|
জিম্বাবুয়ে-নিষেধাজ্ঞার
বিরুদ্ধে রাশিয়া ও চীনের
ভিটৌঃ হতাশ ব্রিটেইন
প্রেসিডেন্ট
রবার্ট মুগাবেকে ক্ষমতা থেকে হঠানোর লক্ষ্যে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদকে ব্যবহার
করে জিম্বাবুয়ের উপরে অবরোধ আরোপের চেষ্টায় ভিটৌ দিয়েছে রাশিয়া ও চীন।
শুক্রবার রাতে উদ্যোগটি
সফল হলে বিদেশ ভ্রমণের ক্ষেত্রে কড়াকড়ির মধ্যে পড়তেন প্রেসিডেন্ট রবার্ট মুগাবে ও
জিম্বাবুইয়ের তেরোজন সিনিয়র নেতা।
এছাড়াও জিম্বাবুয়ের
বিরুদ্ধে সামরিক ও অর্থনৈতিক অবরোধ আরোপের চেষ্টাও করা হয়েছিলো।
এদিকে নিরাপত্তা পরিষদের
মাধ্যমে গৃহীত উদ্যোগ ব্যর্থ হবার ফলে স্পষ্টতঃ
হতাশ হয়ে পড়েছে মুগাবেকে বিদায় করার ব্যাপারে প্রধান আগ্রহী দেশ
ব্রিটেইন।
যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকেও
উপরোক্ত দু'দেশের
মুগাবে-প্রীতির সমালোচনা করা হয়েছে।
পশ্চিমা শক্তিগুলোর মতে
এহেন সিদ্ধান্তের ফলে জিম্বাবুয়ের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো অধিকতর ক্ষতিগ্রস্ত
হবে।
দেশের
অবস্থান ব্যাখ্যা করে জাতিসংঘে নিযুক্ত রুশ রাষ্ট্রদূত ভিতালী চুরকিন জানান,
নিরাপত্তা পরিষদের
মাধ্যমে জিম্বাবুয়ের বিরুদ্ধে অবরোধ গ্রহণ করাটা হতো এখতিয়ার বহির্ভূত কাজ।
এ-ধরণের পদক্ষেপ
আর্ন্তজাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য হুমকি-স্বরূপ বলেও মত দেন রাষ্ট্রদূত।
জাতিসংঘে চীনের
রাষ্ট্রদূত ওয়াং গুয়াংইয়া জানান,
অভ্যন্তরীণ সমস্যা
নিরসনের দায়িত্ব জিম্বাবুয়ের হাতে ছেড়ে দেয়াটাই সমীচিন।
তিনি জানান,
বাইরে থেকে হস্তক্ষেপ
করার মতো পরিস্থিতি জিম্বাবুয়েতে তৈরী হয়নি।
এদিকে,
জাতিসংঘে নিযুক্ত
ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত স্যার জন স্যাওয়ার্স চীন ও রাশিয়ার পদক্ষেপের ব্যাপারে আক্ষেপ
করে শনিবার বলেন, "জিম্বাবুয়ের
জনগণকে এ-আশা দিতে হবে যে তাদের দুঃখের দিন শেষ হবার একটি সম্ভাবনা আছে।"
স্যাওয়ার্স দাবী করেন,
নিরাপত্তা পরিষদ
জিম্বাবুয়ের জনগনের জন্য আশার বার্তা প্রদানে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে।
ব্রিটিশ
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডেইভিড মিলিব্যান্ডও পিছিয়ে থাকেননি আক্ষেপ প্রকাশে।
শনিবার তিনি বলেন,
জিম্বাবুয়ের ব্যাপারে
একটি শক্তিশালী ও স্পষ্ট সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা পরিষদের ব্যর্থতা
দেখে আমি ভীষণভাবে হতাশ হয়েছি।
শক্তিশালী ও স্পষ্ট
সিদ্ধান্ত বলতে অবরোধ আরোপের ব্যাপারটিকেই বোঝাতে চেয়েছেন মিলিব্যান্ড।
তিনি আরো জানান কয়েকদিন
আগে জি-৮ সম্মেলনের সময় জিম্বাবুয়ের উপরে অর্থনৈতিক-সহ অন্যান্য অবরোধ আরোপের
ব্যাপারে সম্মত হয়েছিলো রাশিয়া।
ব্রিটিশ বিদেশ মন্ত্রী
আরো দাবী করেন চীনের ভূমিকাটি নিয়েও সন্তুষ্ট হতে পারবে না জিম্বাবুয়ের জনগণ।
জাতিসংঘে
নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত জ্যালমে খালিলজাদ সংবাদ-মাধ্যমকে জানান,
চীন ও রাশিয়া একাট্টা
হয়ে মুগাবের পক্ষ অবস্থান নেয়ার ব্যাপারটি তার কাছে বিরক্তিকর।
উল্লেখ্য,
পুরো পশ্চিমা বিশ্ব
বর্তমানে রবার্ট মুগাবে সরকারকে উচ্ছেদের প্রচেষ্টায় লিপ্ত আছে।
তাদের মতে মুগাবে একজন
'একনায়ক' ও 'গণতন্ত্র হত্যাকারী' মানুষ।
ব্রিটিশ উপনিবেশ আমলের
ভূমি-ব্যবস্থা,
যা বসতি-স্থাপনকারী স্বল্প
সংখ্যক শ্বেতাঙ্গদের জন্য ঢালাওভাবে ভূমির ব্যবস্থা করে দিয়েছিলো,
সংস্কারের উদ্যোগ
গ্রহনের পর থেকেই পশ্চিমা বিশ্ব বিশেষত ব্রিটেইনের চক্ষুশূলে পরিণত হয়েছে মুগাবে।
এছাড়াও তার বিরুদ্ধে
নির্বাচনী অব্যবস্থা ও বিরোধীদের উপরে নিপীড়ন চালানোর অভিযোগ আছে।
লন্ডনঃ ১২ জুলাই,
২০০৮ |