্ত দিয়ে সাময়িক মুক্তির আদেশ দেওয়া হয়।
কোকোকে ধরে টানা তিনদিন
জামাত-বিএনপির লোকজনকে কারাগার থেকে মুক্তি দেয়া হলো।
কোকোর
মুক্তির শর্তগুলো হলো,
তিনি সর্বোচ্চ দু'মাসের
জন্য এ-সুযোগ পাবেন।
চিকিৎসার জন্য বিদেশে
গেলে তিনি বা তার নিকট আত্মীয় তিন দিন পর-পর সেখানকার বাংলাদেশ মিশনকে তার
স্বাস্থ্যে অবস্থা
জানাবেন।
কোকো কোনো রাজনৈতিক,
ব্যবসায়িক বা অন্য কোনো
কর্মকাণ্ডে জড়িত হবেন না।
¯^v¯’¨MZ
বিষয় ছাড়া কোনো কারণে কোনো
সংস্থা বা ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবেন না।
সাময়িক মুক্তির মেয়াদ
শেষ হওয়ার আগে চিকিৎসা শেষ হলে তিনি সরকারকে তা জানাবেন এবং দেশে ফিরে আদালতে
আত্মসমর্পণ করবেন।
কোনো শর্ত ভঙ্গ হলে
সাময়িক মুক্তি-দানের সিদ্ধান্ত বাতিল করা হবে বলেও শর্তে উল্লেখ করা হয়েছে।
সরকার কোনো কারণ দর্শানো
ছাড়াই যে-কোনো সময় মুক্তিদানের এ-সিদ্ধান্ত বাতিল করতে পারবে।
ফৌজদারী
কার্যবিধি ১৮৯৮ এর ৪০০ (৪এ) ধারার ক্ষমতাবলে সরকার এ-সাময়িক মুক্তি প্রদান করেছে
বলে কারা শাখা-২ এর উপ সচিব মোঃ মিজানুর রহমান স্বাক্ষরিত আদেশে উল্লেখ করা হয়।
কোকোর স্ত্রী শারমিনা
রহমান চিকিৎসার জন্য কোকোকে বিদেশে পাঠাতে সরকারের কাছে প্যারোলে মুক্তির আবেদন
করেছিলেন।
স্বরাষ্ট্র
উপদেষ্টা এমএ মতিন বৃহস্পতিবার
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, 'আমরা আমাদের কাজ শেষ করে দিয়েছি।
চিকিৎসার জন্য কোকোকে আট
সপ্তাহের প্যারোলে মুক্তি দেওয়া হয়েছে।'
খালেদা জিয়া ও তার বড়ো ছেলে তারেক রহমানের মুক্তির বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন,
'যথা সময়ে জানতে পারবেন।'
এর আগে বৃহস্পতিবার দুপুরে কোকো বিকেলের মধ্যেই মুক্তি পাচ্ছেন বলে জানান তার একজন
আইনজীবী।
দুর্নীতির মামলায় হাজিরা দেয়া
থেকে কোকোর অব্যাহতি পাওয়ার নথিপত্র
স্বরাষ্ট্র
মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়ার পর
আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়া সাংবাদিকদের বলেন,
'সরকারের নির্বাহী আদেশে
আজ বিকেলের মধ্যেই তাকে মুক্তি দেওয়া হবে।'
কোকোর স্ত্রী শর্মিলা রহমানকে উদ্ধৃত করে সানাউল্লাহ বলেন, 'মুক্তির পর-পরই তার
স্বামীকে চিকিৎসার জন্য ব্যাংকক নিয়ে যাওয়া হবে।
এ-ব্যাপারে প্রয়োজনীয়
অর্থের সংস্থান করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে,
কেনো-না ব্যাংক
এাকাউন্ট
জব্দ রয়েছে।'
খালেদা জিয়ার বড়ো ছেলে তারেক রহমানের মুক্তি প্রক্রিয়াও চলছে জানিয়ে এই আইনজীবী
বলেন, 'আমরা শুনেছি তার মুক্তির বিষয়টি বিবেচনাধীন আছে।'
এর আগে
দুর্নীতি দমন কমিশনের দায়ের করা সম্পদের তথ্য গোপনের মামলায় ব্যক্তিগত হাজিরা থেকে
অব্যাহতি পান কোকো।
বৃহস্পতিবার কোকোর পক্ষে
তার আইনজীবীরা ব্যক্তিগত হাজিরা মওকুফ চেয়ে আবেদন জানালে, তা মঞ্জুর করেন ঢাকার তিন
নম্বর অতিরিক্ত মূখ্য
মহানহর হাকিম মোঃ গোলাম রাব্বানী।
আবেদনে বলা হয়,
মেডিক্যাল বৌর্ডের
সুপারিশ অনুযায়ী উন্নত চিকিৎসার জন্য কোকোকে বিদেশের পাঠানোর প্রয়োজনে ব্যক্তিগত
হাজিরা থেকে অব্যাহতি প্রয়োজন।
এর আগে গ্যাটকো দুর্নীতি
মামলায় ব্যক্তিগত হাজিরা থেকে অব্যাহতি পেয়েছিলেন কোকো।
তবে গুলশান থানায় দায়ের
করা একটি চাঁদাবাজির মামলায় ব্যক্তিগত হাজিরা থেকে তিনি এখনও অব্যাহতি পাননি বলে
জানিয়েছেন তার আরেক আইনজীবী জয়নাল আবেদীন মেসবাহ।
উল্লেখ্য, ২০০৭ সালের ৩
†m‡Þ¤^i
গ্যাটকো দুর্নীতি মামলায় আরাফাত
রহমান কোকোকে গ্রেপ্তার করা হয়।
ঢাকা থেকে
আবদুর রহিম হারমাছি
১৭ জুলাই
২০০৮ |