|
তুরস্কে
অভূত্থান-চেষ্টার অভিযোগ
ধর্মনিরপেক্ষতাবাদীদের
বিরুদ্ধে
ধর্মনিরপেক্ষতাবাদী
ছিয়াশি ব্যক্তির বিরুদ্ধে সহিংস অভ্যূত্থান প্রচেষ্টার আনুষ্ঠানিক অভিযোগ এনেছে
তুরস্কে ক্ষমতাসীন ধর্মবাদী দল একেপি।
ক্ষমতাসীন একেপির দাবী
অভিযুক্তরা একটি সন্ত্রাসবাদী সংগঠনের সাথে যুক্ত হয়ে অভ্যূত্থানের মাধ্যমে সরকার
উচ্ছেদের চেষ্টায় লিপ্ত হয়েছিলেন।
সোমবার অভিযুক্ত হওয়া
ব্যক্তিবর্গের মধ্যে একজন অবসরপ্রাপ্ত জেনারেল ছাড়াও বেশ কজন সাংবাদিক,
শিক্ষাবিদ,
আইনজীবি ও ব্যবসায়ীর নাম
অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে।
এরগেনেকোন নামে চিহ্নিত সরকার-কথিত অভ্যূত্থান-ষড়যন্ত্রে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে
প্রায় আড়াই হাজার পৃষ্ঠা দলিল-পত্র প্রকাশ করার পরপর ধর্মনিরপেক্ষতাবাদীদের
বিরুদ্ধে অভ্যূত্থান প্রচেষ্টার অভিযোগ আনা হলো।
উল্লেখ্য,
জুন মাসে এ-ব্যাপারে
একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছিলো একেপি।
পর্যবেক্ষকদের অনেকের
ধারণা ধর্মনিরপেক্ষতা-বিরোধী হিসাবে চিহ্নিত হয়ে নিষিদ্ধ হবার ভয় আশঙ্কা থেকেই,
পাল্টা-ব্যবস্থা হিসাবে
ধর্মনিরপেক্ষ শক্তির উপরে আঘাত হানার কৌশল নিয়েছে একেপি।
আগামী সপ্তাহ তিনেকের
মধ্যে তুরস্কের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক আদালতের পক্ষ থেকে একেপি ও এর একাত্তর নেতার
রাজনীতি বন্ধ করা না করার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত আসার সম্ভাবনা আছে।
উল্লেখ্য,
তুরস্ক রাষ্ট্রীয়ভাবে
ধর্মনিরপেক্ষতা চর্চা করে।
এবং একেপি
ধর্মনিরপেক্ষতা-বিরোধী একটি দল হিসাবেই সর্বমহলে চিহ্নিত।
কিনত্মু দলটি সব-সময়
এ-অভিযোগ অস্বীকার করে এবং নিজেদের গণতান্ত্রিক সংস্কার ও আধুনিকায়ন-মনস্ক একটি
সংগঠন হিসাবে দাবী করে।
সোমবারের অভিযোগ গঠনের
ঘটনার মধ্য দিয়ে দেশটির রাজনৈতিক ব্যবস্থার উপরে নিয়ন্ত্রন প্রতিষ্ঠা সংক্রান্ত
ধর্মনিরপেক্ষ ও ধর্মবাদী শক্তির লড়াই আরো জোরালো হবে ধারণা করা হচ্ছে।
খবরে
প্রকাশ,
অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে
অস্ত্র-বিস্ফোরক বহন,
গোপনীয় সামরিক কাগজ-পত্র
হস্তগত করাসহ সামরিক বাহিনীতে অসন্তোষ ছড়ানোর অভিযোগ আনা হয়েছে।
সরকার-পক্ষের দাবী
অভিযুক্তরা দেশের মধ্যে এমন এক পরিস্থিতি তৈরী করতে চেয়েছেন যাতে করে সেনা-বাহিনী
নির্বাচিত সরকারকে হঠিয়ে দিয়ে ক্ষমতা দখল করে নেয়।
কিন্তু তুর্কী
সেনাবাহিনী জানিয়েছে তারা কোনোভাবেই কোনো ধরণের অভ্যূত্থান প্রচেষ্টার সাথে জড়িত নয়।
উল্লেখ্য,
একেপি কথিত ষড়যন্ত্রে
জড়িত থাকার অভিযোগে এ-পর্যন্ত দু'জন অবসর-প্রাপ্ত জেনারেল-সহ জনা ষাটেক ব্যক্তিকে
গ্রেফতার করেছে সরকার।
আগামী দুই সপ্তাহের
মধ্যে আদালতের পক্ষ থেকে সোমবার অভিযুক্ত ব্যক্তিদের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত জানানো হবে।
১৪ জুলাই
২০০৮ |