|
ক্লাব মেডঃ ভূমধ্যসাগর কেন্দ্রিক নতুন আন্তর্জাতিক ফৌরাম গঠিত
মূলতঃ
ভূমধ্যসাগরকে কেন্দ্র করে ইউরৌপ, আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের মোট তেতাল্লিশটি দেশের
রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানেরা ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে মিলিত হয়ে রোববার একটি নতুন
ইউনয়ন ঘোষণা করেছেন। সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য ও কর্মসূচি নিয়ে গঠিত এ-ইউনিয়নের প্রথম
শীর্ষ-সম্মেলনটিতে এমন কিছু নজিরবিহীন কূটনৈতিক সাফল্য অর্জিত হয়েছে, যা
বিশ্ব-রাজনীতিতে সুদূরপ্রসারী প্রভাব তৈরী করবে বলে মনে করা হচ্ছে।
ইউরোপীয়ান
ইউনিয়ন ও ভূমধ্যসাগরীয় দেশসমূহের মধ্যে সু-সম্পর্ক ও সহযোগিতার উদ্দেশ্যে ১৯৯৫ সালে
স্পেইনে যে 'বার্সিলোনা
প্রৌসেস'
শুরু হয়েছিলো, তারই একটি বিশেষ পরণতি হিসেবে
রোববারে ঘোষিত হয়েছে ইউনিয়ন ফর মেডিটেরানীয়ান - সংক্ষেপে ক্লাব মেড।
উল্লেখ্য,
অতীতে ইসরায়েল ও তার আরব প্রতিবেশীদের মধ্যে অমীমাংসেয় বিরোধের কারণে বার্সিলোনা
প্রৌসেসের কোনো অগ্রগতি সাধিত হয়নি। কিন্তু রোববারের শীর্ষ-সম্মেলনে একই টেবিলে
প্রথমবারের মতো বসেছেন ইসরায়েল ও সিরিয়া, আলজিরিয়া ও মরক্কো এবং গ্রীস ও তুরস্কের
মতো পরস্পর শত্রু ভাবাপন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানেরা। একমাত্র লিবিয়া ছাড়া
ভূমধ্যসাগরী আর কোনো দেশ এ-শীর্ষ-সম্মেলনে যোগদান থেকে বিরত রাখেনি নিজেকে। এ-শীর্ষ
সম্মেলনকে কেন্দ্র করে এ-প্রথমবারের মতো কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করলো সিরিয়া ও
লেবানন পরস্পরের রাজধানীতে দূতাবাস খোলার মধ্য দিয়ে,
যা গত শতাব্দীর চল্লিশের দশকে
স্বাধীনতার পর থেকে কখনও ছিলো না।
রোববারের
ঐতিহাসিক শীর্ষ-সম্মেলনের প্রধান ভূমিকা পালনকারী দেশ ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট
নিকৌলাস সারকৌজী সম্মলেনের সমাপ্তি অধিবেশনে বলেন, 'দারুন এক সন্তুষ্টির সাথে
আপনাদের সামনে ঘোষণা করছি যে, ভূমধ্যসাগরীয় ইউনিয়নের জন্য অনুষ্ঠিত এ-শীর্ষ সম্মলেন
সমাপ্ত হয়েছে এবং সম্পূর্ণ ঐক্যমতের ভিত্তিতে একটি [ইউনিয়ন প্রতিষ্ঠার] ঘোষণা গৃহীত
হয়েছে।'
শীর্ষ-সম্মলনে
গৃহীত ঘোষণায় ইউনিয়নের লক্ষ্য সম্পর্কে বলা হয়, 'মেডিটেরানীয়ান ইউনিয়নের গঠন করা
হয়েছে ইউরৌপ, উত্তর আফ্রিকা, মধ্যপ্রাচ্য এবং বলকান দেশসমূহের মধ্যে সম্পর্ক সুদৃঢ়
করার জন্য। [এবং] এটি ১৯৯৫ সালে ইউরৌপীয়ান ইউনিয়নের সূচিত বার্সিলোনা প্রক্রিয়ার
স্তর-উন্নীত করলো।' ক্লাব মেডের সদস্য কারা-কারা তা নিরূপণ করে বলা হয়, 'ইউরৌপীয়ান
ইউনিয়নের ২৭ দেশ আর তার সাথে আলবানিয়া, বসনিয়া-হারজেগোভিনা, ক্রৌয়েশিয়া, নোনাকৌ ও
মন্টেনিগ্রৌ। উত্তর আফ্রিকা থেকে আলজিরিয়া, মরিটিনিয়া, মরোক্কো ও তিউনিসিয়া। এবং
তার সাথে থাকবে তুরস্ক-সহ মিশর, ইসরায়েল, জর্ডান, লেবানন, ফিলিস্তিনী কর্তৃপক্ষ এবং
সিরিয়া।'
ক্লাব মেডের
ম্যান্ডেইট অনুসারে সদস্য-জাতির রাষ্ট্র বা সরকার প্রধানেরা নিয়মিত দ্বিবার্ষিক
শীর্ষ-সম্মেলনে মিলিত হবেন এবং পররাষ্ট্র
মন্ত্রীরা মিলিত হবেন বার্ষিক সম্মেলনে।
উত্তর ও দক্ষিণের মধ্য অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে যুগ্ম প্রেসিডেন্সী থাকবে ইউনিয়নের।
উল্লেখ্য, রোববারে অনুষ্ঠিত
শীর্ষ-সম্মেলনে প্রথম যুগ্ম প্রেসিডেন্সীতে নির্বাচিত হন
ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট নিকৌলাস সারকৌজ়ী এবং মিশরের প্রেসিডেন্ট হোসনি মোবারক।
নতুন ইউনিয়নে
যে-প্রকল্পগুলো আলোচনাধীন রয়েছে, তার মধ্যে অন্তর্ভূক্ত হলোঃ ভূমধ্যসাগেরের দুষণ
পরিষ্কার করা, মহাসড়ক ও জলপথ তৈরী, দুর্যোগে সাড়া দেয়া, নবায়নযোগ্য জ্বালানী শক্তির
বিকাশ - প্রধানতঃ সৌরশক্তির, শিক্ষা ও গবেষণার উন্নয়ন এবং বাণিজ্য প্রসারের
সাহায্যের জন্য উদ্যোগ গ্রহণ।
ঐতিহাসিক ফরাসী
বিপ্লবের বাস্তিল দিবস ১৪ জুলাইয়ের পূর্বদিন তথা ১৩ জুলাই রোববারের এই
শীর্ষ-সম্মেলন প্রেসিডেন্ট সারকৌজীর জন্য নিজের দেশে ও আন্তর্জাতিক পরিধিতে এক
বিশাল রাজনৈতিক সাফল্য ও গৌরব এনে দিয়েছে বলে পর্যবেক্ষক মহল মনে করছেন।
ক্লাব-মেড
শীর্ষ-সম্মেলনের আয়োজন প্রসঙ্গে সারকৌজী বলেন, 'এক রুমের ভিতর সকল ইউরৌপীয়ান
রাষ্ট্র এবং ভূমধ্যসাগরের দক্ষিণ প্রান্তীয় দেশগুলোকে একত্রে নিয়ে আসার ছিলো এক
অসাধারণ বাজি।' তিনি বলেন, 'একটি মহান উদ্যোগের জন্ম হলো, এখন আমাদেরকে এর পূর্ণতা
দান করতে হবে এবং সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।'
ক্লাব-মেড
সারকৌজীর যুগ্ম প্রেসিডেন্ট মিশরের রাষ্ট্রপ্রধান হোসনি মুবারক বলেন, 'আমি নিশ্চিত
যে, এই ইউনিয়ন, এই উদ্যোগ সফল হবেই।'
লন্ডনঃ ১৩ জুলাই, ২০০৮ |