|
বাংলাদেশে সিটি নির্বাচনঃ
রাজশাহী থেকে বাদশার
প্রার্থীতা প্রত্যাহার
রাজশাহী
সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামীলীগ নেতৃত্বাধীন ১৪-দলীয় জোটের সমর্থন পাওয়া মেয়র
প্রার্থী ফজলে হোসেন বাদশা রোববার হঠাৎ করে তার প্রার্থীতা প্রত্যাহার করে নিয়েছেন।
ফলে আওয়ামীলীগ নেতা
খায়রুজ্জামান লিটনই রাজশাহী সিটি নির্বাচনে মেয়র পদে ১৪-দলের সমর্থন পাচ্ছেন।
বাদশার মনোনয়ন
প্রত্যাহার নিয়ে কী ভাবছে তার দল ওয়ার্কার্স পার্টি? বাদশার সিদ্ধান্তের
ব্যাপারটিকে ১৪ দলীয় জোটের বড়ো শরীক আওয়ামী লীগ কীভাবে দেখছে?
এসব ব্যাপারে রোববার
সন্ধ্যায় দু'দলের শীর্ষ পর্যায়ের নেতৃত্বের সাথে কথা বলেছেন ইউকেবেঙ্গলির প্রতিবেদন।
রোববার
বিকেলে সাড়ে ৪টার দিকে রাজশাহীর উপ-নির্বাচন কশিন কার্যালয়ে গিয়ে বাদশা তার
প্রার্থীতা প্রত্যাহার করে নেন।
এ-সময় তার সঙ্গে ছিলেন
আওয়ামী লীগের সাবেক মন্ত্রী সরদার আমজাদ হোসেন ও আওয়ামী লীগের রাজশাহী মহানগর নেতা
রফিক উদ্দিন আহমেদ।
বাংলাদেশের
বার্তা-সংস্থাগুলো জানায়,
প্রার্থীতা প্রত্যাহারের
পর বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির পলিটব্যুরোর সদস্য ফজলে হোসেন বাদশা সাংবাদিকদের
বলেছেন,
'অসামপ্রদায়িক ও গণতান্ত্রিক শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ রাখার জন্য এবং ব্যক্তিগত কারণে আমি
মেয়র পদে আমার প্রার্থীতা প্রত্যাহার করেছি।'
বৃহস্পতিবার চার সিটি করপোরেশনে মেয়র পদে চার প্রার্থীকে সমর্থন দেওয়ার বিষয়টি
চূড়ান্ত করে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪-দলীয় জোট।
রাজশাহীতে সমর্থন দেওয়া
হয় ফজলে হোসেন বাদশাকে।
এর প্রতিবাদ জানিয়ে
রাজশাহীর আওয়ামী লীগ নেতা কর্মীরা ওইদিন দলের মহানগর কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে দিয়ে
বিক্ষোভ করে।
তাৎক্ষণিক এক সমাবেশে তারা
লিটনকে সমর্থন দেওয়ার জন্য ১৪-দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের প্রতি দাবী জানান।
একই দাবী জানিয়ে
শুক্রবার সংবাদ সম্মেলন করে গত ৯ জুলাই আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে কয়েকটি দল ও সামাজিক,
সাংস্কৃতিক সংগঠন নিয়ে
গঠিত নাগরিক কমিটি।
লিটনকে সমর্থন দেওয়ার
বিষয়টি পুর্নর্বিবেচনা করার জন্য ১৪-দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের প্রতি আহ্বান জানায়
কমিটি।
এদিকে
রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে ফজলে হোসেন
বাদশার সরে আসাকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের সঙ্গে দূরত্ব সৃষ্টি হয়েছে ওয়ার্কার্স
পার্টির।
ওয়ার্কার্স পার্টির শীর্ষ
নেতৃত্ব বলছেন,
এ-ঘটনায় ১৪-দলের ঐক্যে ব্যাঘাত
ঘটেছে।
অসাম্প্রদায়িক শক্তির বৃহত্তর
স্বার্থেই মনোনয়পত্র প্রত্যাহার করেছেন বাদশা।
এ-ঘটনার পর রাজশাহী সিটি
কর্পোরেশন নির্বাচনে কাউকেই সমর্থন দেবে না ওয়ার্কার্স পার্টি।
অন্য তিন সিটি
কর্পোরেশনের বিষয়েও দলের পলিট ব্যুরোর বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
অন্যদিকে আওয়ামী লীগ
নেতারা বাদশার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন,
এতে বরং ১৪-দলের ঐক্য
দৃঢ় হবে।
বাদশা নিজেই প্রার্থিতা
প্রত্যাহার করায় বিষয়টি নিয়ে বিরোধের কিছু নেই।
ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন রোববার বিকেলে টেলিফৌনে ইউকেবেঙ্গলিকে
বলেন,
'বাদশার
মনোনয়ন প্রত্যাহারের ঘটনা ১৪-দলের ঐক্যে ব্যাঘাত সৃষ্টি করবে।
১৪-দল মানে কেবল আওয়ামী
লীগ নয়।
এ-ঘটনা জোট-শরিকদের মধ্যে আস্থা
ও বিশ্বাসের সঙ্কট সৃষ্টি করবে।'
মেনন বলেন,
'আমি
মনে করি,
বাদশার মনোনয়ন যথাযথ ছিলো।
তিনি মনোনয়নপত্র
প্রত্যাহার করলেও আমরা রাজশাহীতে আর কাউকেই সমর্থন দিচ্ছি না।'
তবে ফজলে
হোসেন বাদশার মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে আওয়ামী লীগের
সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আমির হোসেন আমু ইউকেবেঙ্গলিকে বলেন,
'রাজশাহীর
পরিস্থিতি উপলব্ধি করে গণতন্ত্র ও অসাম্প্রদায়িক রাজনীতির স্বার্থে বাদশা নির্বাচন
থেকে সরে এসেছেন।
তার সিদ্ধান্তে ১৪-দলের ঐক্য
আরো দৃঢ় হবে।'
বাদশার
মনোনয়ন প্রত্যাহারের কারণ ব্যাখ্যা করে রাশেদ খান মেনন বলেন,
'তিনি
প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলে আওয়ামী লীগের খায়রুজ্জামান লিটন ও বাদশা দু'জনেই হারতেন।
অসাম্প্রদায়িক শক্তি
ভাঙার জন্য প্রথম থেকেই চেষ্টা হচ্ছে।
কিন্তু কেউ যাতে বলতে না
পারে ওয়ার্কার্স পার্টির জন্য এটা হয়েছে, সে-জন্যই বাদশা মনোনয়ন প্রত্যাহার করেছেন।'
কিছুটা ক্ষোভ নিয়ে তিনি
বলেন,
'রাজশাহীতে
নাগরিক কমিটি ও ১৪-দলের নামে অসাম্প্রদায়িক শক্তির ঐক্য বিনষ্ট করা হচ্ছে।
সেখানে ১৪-দলের কোনো
বৈঠক হয়নি।
অন্য তিন সিটি কর্পোরেশনে ১৪-দল
সমর্থিত প্রার্থীদের ওয়ার্কার্স পার্টির সমর্থন করবে কি-না জানতে চাইলে মেনন বলেন,
'তা ভেবে দেখতে হবে।
আমরা বিষয়টি ১৮ তারিখ
পলিট ব্যুরো সভায় রিভিউ করবো।'
অন্যদিকে,
আমির হোসেন আমু বলেন,
'স্থানীয়
পর্যায়ের সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে বাদশা নির্বাচন না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
ফলে এ-সিদ্ধান্ত
কেন্দ্রীয়ভাবে ১৪-দলের ওপর কোনো প্রভাব ফেলবে না।
বাদশা নিজেই প্রার্থিতা
প্রত্যাহার করায় বিষয়টি নিয়ে বিরোধের কিছু নেই।'
আওয়ামী
লীগের সভাপতিমণ্ডলীর আরেক সদস্য তোফায়েল আহমদ ইউকেবেঙ্গলিকে বলেন,
'রাজশাহীর বাস্তব পরিস্থিতি উপলব্ধি করে বাদশা ত্যাগ স্বীকার করেছেন।
শেষ পর্যন্ত নাগরিক
কমিটি ও স্থানীয় ১৪-দলের মতামতের ভিত্তিতেই হবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত।'
ঢাকা থেকে
আবদুর রহিম হারমাছি
১৩ জুলাই
২০০৮ |