|
সুদানের প্রেসিডেন্টের
গ্রেফতার
চায়
ইন্টারন্যাশনাল ক্রিমিন্যাল কৌর্ট
গণহত্যা,
মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ
ও যুদ্ধাপরাধের দায়ে সুদানের প্রেসিডেন্ট ওমর আল-বশীরের গ্রেফতার দাবী করেছে
ইন্টারন্যাশনাল ক্রিমিন্যাল কৌর্ট (আইসিসি)।
এদিকে সুদান কর্তৃপক্ষ
জানিয়েছে, এ-ধরণের তৎপরতার কারণে দারফুর শান্তি প্রক্রিয়াকে নস্যাৎ হয়ে যাবার
আশঙ্কা আছে।
আইসিসির তৎপরতার কারণে দারফুরের
সহিংসা আরও প্রবল হয়ে উঠে কি-না, সে-ভয় পাচ্ছেন পর্যবেক্ষকদের অনেকেও।
সোমবার
হল্যান্ডের দ্য হেগ শহরের সদর দফতরে বশীরের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য-প্রমাণ উপস্থাপন শেষে
সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে গ্রেফতারের দাবীটি উত্থাপন করেছে সংগঠনের শীর্ষ
প্রসিকিউটর লুইস মোরেনো-ওক্যামেপা।
অভিযোগে প্রকাশ,
সুদানের সংঘাত-বিধ্বস্ত
অঞ্চল দারফুরে তিনটি জাতিগোষ্ঠীকে নিশ্চিহ্ন করে দেয়ার জন্য সরকারী বাহিনীকে
'ব্যক্তিগতভাবে নির্দেশ' দিয়েছিলেন বশীর।
ওক্যাম্পো জানান, সংঘাতে
আহত কোন ব্যক্তি বা বন্দীকে বয়ে না নিয়ে আসার তার বাহিনীর প্রতি নির্দেশ দিয়েছিলেন
সুদানের প্রেসিডেন্ট।
তিনি বলেন,
'দারফুরে যা-ঘটেছে, তা
বশীরের ইচ্ছারই পরিণতি।'
ওক্যাম্পোর ভাষ্যমতে,
ফুর,
মাসালিত ও জাঘাওয়া,
এ-তিন জাতিগোষ্ঠীকে
নিশ্চিহ্ন করে দিতে চেয়েছিলেন।
উল্লেখ্য,
এ-তিনটি জাতিগোষ্ঠী
বশীরের বিরুদ্ধে লড়ছে।
ওক্যাম্পো আরও জানান
বশীর সব-সময় দাবী করেন, তিনি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে পাল্টা-ব্যবস্থা নিচ্ছেন,
কিন্তু লক্ষ্য করলে দেখা
যাবে, বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে নয় বরং বেসামরিক লোকজনের বিরুদ্ধেই তিনি সব কয়টি অপরাধ
সংঘটিত হয়েছে।
আইসিসি
শীর্ষ প্রসিকিউটরের দাবী অনুসারে, বশীরের কর্মকান্ডের শিকার হয়েছেন আনুমানিক আড়াই
মিলিয়ন মানুষ।
এর মধ্যে সংঘাতে প্রাণ
হারিয়েছেন ৩৫ হাজারের মতো মানুষ।
এছাড়াও দারফুরে সংঘাতের
পরিণতিতে স্থানান্তর বা ক্ষুধার প্রকোপে পড়ে মারা গেছেন আরো ৮৩ হাজার মানুষ।
বশীরের বিরুদ্ধে
ওক্যাম্পো সর্বমোট ১০টি ওয়ারেন্ট আনার আহবান জানিয়েছেন।
এর মধ্যে ৩টি গণহত্যা
সংশ্লিষ্ট।
এর বাইরে যুদ্ধাপরাধ,
মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ
ছাড়াও হত্যা,
নির্যাতন,
বেসামরিক নাগরিকদের
বিরুদ্ধে হামলা ও লুন্ঠন-কার্যের মত অপরাধের কথা উল্লেখ করেছে ওক্যাম্পো।
তিনি বলেন,
'পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কাজে রাষ্ট্রযন্ত্র,
সেনাবাহিনী,
গোয়েন্দা সংস্থা-সহ
জানজাওয়ীদ মিলিশিয়া বাহিনীকে ব্যবহার করেছেন বশীর।'
এদিকে,
আইসিসির পক্ষ থেকে
বশীরের গ্রেফতারের আহবানটি আসতে না আসতেই কড়া প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে সুদান
কর্তৃপক্ষ।
খার্তুম জানিয়েছে, এ-ধরণের
তৎপরতার ফলে দারফুরে শান্তি প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা ধ্বংস করে দিতে পারে।
ভাইস প্রেসিডেন্ট আলী
ওসমান তাহা সরকারের পক্ষে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বলেন,
'[প্রেসিডেন্টের]
বিরুদ্ধে যে-সব অভিযোগ আনা হয়েছে, তা বিভ্রান্তিকর ও মিথ্যা।'
কোনো-কোনো পর্যবেক্ষক মনে করছেন, আইসিসি'র পক্ষ থেকে এ-ধরণের কড়া অবস্থান গ্রহণের
ব্যাপারটি আখেরে দারফুর পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটাবে।
বিশেষ করে,
চাপের মুখে পড়ে সুদান
কর্তৃপক্ষ জাতিসংঘের সাথে সহযোগিতার পলকা-নীতিটি বাদ দিয়ে বসতে পারে বলে আশঙ্কা করা
হচ্ছে।
এছাড়াও,
দারফুর থেকে এইড
ওয়ার্কার ও শান্তি-রক্ষী বাহিনীকে বিদায় করে দেয়ার মত সিদ্ধান্ত নিয়ে নেয়া হতে পারে
বলে ভয় পাচ্ছেন অনেকে।
এদিকে,
সম্ভবতঃ আইসিসির আহবানের
পরিণতিতে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়ার আশঙ্কা থেকে,
জাতিসংঘের মহাসচিব ব্যান
কী মুনের পক্ষ থেকে দারফুরে অবস্থানরত সংস্থার সকল কর্মীর নিরাপত্তা প্রদানের জন্য
সুদানের প্রতি আহবান জানানো হয়েছে সোমবার।
আরব লীগ জানিয়েছে,
সোমবার আইসিসির পক্ষ থেকে যে-আহবান জানানো হয়েছে, তার প্রেক্ষিতে সদস্য
রাষ্ট্রগুলোর পররাষ্ট্র মন্ত্রীরা অবিলম্বে এক দফা জরুরী বৈঠকে বসবেন।
জানা
গেছে,
আইসিসির তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি
আদালত অবিলম্বে ওক্যাম্পোর অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখতে শুরু করবেন।
এ-প্রক্রিয়া শেষ হতে দু'
থেকে তিন মাস পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।
আদালত যদি শেষ পর্যন্ত
সম্মতি প্রদান করে, তাহলে ক্ষমতাসীন থাকা অবস্থায় কোনো রাষ্ট্রনেতার বিরুদ্ধে চার্জ
গঠনের এটাই হবে আইসিসির পক্ষে প্রথম ঘটনা।
২০০২ সালে আইসিসি গঠিত
হয়েছে।
বর্তমানে জাতিসংঘ আরোপিত
বাধ্যবাধকতার আওতায় আইসিসির পক্ষ থেকে বশীরের বিরুদ্ধে কোনো চার্জ গঠন করা হলে, তা
মেনে নিতে বাধ্য সুদান।
কিন্তু দেশটি যদি তা
মানতে রাজী না হয়, তাহলে 'জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদকে এ-ব্যাপারে পথ খুঁজে বের করতে
হবে' বলে মন্তব্য করেন ওক্যাম্পো।
এর আগে যুদ্ধাপরাধ
সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক আদালতে সার্বিয়ার প্রেসিডেন্ট স্লৌবোদান মিলোসেভিচ ও
লাইবেরিয়ার প্রেসিডেন্ট চার্লস টেইলরের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়েছিলো।
উল্লেখ্য,
বিশেষ পরিস্থিতিতে
এ-ধরণের বিচার শুরুর এখতিয়ার ১০৬-সদস্য বিশিষ্ট সংগঠন আইসিসির আছে।
স্মরণ
করা যেতে পারে,
১৯৮৯ সালের ৩০ জুন রক্তপাতহীন
এক অভ্যূত্থানের মধ্য দিয়ে ক্ষমতা দখলের পর থেকে আফ্রিকার সর্ববৃহৎ রাষ্ট্র সুদানের
ক্ষমতায় আছেন বশীর।
ক্ষমতায় আসার পরে দেশে
অংশতঃ শরীয়া আইন চালু করেন।
২০০৩ সালে জাতিগত
সংখ্যালঘুরা ক্ষমতার অংশীদারিত্বের দাবীতে সংখ্যাগুরু আরবদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ শুরু
করলে দারফুরে হত্যা-হানাহানি শুরু হয়।
লন্ডনঃ ১৪
জুলাই, ২০০৮ |