London:

Home

About us

Services

Contact

Archive

গুয়ানতানামো বে'তে গোয়েন্দাদের বন্দী-জেরার প্রথম ভিডিও প্রকাশ

গুয়ানতানামো বে'র একজন বন্দীকে গোয়েন্দাদের জেরা করার দৃশ্য ধারণ-করা একটি ভিডিও ইন্টারনেটে আপলৌড হয়েছে মঙ্গলবার। উল্লেখিত ভিডিওতে এক কিশোর-বয়সী বন্দীকে গোয়েন্দাদের জেরার মুখে কাঁদতে দেখা যায়। কানাডায় জন্মানো এ-কিশোরেকে ২০০২ সালে আফগানিস্তানে এক মার্কিন-সেনা হত্যার অভিযোগে আটক করা হয়। ভিডিওতে দেখা যায়, কানাডিয়ান সিকিউরিটি ইন্টিলিজেন্স সার্ভিসের গোয়েন্দারা তাকে জেরা করছে। জানা যায়, গুয়ানতানামো বে'র বন্দী কিশোরটির নাম ওমর খাদর এবং ২০০৩ সালের জেরা-কালে তার বয়স ছিলো ১৫ বছর। খাদরের জেরার ভিডিওটি তার আইনজীবীর পক্ষ থেকে ইন্টারনেটে প্রকাশ করা হয়েছে বলে জানা যায়।

খবরে প্রকাশ, খাদরের বিরুদ্ধে অভিযোগ যে, সে মার্কিন সেনাদলকে লক্ষ্য করে একটি গ্রেনেইড ছুঁড়েছিলো। সে-সময় মার্কিন বাহিনী জানিয়েছিলো, আল কায়দার একটি ঘাঁটিতে চার-ঘন্টাব্যাপী বিমান হামলার পরে একমাত্র জীবিত হিসেবে বেঁচে ছিলো কিশোর খাদর। মার্কিনীরা আরও জানিয়েছিলো, বোমার আঘাতে ধ্বংসিত ভবনের ভিতর থেকে বেরিয়ে এসে খাদর গ্রেনেইড ছুঁড়ে এবং একজন মার্কিন সেনানে হত্যা করেছিলো এবং সে-সূত্রেই তাকে গ্রেফতার করেছিলো। কিন্তু খাদরের মার্কিন আইনজীবী লেফটেন্যান্ট-কমান্ডার বিল কিউব্লার কানাডীয়ান কমন্স কমিটিতে দেয়া এক বক্তব্যে জানিয়েছিলেন, দু'পক্ষের মধ্যে সংঘাত চলাকালে পাশ্ববর্তী একটি জঙ্গলের মধ্যে আত্মগোপন করেছিলো ভীত-আহত পনেরো বছরের কিশোর খাদর। উল্লেখ্য, বন্দী হবার আগে খাদরকে  অন্তত দুই রাউন্ডতে বিদ্ধ করেছিলো মার্কিন সেনারা। কিন্তু অপর একজন সেনার হস্তক্ষেপের কারণে সে-সময় প্রাণে বেঁচে যায় খাদর।

জেরার এক-পর্যায়ে কিশোরটি গোয়েন্দাদের জানায়, আফগানিস্তানের বাগরামের বিমান ঘাঁটিতে ইউএস মিলিটারী ডিটেনশন সেন্টারে বন্দী থাকা অবস্থাতে সে অত্যাচার-নিপীড়নের শিকার হয়েছিলো। খাদর তার গায়ের জামা তুলে শরীরের বিভিন্ন স্থানে ভেসে উঠা অত্যাচার-নিপীরড়নের চিহ্নগুলোও দেখায় গোয়েন্দাদের। ভিডিওর এক পর্যায়ে দেখা যায়, গোয়েন্দাটির কড়া জেরার মুখে দু'হাতে মুখ ঢেকে কাঁদছে খাদর। সে গোয়েন্দাদের উদ্দেশ্যে এক-পর্যায়ে বলে, 'আমাকে সাহায্য করুন, তা না  হলে মেরে ফেলুন, মেরে ফুলুন আমাকে।' অপর এক স্থানে খাদরকে বলতে দেখা যায়, 'আমি আমার চোখ হারিয়েছি, আমি আমার পা হারিয়েছি। আমি সব হারিয়েছি।' গোয়েন্দাদের একজন খাদরকে উদ্দেশ্য করে বলেন, 'আমি ডাক্তার নই। তবে আমার মনে হচ্ছে তুমি ভালো রকমের স্বাস্থ্য-সেবা পাচ্ছো।' এর উত্তরে খাদর বলে, 'আপনি একে স্বাস্থ্য বলতে চান? আমি আমার হাত [পর্যন্ত] নাড়াতে পারছি না।' 'খাদরের প্রতি জেরাতে সহযোগিতা করার আহবান জানিয়ে গোয়েন্দাটি বলেন, 'এখনও তোমার চোখ আছে, এখনো তোমার পাগুলো আছে।' খাদর এ-পর্যায়ে বলেন, 'আপনি আমার ব্যাপারে আদৌ কোনো দৃষ্টি দিচ্ছেন না। কেউই আমার ব্যাপারে দৃষ্টি দিচ্ছে না।'

জেরার এক পর্যায়ে খাদরকে শান্ত করার লক্ষ্যে একজন গোয়েন্দা জানান খাদরকে কিছু একটা খেতে দেয়া উচিত। গোয়েন্দাটি খাদরকে আরও বলেন, 'আমি বুঝতে পারি এটা [জেরা ] চাপদায়ক।'

ভিডিওতে দেখা যায় আল কায়দার সাথে সম্পর্কের ব্যাপারেও খাদরকে জেরা করছেন কানাডার গোয়েন্দারা। জেরার কোনো পর্যায়েই খাদরের উপরে কোনো নির্যাতন হতে দেখা যায়নি ভিডিওতে। কিন্তু খাদরের কানাডীয় আইনজীবী নাথান ওয়াইটলিং গত সপ্তাহে জানিয়েছেন, কানাডীয় গোয়েন্দারা খাদরের কক্ষে প্রবেশ আগে পুরো পরিবেশটিকে পাল্টে নিয়েছিলো গুয়ানতানামো কর্তৃপক্ষ। কানাডার ফরেইন ইন্টিলিজেন্স ডিপার্টমেন্টের নথি থেকেও গুয়ানতানামো বেতে খাদরের উপরে নির্যাতন চালানোর কথা উল্লেখ করা হয়েছিলো।

জানা গেছে, চার দিন ধরে খাদরের উপরে জেরা চালানোর সময় সাত-ঘন্টা দীর্ঘ ভিডিওটি তৈরী করা হয়েছিলো। গুয়ানতানামো কর্তৃপক্ষ ভিডিওটিকে 'সিক্রেট নাম্বার ফরেইন' শিরোনামে তালিকাভূক্ত করেছিলো। সন্ত্রাসবাদে যুক্ত থাকার দায়ে খাদারের বিরুদ্ধে সহসাই আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করতে যাচ্ছে ইউএস মিলিটারী কমিশন।

লন্ডনঃ ১৫ জুলাই, ২০০৮

 

আজকের প্রধান খবর8

জুলাই আর্কাইভ 8

আর্কাইভ8

 
 

© 2007 Confidence Services Ltd.