|
দ্রুত-অভিবাসনে কমিউনিটি সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেঃ প্রতিবেদনে
প্রকাশ
অভিবাসনকারীর
সংখ্যার দ্রুত-বৃদ্ধির কারণে ইংল্যান্ডের কোনো-কোনো অংশে কমিউনিটি সদস্যদের
মধ্যেকার পারস্পরিক সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে দাবী করা হয়েছে হাউস অফ কমন্সের
কমন্স কমিউনিটিজ
এান্ড
লৌক্যাল গর্ভনমেন্ট কমিটির প্রতিবেদনে।
বুধবার প্রকাশিত
প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে সন্ত্রাসবাদ বা অপরাধ প্রবণতা বৃদ্ধির চেয়েও অভিবাসীদের
সংখ্যা-বৃদ্ধির ব্যাপারে বেশি দুশ্চিন্তার মধ্যে আছে স্থানীয় মানুষ-জন।
পরিস্থিতি অনাকাঙ্খিত
রূপ ধারণ করার আগেই সরকারী হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে বিভিন্ন দলের এমপিদের সমন্বয়ে
গঠিত কমিটির প্রতিবেদনটিতে।
বুধবার
প্রকাশিত 'কমিউনিটি কৌহেশন
এান্ড
মাইগ্রেশন' শীর্ষক প্রতিবেদন মতে,
দ্রুতগতিতে অভিবাসনকারীর
সংখ্যা বৃদ্ধির পরিণতিতে সরকার সেবা-খাতের উপরে তীব্র চাপ তৈরী হবার মতো বিষয়গুলো
নিয়ে 'জনমনে গুরুতর উদ্বেগ' তৈরী হয়েছে।
তবে একই সাথে কমন্স সভার
প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ইংল্যান্ডে বসতগাড়া অভিবাসীদের অনেকেই এনএইচএস বা অন্য
অনেক সরকারী সেবাখাতে কাজ-কর্ম করার মধ্য দিয়ে লৌক্যাল কমিউনিটির জন্য
'গুরুত্বপূর্ণ অবদান' রাখছেন।
বিভিন্ন এলাকাতে
অভিবাসীর সংখ্যাবৃদ্ধি নিয়ে স্থানীয় লোকজনের মধ্যে সৃষ্ট 'গভীর উদ্বেগকে' 'শুধুই
বর্ণবাদী বা বিদেশী-বিদ্বেষমূলক প্রচারণা হিসাবে' উড়িয়ে দেয়ার না দেয়ার জন্য
সতর্কতা প্রদান করা হয়েছে প্রতিবেদনে।
সরকারী আবাসন সুবিধার
উপরে অতিরিক্ত চাপ পড়া,
এমনকি প্রাইমারী
স্কুলগুলোতে খুব একটা ইংরেজী বলতে না পারা শিশুর সংখ্যা বৃদ্ধির কারণেও,
লোকজন অভিবাসীর সংখ্যা
বৃদ্ধির ব্যাপারটি নিয়ে দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হয়ে পড়ছে বলে জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে জানানো
হয়েছে, অপরাধের সংখ্যা বৃদ্ধি বা সন্ত্রাসবাদের মতো ব্যাপারগুলো অপেক্ষা অভিবাসীর
সংখ্যা-বৃদ্ধির ব্যাপারটি কমিউনিটিগুলোতে গুরুত্ব পাচ্ছে বেশি।
কমিটি মনে করছে,
পরিস্থিতি বর্তমানে বেশ ভয়াবহ পর্যায়ে চলে গেছে।
এবং বিষয়টি নিয়ে
অনাকাঙ্খিত পরিস্থিতি তৈরী হবার আগেই সরকারের উচিত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার
লক্ষ্যে দ্রুত কাজ শুরু করা।
এদিকে
অভিবাসীন প্রক্রিয়ার মধ্যে থাকা লোকজনের ভিসা-ফী বাড়ানো সংক্রান্ত সরকারী পরিকল্পনা
সমালোচনা করা হয়েছে প্রতিবেদনে।
কমিটি মনে করে, এর
মাধ্যমে খুব অল্প পরিমাণের অর্থ সংগ্রহ করা সম্ভব হবে।
সাম্প্রতিক এক হিসাবেও
দেখা গেছে,
সরকারী আকাখাটি বাস্তবায়ন করা
হলে সাকুল্যে ১৫ মিলিয়ন পাউন্ড তোলা করা সম্ভব হবে।
উল্লেখ্য,
অভিবাসন প্রক্রিয়ার
মধ্যে থাকা লোকজনের ভিসা-ফী বাড়ানোর মাধ্যমে বিভিন্ন পাবলিক সার্ভিসের জন্য অর্থ
সংগ্রহের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিলো ব্রিটিশ সরকার।
অভিবাসন-জনিত কারণে
যে-সব এলাকায় সরকারী সেবাগুলোর উপরে চাপ তৈরী হচ্ছে,
সে-সব এলাকাগুলোতে
স্বল্পকালীন মেয়াদে সমস্যা মোকাবেলার জন্য উল্লেখিত অর্থ ব্যবহার করা যাবে বলে মনে
করে সরকার।
কমন্স কমিউনিটিজ
এান্ড
লৌক্যাল গর্ভনমেন্ট কমিটির প্রতিবেদনে বিরোধিতা করা হলেও,
বুধবার ইমিগ্রেশন
মিনিস্টার নতুন করে সরকারী অবস্থানের পক্ষে যুক্তি প্রদর্শন করেছেন।
প্রতিবেদনে জানানো হয়, অভিবাসী-সংখ্যার দ্রুত বৃদ্ধির কারণে সরকারী সেবাখাতগুলোর
সীমিত সম্পদের উপরে ভয়াবহ প্রতিযোগিতা সৃষ্টি হচ্ছে,
যে-কারণে কমিউনিটি
সম্পর্কের উপরে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া তৈরির ঝুঁকি তৈরী হয়েছে।
তথ্যমতে,
ইংল্যান্ডের তিনটি এলাকা,
অর্থাৎ পিটারবারা,
বার্নলী এবং বার্কিং
এান্ড
ড্যাগেনহ্যামে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষজনের মধ্যে সুসম্পর্কের মাত্রা ইংল্যান্ডের
যে-কোনো অংশের তুলনায় নিম্ম।
উল্লেখ্য,
এ-তিন এলাকাতেই
উল্লেখযোগ্য সংখ্যক অভিবাসী বাস করেন।
এর মধ্যে পূর্ব-লন্ডনের
বার্কিং
এান্ড
ড্যাগেনহ্যাম আবার বর্ণবাদী দল বিএনপির শক্ত ঘাঁটিতে পরিণত হয়েছে।
অভিবাসীর নতুন স্রোতের
সাথে পুরোনো অভিবাসীদের সম্পর্কের ব্যাপারেও দৃষ্টিপাত করা হয়েছে প্রতিবেদনে।
জানা যাচ্ছে,
দীর্ঘ আগে ইংল্যান্ডে
আসা এশিয়ান ও ক্যারাবীয়ান সম্প্রদায়ের লোকজন ও নুতন আসা জাতিগত সংখ্যালঘুদের মধ্যে
বিদ্বেষমূলক সম্পর্ক বিরাজ করছে।
এছাড়াও উভয় গ্রুপের
মধ্যে 'নয়া-ধাঁচের বর্ণ-সংস্কার' বিরাজ করছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
সদ্য-প্রকাশিত প্রতিবেদনটির ব্যাপারে বিরোধিতা এসেছে বিভিন্ন মহল থেকে।
ইন্সটিটিউট অফ পাবলিক
পলিসী রিসার্চের প্রধান ধনাঞ্জয়ান শ্রীষ্কান্দরাজা
বিবিসিকে বলেন,
'অভিবাসীরা যা কিছু করছে, তার
সব কিছুকেই সমস্যা হিসাবে দেখার মতো একটা ঝুঁকির দিকে অগ্রসর হচ্ছি আমরা এবং আমরা
ভুলে যাচ্ছি যে,
কাজ-কর্ম করা ও কর-দানের মধ্য
দিয়ে তারা স্থানীয় অর্থনীতিতে নিরবিচ্ছিন্নভাবে অবদান রেখে চলেছে।'
সরকারী প্রতিবেদনের
ব্যাপারে নেতিবাচক মনোভাব প্রদর্শন ছাড়াও
ধনঞ্জয়ান জানান,
বিদ্যমান চ্যালেঞ্জগুলো ত্বরিত মোকাবেলার জন্য একটি উন্নতমানের অর্থায়ন ব্যবস্থা ও
জনসংখ্যা সম্পর্কিত সঠিক চিত্র কর্তৃপক্ষের হাতে থাকা প্রয়োজন।
এদিকে,
অভিবাসনজনিত প্রতিবেদনটি
নিয়ে সরকারকে আবারও একহাত নিয়েছে প্রধান বিরোধী দল কনজারভেটিভ পার্টি।
দলটির পক্ষ থেকে জানানো
হয়, অভিবাসীর সংখ্যা
নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে লেবার সরকারের ব্যর্থতার সাক্ষাত প্রমান হচ্ছে প্রকাশিত
প্রতিবেদনটি।
উল্লেখ্য,
টৌরীরা ইংল্যান্ড তথা
ব্রিটেইনে অভিবাসী আগমনের ব্যাপারে বার্ষিক একটি সংখ্যা নির্ধারণের জন্য দাবী
জানিয়ে আসছে বেশ কিছু দিন।
এর ফলে কমিউনিটি এবং
সরকারী সেবা-খাতের উপরে চাপ পড়ার ব্যাপারটি মোকাবেল করা সম্তব হবে বলে তারা মনে করে।
সরকারের
অবস্থানের পক্ষে ডিপার্টমেন্ট ফর কমিউনিটিজ
এান্ড
লৌক্যাল গর্ভনমেন্ট জানিয়েছে অভিবাসনের 'পুরো সুফল আদায় এবং নেতিবাচক প্রভাব
কমানোর' ব্যাপারে ইতিমধ্যেই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
এ-প্রসঙ্গে অভিবাসীর
সংখ্যাবৃদ্ধিজনিত কারণে চাপের মধ্যে পড়া কাউন্সিল বা কমিউনিটিতে বিভিন্ন ধরণের
আর্থিক সহায়তা প্রকল্পের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
লন্ডনঃ ১৬ জুলাই, ২০০৮ |