|
ইংল্যান্ড ও ওয়েলসের জন্য ইয়ুথ ক্রাইম
এাকশন
প্ল্যান প্রকাশিত
ইংল্যান্ড
ও ওয়েলসের তরুণ সম্প্রদায়ের অপরাধ-প্রবণতা ঠেকানোর লক্ষ্যে মরীয়া ব্রিটিশ সরকারের
পক্ষ থেকে একটি ইয়ুথ ক্রাইম
এাকশন
প্ল্যান প্রকাশ করা হয়েছে মঙ্গলবার। উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে এ-দু'অঞ্চলে আঠারোর
কম-বয়েসীদের মধ্যে ছুরি-আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করে সহিংসায় লিপ্ত হওয়া থেকে শুরু করে
হরেক রকমের অপরাধ-প্রবণতার ব্যাপক বৃদ্ধি ঘটেছে ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে।
এাকশন
প্ল্যানে সরকার জানিয়েছে, আঠারো বছরের কম-বয়েসীদের অপরাধ-প্রবণতা ঠেকানোর লক্ষ্যে
নানা ধরণের কর্ম-পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য ১শো মিলিয়ন পাউন্ড বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।
প্রকাশিত
এাকশন
প্ল্যানটিতে যে-সব প্রস্তাব করা হয়েছে, তার মধ্যে আছে, সমাজ-বিরোধী তৎপরতা আর
এালকোহল
পান থেকে দূরে রাখার লক্ষ্যে উল্লেখিত বয়ঃসীমার তর্বণদের বেশি রাত্রিতে ঘরের বাইরে
থাকতে না দেয়া এবং সমস্যাক্রান্ত পরিবারগুলোর জন্য সরকারের পক্ষ থেকে
সাহায্য-সহযোগিতা দান করা। অপরাধ-কর্মের জন্য দোষী সাব্যস্ত হওয়া তরুণদেরকে অধিক
পরিমাণে দৃশ্যমাণ 'কমিউনিটি
পেব্যাক' সাজা দেয়ার আহবানও জানানো হয়েছে
এাকশন
প্ল্যানে। এছাড়াও যে-এলাকাগুলোতে তরুণদের অপরাধ প্রবণতার অতি-বৃদ্ধি ঘটেছে,
সে-এলাকাগুলোতে বিশেষ-বিশেষ কর্মসূচি গ্রহণেরও প্রস্তাব এসেছে
এাকশন-প্ল্যানে।
সাম্প্রতিক হিসাবানুসারে, প্রতি বছর ইংল্যান্ড ও ওয়েলসের ১০ থেকে ১৭ বছর বয়ঃসীমার
গড়ে লাখ-খানেক তরুণ অপরাধ কর্মে নিযুক্ত হবার দায়ে বিচার ব্যবস্থার মুখোমুখি হয়।
২০২০ সালের মধ্যে এ-হার বর্তমানের তুলনায় এক-পঞ্চমাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ
করা হয়েছে
এাকশন-প্ল্যানে।
নতুন
প্রস্তাবনাতে আফটার-স্কুল আওয়ার্সে রাস্তায় পুলিশ নামানো, সমস্যাকীর্ণ এলাকাগুলোতে
গ্যাংগুলোর সাথে যোগাযোগ স্থাপনের লক্ষ্যে ইয়ুথ ওয়ার্কার ও সাবেক গ্যাং সদস্যদের
কাজে লাগানোর পক্ষে মত দেয়া হয়েছে নতুন পরিকল্পনাতে। কম-বয়েসীদের অপরাধের বিরুদ্ধে
অধিকতর প্রতিরোধ ব্যবস্থার নিশ্চয়তা-দান এবং আক্রান্ত ব্যক্তির জন্য অধিকতর
সাহায্য-সমর্থনের নিশ্চয়তা দেয়ার প্রয়োজনের কথা বলা হয়েছে মঙ্গলবারের প্রকাশনাটিতে।
এছাড়াও প্যারেন্টিং অর্ডার সহযোগে এন্টি-সৌশ্যাল বিহেভিয়ার অর্ডারস (এএসবিও),
সেইফার স্কুলস পার্টনারস বাড়ানো, যে-সময়গুলোতে (শুক্র ও শনিবার রাত) কম-বয়েসীরা
বেশি হারে অপরাধে জড়ায়, সে-সময়গুলোর জন্য ইয়ুথ সেন্টারসহ অন্যান্য সহায়ক কর্মকান্ড
বাড়ানো এবং ফ্যামেলি-নার্স পার্টনারশীপের বিস্তার ঘটানোর পক্ষে মত দেয়া হয়েছে
এাকশন
প্ল্যানে। আঠারো বছরের কম-বয়েসীদের অপরাধ প্রবণতা হ্রাসের জন্য ক্ষেত্রে-বিশেষে
উদ্ভাবনী উপায় অবলম্বন করার প্রস্তাবও করা হয়েছে সর্বশেষ পরিকল্পনাতে।
কম-বয়েসীদের অপরাধ প্রবণতা কমানোর উদ্দেশ্যে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের অধিক দায়িত্ব পালন
নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কয়েকটি প্রস্তাবনা সংযুক্ত করা হয়েছে
এাকশন
প্ল্যানে। এগুলোর মধ্যে আছেঃ পুলিস হেফাজতে থাকা তরুণ অপরাধীদের শিক্ষার জন্য ব্যয়
বরাদ্দ করা। হেফাজত থেকে মুক্ত হয়ে যাওয়া তরুনদের জন্য সাহায্য-সহযোগিতার পরিধির
বিস্তৃতি ঘটানো এবং এদের জন্য মানসম্মত আবাসন ও স্বস্থ্য-সেবা দেয়ার ক্ষেত্রেও
স্থানীয় সরকারের ভূমিকা রাখার পক্ষে মত ব্যক্ত করা হয়েছে।
সদ্য-প্রকাশিত
এাকশন
প্ল্যানটি প্রসঙ্গে মত ব্যক্ত করে ব্রিটিশ হৌম সেক্রেট্যারী জ্যাকী স্মিথ
সংবাদ-মাধ্যমকে বলেন, 'আক্রান্ত ব্যক্তি এবং কমিউনিটির উপরে ইয়ুথ ক্রাইমের প্রভাব
হতে পারে ভয়াবহ।' তিনি বলেন, 'বেশির ভাগ তরুণই ভালো এবং মন্দের মধ্যে পার্থক্য
বুঝতে সক্ষম, শুধুমাত্র অল্প কিছু তরুণ অপরাধের জীবনে জড়িয়ে যায়।' স্মিথ আরও বলেন,
'অপরাধে জড়িয়ে যাওয়া তরুণ বয়েসীদের সমস্যাকে গুরুত্বের সাথে দেখতে হবে।' তবে একই
সাথে কম-বয়েসী অপরাধীদের প্রতি সতর্কতা ব্যক্ত করে বলেন, 'আমি আজ এ-মর্মে সতর্কতা
উচ্চারণ করতে চাই যে, তাদের এসব আচরণ কোনভাবেই সহ্য করা হবে না।' সরকার পক্ষের
দায়-দায়িত্বের কথা উল্লেখ করা ছাড়াও কম-বয়েসীদের অপরাধ-প্রবণতা দমনে অভিভাবকদের
ভূমিকা রাখার উপরেও গুরুত্ব আরোপ করেছেন হৌম সেক্রেটারী।
লন্ডনঃ
১৫ জুলাই
২০০৮ |