|
বাংলাদেশে শীর্ষ বন্দী-নেতাদের মধ্যে প্রথম জামিন লাভ নিজামীর
বাংলাদেশে
গ্রেফতার হওয়া শীর্ষ রাজনৈতিক নেতাদের মধ্যে প্রথম জামিনে মুক্তি পেলেন জামায়াতে
ইসলামীর আমির মতিউর রহমান নিজামী।
প্রায় দু'মাস কারাগারে
থাকার পর মঙ্গলবার তিনি হাইকোর্টের রায়ে জামিনে মুক্ত হন।
দেশের প্রধান দুই
রাজনৈতিক দল আওয়ামীলীগ ও বিএনপির শীর্ষ নেতারা কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানালেও,
নিজামীর মুক্তি নিয়ে
সরকারের কঠোর সমালোচনা করেছেন বাম দলগুলো।
মঙ্গলবার
সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রিজন সেল
থেকে ছাড়া পান নিজামী।
সোমবার হাইকৌর্ট তাকে
দুমাসের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দেয়।
গ্যাটকো দুর্নীতি মামলায়
গত ১৮ মে গ্রেপ্তার করা হয় জামায়াত আমিরকে।
প্রিজন সেল থেকে বেরিয়ে
আসার সময় নিজামীর সঙ্গে ছিলেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতা আলী আহসান মুহাম্মদ মুজাহিদ
ও দেলওয়ার হোসেন সাঈদী-সহ দলের নেতাকর্মীরা।
এ-সময় নিজামী
সাংবাদিকদের বলেন, 'আমি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি ও জরুরী অবস্থা
প্রত্যাহার দাবী করছে।'
নিজামী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রিজন সেলে চিকিৎসাধীন
ছিলেন।
দুর্নীতির মাধ্যমে চট্টগ্রাম বন্দর ও কমলাপুরের কন্টেইনার ডিপো পরিচালনার দায়িত্ব
গ্লৌবাল এগ্রো
ট্রেইড কোম্পানীকে (গ্যাটকো) দেওয়ার অভিযোগে গত বছরের ২ সেপ্টেম্বর মামলাটি করা
হয়েছিলো।
এজাহারে নিজামীর নাম না থাকলেও অভিযোগপত্রে তিনি-সহ জোট সরকারের আট মন্ত্রীর নাম
অর্ন্তভুক্ত করা হয়।
অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে,
আসামীরা পরস্পর যোগসাজসে
গ্যাটকোকে কাজ পাইয়ে দিয়ে প্রায় ১৪ কোটি ৫৬ লাখ টাকার ক্ষতি করেছেন।
গ্যাটকো মামলা ছাড়াও
নিজামীর বিরুদ্ধে আরও একটি দুর্নীতি মামলা রয়েছে।
বড়ো পুকুরিয়া কয়লা খনির
উৎপাদন ব্যবস্থাপনা ও রক্ষণাবেক্ষণ কাজ একটি চীনা প্রতিষ্ঠানকে পাইয়ে দেওয়ার
ক্ষেত্রে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে গত ২৬ ফেব্রুয়ারী মামলাটি করা হয়।
এতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী
খালেদা জিয়া,
সাইফুর রহমান,
আবদুল মান্নান ভূঁইয়া,
মতিউর রহমান নিজামী ও
আলী আহসান মোহাম্মদ
মুজাহিদ-সহ ১৬ জনকে আসামী করা হয়েছে।
দুর্নীতি
মামলায় আটক জামায়াতে ইসলামীর আমির মতিউর রহমান নিজামীর জামিনে ছাড়া পাওয়ার মাধ্যমে
বাংলাদেশের জন্য কলঙ্কময় একটি দিন তৈরী হলো বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশের
কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সাধারণ সম্পাদক মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম।
অন্যদিকে,
ওয়ার্কার্স পার্টির
সভাপতি রাশেদ খান মেনন ঘটনাটিকে দেখছেন জামায়াতের প্রতি সরকারের দূর্বলতার প্রকাশ
হিসেবে।
তবে নিজামীর মুক্তির বিষয়ে
প্রতিক্রিয়া জানতে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের একাধিক নেতার সঙ্গে
ইউকেবেঙ্গলির পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হলেও তারা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
মঙ্গলবার
সন্ধ্যায় নিজামীর মুক্তির পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম
ইউকেবেঙ্গলি প্রতিবেদককে ক্ষুব্দ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বলেন,
'এটি আমাদের জন্য আরেকটি কলঙ্কের দিন হয়ে থাকলো।
প্রধান উপদেষ্টা ও
সেনাপ্রধান একাধিকবার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন,
যুদ্ধাপরাধীদের বিচার
হবে এবং দুর্নীতিবাজদের রেহাই দেওয়া হবে না।
নিজামী একজন স্বীকৃত
যুদ্ধাপরাধী এবং দুর্নীতির মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছিলেন।
কোন্ খুঁটির জোরে এরপরও
তিনি মুক্ত হলেন,
তা দেশবাসীকে না জানালে ওনারা
সবার সামনে মোনাফেক হয়ে থাকবেন।
কারণ,
কথা দিয়ে যারা কথা রাখে
না তাদেরই মোনাফেক বলা হয়।'
ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন বলেন, 'জামায়াত সম্পর্কে সরকারের
দূর্বলতার বিষয়টি অতীতে আমরা বলে এসেছি।
এ-ঘটনার মাধ্যমে সেটা
প্রমাণ হল।'
তিনি বলেন, 'এ-পর্যন্ত মনে হয়, দুর্নীতির মামলায় তিনিই (নিজামী) প্রথম ছাড়া পেলেন।
অথচ অনেকের বিরুদ্ধে
অভিযোগ না থাকার পর জামিন দেওয়া হয়নি।
এ-বিষয়টি আমাদের
ভাবাচ্ছে।'
তিনি অভিযোগ করে বলেন,'আমাদের
কেন্দ্রীয় কমিটির এক সদস্যকে জরুরী ক্ষমতা আইনে আটকে রাখা হয়েছে,
আপীল বিভাগও তাকে জামিন
দেয়নি।
অথচ দুর্নীতির মামলায় নিজামীর
জামিনের ঘটনায় মনে হচ্ছে জামায়াতের বিষয়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার অনেক বেশি গণতান্ত্রিক
ও সংবেদনশীল।'
গত বছরের
১১ জানুয়ারী জরুরী অবস্থা জারীর মাধ্যমে পুরোপুরি সেনাবাহিনীর সমর্থন দিয়ে
বিশ্বব্যাংকের সাবেক কর্মকর্তা ডঃ ফখরুদ্দীন আহমদের নেতৃত্বে বর্তমান তত্ববধায়ক
সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর সাবেক দুই প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনা ও খালেদা জিয়া-সহ
দু'শোর বেশি রাজনৈতিক নেতা ও সাবেক মন্ত্রীকে দুর্নীতির অভিযোগে কারাগারে
পাঠিয়েছিলো।
এর মধ্যে কোনো দলের প্রথম সারির
নেতাদের মধ্যে মতিউর রহমান নিজামীই প্রথম জামিনে মুক্ত হয়ে বেরিয়ে এলেন।
যুক্তরাষ্ট্রে চিকিৎসার
জন্য শেখ হাসিনাকে দু'মাসের সাময়িক মুক্তি দেয়া হয়েছে।
তিনি বর্তমানে তিনি
বোনের ছেলের বিয়ে যোগ দেবার জন্য ইউরৌপে অবস্থান করছেন।
ঢাকা
থেকে আবদুর রহিম হারমাছি
১৫
জুলাই, ২০০৮ |