|
অবস্থানের বড়ো পরিবর্তনঃ
ইরানের
সাথে আলোচনায় বসবে যুক্তরাষ্ট্র
বুধবার
যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, পরমাণু কর্মসূচি বিষয়ে ইরানের সাথে আলাপ-আলোচনার জন্য একজন
উচ্চ-পদস্থ কূটনীতিকে জেনেভা পাঠানো হবে।
গত তিন দশকের মধ্যে
এ-প্রথমবারের মতো ইরানের সাথে কথা বলতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।
এদিকে, ইরান জানিয়েছে,
পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে উদ্ভূত সঙ্কটের ব্যাপারে আলোচনায় সম্মতি থাকলেও,
কারও সাথে কোনো ধরণের
'লেন-দেনে' পৌঁছানোতে তারা অনাগ্রহী।
বুধবার
ওয়াইট হাউস ও মার্কিন স্টেইট ডিপার্টমেন্ট জানিয়েছে, আগামী শনিবার ইরানের সাথে
পরমাণু কর্মসূচি বিষয়ে আলাপ আলোচনার জন্য আন্ডার সেক্রেট্যারী অফ স্টেইট উইলিয়াম
বার্নসকে জেনেভা পাঠানো হবে।
আলাপ-কালে ইরানের পরমাণু
কর্মসূচির সমাপ্তি টানার ব্যাপারে মার্কিন অবস্থান ব্যাখা করা হবে।
তবে মার্কিন প্রশাসন
জানিয়েছে, শনিবারের বৈঠকটি হবে 'এককালীন'।
এর অর্থ হচ্ছে,
পরবর্তীতে কোনো বৈঠক
হলেও তা আলোচ্য বৈঠকের ধারাবাহিতা হিসাবে গণ্য করা হবে না।
ওয়াইট হাউস মুখপাত্র
ডানা পেরিনো জানিয়েছেন, পরমাণু প্রকল্পের জন্য ইউরেনিয়াম পরিশোধন সংক্রান্ত
কর্মকাণ্ড বন্ধের বিনিময়ে ইরানকে যে-সব সুযোগ-সুবিধা দানের প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছে,
আর্ন্তজাতিক সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে সে-সব ব্যাপারে ইরানের অবস্থান শোনার জন্য
জেনেভা যাবেন বার্নস।
তবে পেরিনো জানান,
ইরানের সাথে কোনো ধরণের বুঝাপড়াতে পৌঁছানোর জন্য ইরানের কাছে কূটনৈতিক পাঠানো হচ্ছে
না।
ওয়াইট হাউস মুখপাত্র জানান,
যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ইরানের সাথে আরো উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকের ব্যাপারেও প্রস্তাব
দেয়া হতে পারে।
উল্লেখ্য,
কিছুদিন আগে
সেক্রেট্যারী অফ স্টেইট কন্ডোলিৎসা রাইস জানিয়েছিলেন, তিনি ইরানী প্রতিরক্ষা
মন্ত্রীর সাথে আলাপে বসতে ইচ্ছুক।
এতোদিন
পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র বলে আসছিলো যে,
পরমাণু কর্মসূচি বন্ধের
ঘোষণা না দেয়া পর্যন্ত ইরানের সাথে কোনো দ্বিপাক্ষিক আলোচনায় বসা হবে না।
বুধবার ঘোষণাটিকে
এ-কারণে মার্কিন নীতির বড়ো ধরণের পরিবর্তন হিসাবে চিহ্নিত করতে চাইছেন পর্যবেক্ষকরা।
স্মরণ করা যেতে পারে,
নিজেদের পরমাণু
কর্মসূচিকে সব-সময় বেসামরিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত হিসাবে বর্ণনা করে ইরান।
কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র-সহ
পশ্চিমা বিশ্ব এর পিছনে বোমা বানানোর উদ্দেশ্য আছে বলে আশঙ্কা করে।
এদিকে,
যুক্তরাষ্ট্রের ঘোষণার
প্রতিক্রিয়ায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মগুরু আয়াতুল্লাহ আলী খামেনী জানিয়েছেন, পরমাণু
কর্মসূচি সংক্রান্ত সংলাপে আপত্তি নেই,
কিন্তু এর মাধ্যমে কারও
সাথে কোনো ধরণের রফার দিকে যাবে না ইরান।
ইরান আরও জানিয়েছে,
আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের
পক্ষ থেকে কোনো ধরণের নতুন বিধি-নিষেধ আরোপের পরিণতি সম্পর্কে মার্কিন কূটনীতিককে
অবগত করা হবে।
খামেনী আরো বলেন, 'কোনো শক্তির
পক্ষেই ইরানকে পরমাণু প্রযুক্তি থেকে বঞ্চিত করা সম্ভব হবে না।
ইরান আলোচনায় বসার
সিদ্ধান্ত নিয়েছে,
কিন্তু তাই বলে কোনো ভীতির কাছে
নতি স্বীকার করবে না।'
জানা
গেছে,
উভয়ের মধ্যেকার বৈঠক-কালে
ইউরৌপীয়ান ইউনিয়নের ফরেইন পলিসি চীফ জ্যাভিয়ার সোলানা হাজির থাকবেন।
ইরানের পক্ষে আলাপে অংশ
নিবেন পরমাণু কর্মসূচি সংক্রান্ত সে-দেশের শীর্ষ আলোচক সাঈদ জালালী।
তিন দশকের ব্যবধানে
অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া দুই ঘোরতর শত্রু রাষ্ট্রের বৈঠকের ব্যাপারে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত
করে সোলানা বলেন,
'আমি আশা করি,
আমরা গঠনমূলক ও ইতিবাচকভাবেই
ইরানের সাথে কথাবার্তা বলতে পারবো।'
লন্ডনঃ ১৬ জুলাই ২০০৮ |