London:

Home

About us

Services

Contact

Archive

সরকার গঠনে নানামুখী তৎপরতাঃ নেপাল ভাঙ্গার আশঙ্কা প্রচণ্ডের

সরকার গঠন নিয়ে প্রধান দলগুলোর নানামুখী তৎপরতা প্রবল হয়ে উঠেছে নেপালেশনিবার এ-বিষয়ে সাংবিধানিক পরিষদের নির্বাচনে বিজয়ী কমিউনিস্ট পার্টি অফ নেপাল (মাওবাদী) [সিপিএন-এম] ও কমিউনিস্ট পার্টি অফ নেপাল-ইউনিফায়েড মার্কসিস্ট লেনিনিস্টের [সিপিএন-ইউএমএল] এর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছেঅন্যদিকে, এপ্রিলের দশ তারিখে নির্বাচনে বিপুলভাবে পরাজিত হওয়া নেপালের প্রাচীনতম দল কংগ্রেসের প্রতি সরকার গঠনের ব্যাপারে সমর্থন দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে মদেশিয়া জন-অধিকার ফৌরামএদিকে আবার বড়ো দলগুলোর নানামুখী তৎপরতার ফাঁকে নেপালের ভেঙ্গে যাবার আশঙ্কা ব্যক্ত করে আলোড়ন তৈরী করেছেন মাওবাদী নেতা পুষ্পক কুমার দাহাল ওরফে প্রচন্ড

সংবাদ-মাধ্যম সূত্রে প্রকাশ, শনিবার রাজধানী কাঠমান্ডু থেকে সামান্য পূর্বে পর্যটন এলাকা হিসাবে বিখ্যাত ধূলিখেলে বৈঠকে বসে সিপিএন-এম ও সিপিএন-ইউএমএলউভয় পক্ষের মধ্যে সরকার গঠন সংক্রান্ত বেশ কিছু দিক নিয়ে কথাবার্তা হয়েছে বলে জানা গেছেএছাড়াও ক্ষমতার অংশীদার হবার ক্ষেত্রে নুন্যতম ঐকমত্যে পৌঁছাবার পথের কর্মসূচিগুলো নিয়েও কথাবার্তা হয়েছে উভয় পক্ষে এছাড়াও নতুন ক্যাবিনেটে কারা স্থান পাবেন-না-পাবেন, সে-ব্যাপারে দুই কমিউনিস্ট পার্টির মধ্যে আলাপ হয়েছে শনিবারসরকার গঠনের ব্যাপারে শুধু মাওবাদীরাই নয়, তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে কংগ্রেসওশনিবার মদেশিয়া জন-অধিকার ফৌরাম জানিয়েছে, সরকার গঠনের ক্ষেত্রে তারা কংগ্রেসকে সঙ্গ দিতে রাজী আছেএছাড়াও সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও কংগ্রেস নেতা গিরিজা প্রসাদ কৈরালাকে নেপালের প্রথম প্রেসিডেন্ট বানানোর ব্যাপারেও সমর্থন দিতে রাজী হয়েছে ক্ষুদ্র জাতিসত্ত্বার মানুষজনের দল জনঅধিকার ফৌরাম

এ-প্রসঙ্গে ফৌরামের নেতা বিজয়া গাছাদর বলেন, 'আমরা মনে করি মদেশিয়া সম্প্রদায় থেকেই নেপালের প্রথম প্রেসিডেন্ট আসা উচিততবে গিরিজা প্রসাদ কৈরালাকে সর্বোচ্চ পদের জন্য বেছে নেয়া হলে আমরা আপত্তি করতে যাবো না।' কৈরালার পক্ষে সমর্থন ব্যক্ত করলেও, ঐকমত্যের ভিত্তিকে একজন প্রেসিডেন্ট বেছে নেয়ার জন্য সর্বমহলের প্রতি আহবান জানিয়েছেন গাছাদরতিনি আরও জানিয়েছেন, মাওবাদীদের নেতৃত্বে সরকার গঠিত হলে মদেশিয়া ফৌরাম সরকারে যোগদানে পরিবর্তে বিরোধী দলের আসনে বসবেকয়েকদিন মদেশিয়া ফৌরামকে সরকারে যোগ দেয়ার আহবান জানিয়েছিলেন প্রচন্ডকিন্তু সংগঠনের পক্ষ থেকে মাওবাদীদের সে-আহবান প্রত্যাখান করা হয়েছিলোউল্লেখ্য, মদেশিয়া ফৌরাম নামক সংগঠনটি ভারত সীমান্ত সংলগ্ন মদেশিয়া সম্প্রদায়ের আবাস-স্থল তেরিয়া অঞ্চলের জন্য স্বায়ত্ত-শাসন চায়। 

এদিকে, সরকার গঠনের তৎপরতার মধ্যেই নেপালের ভবিষ্যত নিয়ে আশঙ্কা ব্যক্ত করেছেন মাওবাদী নেতা প্রচন্ডশুক্রবার কাঠমান্ডুতে রিপৌটার্স ক্লাব আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখার সময় প্রচন্ড জানান, ঐকমত্যের রাজনীতি ব্যর্থ হলে নেপাল ভেঙে যাবার সমূহ আশঙ্কা বিরাজ করছেএ-ব্যাপারে সতর্ক-বার্তা দিতে গিয়ে প্রচন্ড উল্লেখ করেন, জাতিগত ইস্যুগুলোর সাথে  সাম্প্রদায়িকতার রং মাখিয়ে দিয়ে দেশকে বিচ্ছিন্নতার পথে টেনে নেয়ার চেষ্টা চালানো হচ্ছে তিনি এজন্য 'প্রতিক্রিয়াশীল মহল এবং বিদেশী শক্তিকে' দায়ী করেনউল্লেখ্য, কিছুদিন ধরে নেপালের দক্ষিণ দিকে ভারত সীমান্তবর্তী এলাকায় মদেশিয়া সম্প্রদায় ভিত্তিক দলগুলোর নেতাদের কারও কারওকে বিছিন্নতাবাদের পক্ষে কথাবার্তা বলতে শোনা যাচ্ছে

শুক্রবারের বক্তব্যে প্রচন্ড আরও জানান দেশের হৃার্থ ঐকমত্য প্রয়োজনীয়, কিন্তু কোনো নির্দিষ্ট পদের জন্য কোনো দলের পক্ষ থেকে অনড় আচরণ করা হলে তা ঐকমত্যের পরিপ্ত্রন্ডী হিসাবেই বিবেচিত হবে প্রেসিডেন্ট বা সাংবিধানিক পরিষদের চেয়ারম্যান পদের জন্য কংগ্রেস বা সিপিএন-ইউএমএল এর পক্ষ থেকে যেভাবে অনমনীয় মনোভাব ব্যক্ত করা হচ্ছে, সে-দিকে ইঙ্গিত করেই এসব মন্তব্য করেন প্রচন্ডউল্লেখ্য, ক্ষমতা ভাগাভাগির ব্যাপারে বড়ো দলগুলো বুঝাপড়াতে পৌঁছুতে না পারার কারণে গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই নেপালে রাজনৈতিক অচলাবস্থা চলছেবিশেষ করে সাংবিধানিক পরিষদে সংবিধান সংশোধনী সংক্রান্ত বিল উত্থাপিত হবার পর থেকে রাজনৈতিক পরিস্থিতি জটিলতর হয়ে উঠেছে নেপালে। 

লন্ডনঃ ১২ জুলাই, ২০০৮

 

আজকের প্রধান খবর8

জুলাই আর্কাইভ 8

আর্কাইভ8

 
 

© 2007 Confidence Services Ltd.