London:

Home

About us

Services

Contact

Archive

ছোটদের সহিংতার পিছনে বড়োদের লোভ ও রূঢ়তাঃ স্যার স্টিয়ার

সাম্প্রতিক-কালে ব্রিটেইনের টীনএইজদের মধ্যে ব্যাপকহারে ছুরি ও বন্দুক ব্যবহারের প্রবণতা মাথাচাড়া দিয়ে ওঠার পিছনে প্রাপ্তবয়ষক মানুষজনের লোভ-লালসা আর রূঢ় আচার-আচরণের সংযোগ আছে বলে দাবী করা হয়েছে প্রকাশিতব্য একটি সরকারী প্রতিবেদনেএতে আরও বলা হয়েছে, টীনএইজদের মধ্যে সহিংস আচরণ রোধের ব্যাপারে অভিভাবকদেরকে অবশ্যই অধিক দায়িত্ব গ্রহণ করতে হবে এছাড়াও বিদ্যমান ভয়াবহ সমস্যাটির জন্য কম্প্রিহেনসিভ স্কুলগুলোকে দায়ী করার যে-প্রবণতা গড়ে উঠেছে, তারও কড়া সমালোচনা করা হয়েছে 'স্কুল বিহেভিয়ার পলিসী' মূল্যায়ন সংক্রান্ত প্রতিবেদনটিতে

সোমবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিবেদনটি কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করার কথাতবে শুক্রবার এর বিভিন্ন দিক সম্পর্কে গার্ডিয়ান পত্রিকার সাথে কথা বলেছেন প্রতিবেদন প্রস্তুতকারী টীমের প্রধান স্যার ালান স্টিয়ার উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে ব্রিটেইনে টীনএইজদের মধ্যে ছুরি-বন্দুক ব্যবহারের প্রবণতা বেড়ে গেছে ভয়ঙ্করভাবেচলতি বছরের শুরু থেকে এ-পর্যন্ত শুধুমাত্র লন্ডন শহরেই টীনএজ ছুরি-সন্ত্রসের পরিণতিতে ১৯ জন টীনএইজ প্রাণ হারিয়েছে

লান স্টিয়ার - যিনি পূর্ব লন্ডনের ইলফৌর্ডের সেভেন কিংস হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক - জানিয়েছেন, সমস্যা থেকে উত্তরণের উপায় হিসাবে প্রতিবেদনটিতে বেশ কিছু সুপারিশ অর্ন্তভূক্ত করা হয়েছেসুপারিশমালার মধ্যে স্কুলে শিশুদের অসদাচরণ রোধে অভিভাবকদের উপরে নতুন করে চাপ সৃষ্টির প্রয়োজনীয়তার কথা বলা হয়েছে এছাড়া ই-মেইলে শিক্ষক-অভিভাবক যোগাযোগের সুযোগ সৃষ্টি এবং অনলাইন রিপৌর্টিং পদ্ধতি চালুর সুপারিশ করা হয়েছেটীনএইজদের অসদাচরণের জন্য কম্প্রিহেনসিভ স্কুলগুলোকে প্রতিনিয়ত দায়ী করার যে-প্রবণতা গড়ে উঠেছে, তা ঠিক নয় বলেও মত প্রকাশ করা হয়েছে সরকারের জন্য প্রণীত প্রতিবেদনটিতেগবেষকদের মতে কম্প্রিহেনসিভ স্কুলগুলো হচ্ছে একমাত্র স্থান, যেখানে সহিংসা আক্রান্ত কমিউনিটিগুলোর টীনএজরা নিরাপদ বোধ করতে পারে

লন্ডনের রাস্তাঘাটে টীনএইজদের বেঘোরে প্রাণ হারানোর ঘটনাগুলোকে হৃদয়-বিদারক আখ্যা দিয়ে স্যার ালেন বলেন, 'এ-হত্যাকান্ডগুলো এক-ধরণের সহিংস উপ-সংস্কৃতির অংশকিন্তু আমাদের [প্রাপ্তবয়ষ্ক]ও এক্ষেত্রে কিছু দায়-দায়িত্ব আছেঅনেক সময় একজন প্রাপ্তবয়ষক মানুষ হিসাবে ইয়ংস্টারদের অনুসরণ-উপযোগী আচরণ করি না আমরা' বর্তমান ব্রিটিশ সমাজ-ব্যবস্থার স্বরূপ ব্যাখ্যা করে তিনি আরও বলেন, 'আমরা লোভ-লালসা ভিত্তিক এক সংস্কৃতিতে জীবন-যাপন করছিআমরা পথে-ঘাটে একে অপরের সাথে রূঢ় আচরণ করছিশিশুরা এসব লক্ষ্য করে'

'স্কুল বিহেভিয়ার পলিসী' মূল্যায়ণ সংক্রান্ত প্রতিবেদনের প্রনেতা স্যার স্টিয়ার উল্লেখ করেন, ব্রিটেইনের শিশুদের ক্ষেত্রে কোন্‌ জিনিসটি ভুল হচ্ছে তা নিয়ে অনেকের মনেই প্রশ্ন জেগে আছেক্রমশঃ সহিংস হয়ে ওঠার ক্ষেত্রে টীনএইজদের দায় থাকার কথা স্বীকার করেন স্টিয়ারকিন্তু তিনি জানান, টীনএইজদের বাড়ীর ভিতর কী ঘটছে-না-ঘটছে, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলার অবকাশ আছেএক্ষেত্রে টীনএইজদের গড়ে তোলার ব্যাপারে অভিভাবকদের দায়-দায়িত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দেন তিনিস্টিয়ার এ-প্রসঙ্গে বলেন, 'সরকার নয়, অভিভাবকরাই শিশুদের গড়ে তোলেন'

শিশুদের গড়ে তোলার ক্ষেত্রে অভিভাবকদের দায়-দায়িত্বের কথা বলা হলেও, একচেটিয়াভাবে অভিভাবকদের ঘাড়ে সব দায়ের চাপানোর ব্যাপারটি কোনোভাবেই গঠনমূলক নয় বলেই উল্লেখ করা হয়েছে প্রতিবেদনে এছাড়াও, শিশুদের স্বার্থে সমস্যা-আক্রান্ত অভিভাবকদের ব্যাপারে হস্তক্ষেপের সরকারী পরিকল্পনার প্রতিও সমর্থন জানানো হয়েছে স্টিয়ারদের প্রতিবেদনেএক্ষেত্রে পরিবারগুলোর 'অধিকার' 'দায়-দায়িত্ব' উভয় দিকেই নজর রাখার প্রয়োজনীয়তা কথা বলা হয়েছেএমনকি, যে-স্বল্প সংখ্যক অভিভাবক স্কুলের তাদের সন্তানদের অসদাচরণের পক্ষে অবস্থান গ্রহণ করেন, তাদের ব্যাপারে করণীয় প্রসঙ্গেও আলোচনা করা হয়েছে প্রতিবেদনেউল্লেখ্য, কখনও-কখনও অসদাচরণের জন্য শাস্তি পাওয়া শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের কেউ-কেউ স্কুল কর্তৃপক্ষের সাথে প্রদত্ত শাস্তির ব্যাপারে দ্বিমত পোষণ করে থাকেন

কম্প্রিহেনসিভ স্কুলগুলোকে টীনএইজদের সহিংস হয়ে ওঠার গোড়ার স্থান হিসাবে দেখাবার বিদ্যমান প্রবণতার কড়া সমালোচনা করে স্যার স্টিয়ার দাবী করেন, এর মধ্যে বাস্তবতার লেশমাত্র নেই তিনি বলেন, 'কম্প্রিহেনসিভ [স্কুল]গুলোতে পুরো বিশৃঙ্খলা চলছে, এমন ধারণা দেয়া লেখালেখিগুলো পড়ে আমি ক্ষুব্ধ হয়ে উঠি এটা সত্য নয়। [স্কুলগুলোর] অধিকাংশই হচ্ছে ধ্বংসাত্মক এক সমাজ-ব্যবস্থার ভিতরে শিক্ষার্থীদের জন্য স্বর্গ-স্বরূপ' আলোচ্য প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ৯০ শতাংশ অভিভাবক তাদের সন্তানদের স্কুলগুলোকে পছন্দ করেনএকই সাথে বলা হয়েছে, স্কুলগুলো বর্তমানে যে-ভাবে আছে, তার চেয়েও ভালো হয়ে ওঠার সুযোগ অবশ্যই আছেব্রিটেইনে টীনএইজদের হতাশাকর পরিস্থিতির সমাপ্তি টানার ক্ষেত্রে অভিভাবকদের ভূমিকার উপরে গুরুত্ব আরোপ করা হলেও, প্রতিবেদন প্রনয়কারীরা মনে করেন, পরিস্থিতি যখন খারাপের দিকে চলে যায়, তখন অন্যদিকে তাকিয়ে না থেকে স্কুলগুলোর উচিত হবে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেয়া

লন্ডনঃ ১১ জুলাই, ২০০৮

 

আজকের প্রধান খবর8

জুলাই আর্কাইভ 8

আর্কাইভ8

 
 

© 2007 Confidence Services Ltd.