|
বাংলাদেশে আরও বন্দী নেতার জামিনঃ
এাটর্নী জেনারেলের পদত্যাগ
বাংলাদেশে
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট পরিবর্তন হচ্ছে দ্রুত।
আদালতের রায়ে কারাবন্দি
জামাত-বিএনপি নেতারা একের পর এক জামিন পাচ্ছেন।
জামাতে ইসলামীর আমির
মতিউর রহমান নিজামীর মুক্তির একদিনের মাথায়,
বুধবার দুর্নীতি মামলায়
কারাবন্দী বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী,
নাসির উদ্দিন পিন্টু ও
এমএ হাশেমকে এক মাসের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দিয়েছে দেশটির হাইকৌর্ট।
এদিকে,
বুধবার সন্ধ্যায় হঠাৎ করে করে পদত্যাগ করেছেন
সেনা-নিয়ন্ত্রিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের
এাটর্নী
জেনারেল ব্যারিস্টার ফিদা এম কামাল।
জামাত-বিএনপি নেতাদের
একের পর এক জামিন লাভে সাথে পদত্যাগের ঘটনার সম্পর্ক থাকতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
বুধবার
বিকেলে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা বিতর্কিত
রাজনৈতিক নেতা সাকা চৌধুরী,
ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি
সন্ত্রাসী-গডফাদার হিসেবে পরিচিত সাবেক সাংসদ পিন্টু এবং পারটেক্স গ্রুপের
চেয়ারম্যান সাবেক সাংসদ হাশেমকে জামিন দিয়েছে হাইকৌর্ট।
তাদের আবেদনের
প্রেক্ষিতে বিচারপতি শরিফউদ্দিন চাকলাদার ও বিচারপতি মোঃ ইমদাদুল হক আজাদের বেঞ্চ
জামিন-সহ উপরে উল্লেখিত আদেশ দেন।
আসামীদের
পক্ষে শুনানিতে অংশ নিয়ে ব্যারিস্টার রফিকুল হক বলেন,
'দুর্নীতি দমন কমিশন আইন অনুযায়ী এ-ধরণের মামলার তদন্ত ৬০ দিনের মধ্যে শেষ করার কথা।
কিন্তু কমিশন নির্ধারিত
সময়ে অভিযোগপত্র দিতে ব্যর্থ হয়েছে।'
কমিশনের
পক্ষে
এাডভোকেট
মোয়াজ্জোম হোসেন বলেন,
'৬০ দিনের মধ্যে তদন্ত
প্রতিবেদন দাখিল করা বাধ্যতামূলক নয়।'
অবৈধ সম্পদের মালিক হওয়া
ও সম্পত্তির তথ্য গোপনের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশন গত বছরের জুন মাসে সালাহউদ্দিন
কাদের চৌধুরীর বিরুদ্ধে রমনা থানায় মামলা দায়ের করে।
একই অভিযোগে জুনে
হাজারিবাগ থানায় পিন্টুর বিরুদ্ধে এবং
wW‡m¤^‡i
রমনা থানায় হাশেমের বিরুদ্ধে
মামলা করে কমিশন।
২০০৭
সালের বিভিন্ন সময়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনীর সদস্যরা এদের গ্রেপ্তার করে।
এদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি
দমন কমিশনের দায়ের করা পৃথক তিনটি মামলার কার্যক্রমও এক মাসের জন্য স্থগিত করা
হয়েছে।
একই সঙ্গে মামলা তিনটি কেনো
বাতিল করা হবে না, আগামী দু'সপ্তাহের মধ্যে কমিশন ও সরকারকে তার কারণ জানানোর
নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
এদিকে
বর্তমান তত্বাবধায়ক সরকার দায়িত্ব দেওয়ার পর নিয়োগ পাওয়া
এাটর্নী
জেনারেল ব্যারিস্টার ফিদা এম কামাল হঠাৎ করে পদত্যাগ করেছেন।
বুধবার রাতে তিনি আইন
উপদেষ্টার কাছে পদত্যাগ-পত্র জমা দিয়েছেন।
ফিদা এম
কামাল আইন উপদেষ্টা এএফ হাসান আরিফের সঙ্গে আইন মন্ত্রণালয়ে দীর্ঘ পৌনে পাঁচ ঘণ্টা
বৈঠকের পর নিজেই তার পদত্যাগের বিষয়টি সাংবাদিকদের জানান।
বৈঠক শেষে
বেরিয়ে এসে সাংবাদিকদের তিনি বলেন,
'আই হ্যাভ প্লেসইড মাই রেজিগনেশন লেটার।'
কী
কারণে পদত্যাগ করেছেন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন,
'ব্যক্তিগত কারণে পদত্যাগ করেছি'।
সরকারের সঙ্গে এমন কী টানাপোড়েন চলছিলো-যে,
আপনি পদত্যাগ করলেন?
এ-প্রশ্নের কোনো উত্তর দেননি তিনি।
পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার পর কামাল সুপ্রিম
কৌর্টে
তার দপ্তরে যান।
সেখানেও অপেক্ষমান
সাংবাদিকদের তিনি ব্যক্তিগত কারণে পদত্যাগ করার কথা জানান।
ফিদা এম
কামাল বুধবার সাড়ে তিনটার দিকে আইন উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠক শুরু করেন।
তার পদত্যাগের গুঞ্জন
ছড়িয়ে পড়লে সংবাদ-কর্মীরা আইন উপদেষ্টার কার্যালয়ে সামনে ভিড় করেন।
সচিবালয় ও আদালত পাড়ায়ও
এ-নিয়ে আলোচনা চলতে থাকে।
কামাল নিজ-মুখে কিছু না
বললেও ঢাকায় পর্যবেক্ষক মহলের ধারণা জামাত-বিএনপি
নেতাদের
জামিনে মুক্তি দেয়া নিয়ে সরকারের শীর্ষ মহলের সঙ্গে বনিবনা না হওয়ায় ফিদা কামাল
পদত্যাগ করেছেন।
ঢাকা থেকে
আবদুর রহিম হারমাছি
১৬ জুলাই
২০০৮ |