|
মূদ্রা-বিনিময় হারের কারণে
আর্থিক
ক্ষতির মুখে পড়েছে ভ্যাটিকান
ইউরোর
তুলনায় মার্কিন ডলারের দাম কমে যাবার পরিণতিতে আর্থিক লোকসানের মধ্যে পড়ে গেছে
ভ্যাটিকান।
সদ্য-প্রকাশিত বার্ষিক আর্থিক
প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে ২০০৭ সালে ভ্যাটিকানের ক্ষতির পরিমাণ ৯.১ মিলিয়ন ইউরো
(৭.২৫ পাউন্ড)।
উল্লেখ্য,
চার বছরের মধ্যে এই
প্রথমবারের মতো আর্থিক ক্ষতির মধ্যে পড়লো রৌমান ক্যাথলিকদের সর্বোচ্চ
এ-প্রতিষ্ঠানটি।
বুধবার
প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়,
মুদ্রা-বিনিময়ের
(বিশেষতঃ ডলারের সাথে ইউরোর) ক্ষেত্রে বছর-ব্যাপী ধারাবাহিক উত্থান-পতনের কারণে
ভ্যাটিকানকে ক্ষতির মুখ দেখতে হয়েছে।
উল্লেখ্য,
ভ্যাটিকানের আয়-ব্যয়
পরিচালিত হয় ইউরৌতে।
সারা বিশ্ব থেকে রৌমান
ক্যাথলিকদের পাঠানো অনুদান হচ্ছে ভ্যাটিকানের আয়ের অন্যতম ভিত্তি।
এ-অনুদানের মধ্যে আবার
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যাথলিকদের কাছ থেকে আসে এককভাবে সবচেয়ে বড়ো অংশ।
গত অর্থ-বছরে মার্কিন
ক্যাথলিকরা ডৌনেশন বাবদ ভ্যাটিকানকে প্রায় ১৯ মিলিয়ন ডলার (৯.৫ মিলিয়ন পাউন্ড)
পাঠিয়েছিলো।
কিন্তু ইউরোর বিপরীতে ডলারের দর
কমে যাবার কারণে মার্কিনীদের অনুদানের অঙ্ক থেকে ভ্যাটিকানের তেমন একটা ফায়দা হয়নি।
হিসাব অনুসারে,
২০০৭ অর্থ-বছরে
ভ্যাটিকানের আয় হয়েছে ২৩৬.৭ মিলিয়ন ইউরো।
পক্ষান্তরে,
২৪৫.৮ মিলিয়ন ইউরৌ।
ডলারের বিনিময় মান হ্রাস
পাবার পূর্ববর্তী তিন বছরে ভ্যাটিকানের মুনাফার পরিমাণ ছিলো সর্বমোট ১৫ মিলিয়ন ইউরো।
তবে জানা
গেছে,
ডলারের দর-পতনে যতোটা ক্ষতি
হয়েছিলো,
প্রৌপার্টী ব্যবসা থেকে তার
কিছুটা হলেও পুষিয়ে নিয়েছে ভ্যাটিকান।
গত অর্থ-বছরের প্রপার্টি
দাম-বৃদ্ধির সুযোগে বাড়তি ৪ মিলিয়ন আয় হয়েছে ভ্যাটিকানের।
উল্লেখ্য,
পুরো রৌম শহর-জুড়ে
প্রচুর সংখ্যক প্রপার্টির মালিক এ-প্রতিষ্ঠানটি।
গত বছর বাড়ী-ভাড়া বাড়িয়ে
এবং ভাড়াটে উচ্ছেদের হুমকি দিয়ে সর্ব-মহল থেকে সমালোচনার মধ্যে পড়েছিলো ভ্যাটিকান।
এমনকি বেশ কিছু লোক রৌমে
বসে ভ্যাটিকানের বিরুদ্ধে একটি সংগঠনও দাঁড় করিয়ে ফেলেছিলেন।
এসব লোকেরা দাবী করেন,
ভ্যাটিকান তাদেরকে
ভাড়া-বাড়ী থেকে বের করে দিয়ে সে-সব বাড়ীকে হৌটেলে রূপান্তরিত করে ফেলেছে।
ডলারের
মূল্য হ্রাসজনিত কারণে লোকসানের মধ্যে পড়লেও,
বিপুল সম্পদের মালিকানা,
ভাড়া বৃদ্ধি বা ভাড়াটে
উচ্ছেদের চেষ্টার মতো ব্যাপারগুলো নিয়ে সমালোচনা মধ্যে পড়তে হচ্ছে ভ্যাটিকানকে।
বিশেষ করে এ-বছরের
শুরুতে ভ্যাটিকানের পক্ষ থেকে প্রকাশিত 'নৈতিক পাপসমূহের' তালিকা ধরেই কথাবার্তা
বলছেন সমালোচনাকারীরা।
তালিকাতে 'অতিরিক্ত
পরিমাণে সম্পদ হস্তগত করাকে' নৈতিক অপরাধের অর্ন্তভূক্ত করা হয়েছে।
এখন সমালোচকরা বলছেন,
অতিরিক্ত সম্পদ হস্তগত
করাটা যদি পাপ হয়,
তাহলে ভ্যাটিকানের আনুমানিক ৪
বিলিয়ন পাউন্ড সম্পদের মালিকানার ব্যাপারে বক্তব্য কী হবে?
আরও জানা গেছে,
১৯২৯ সালে পাস হওয়া এক
আইনের বরাতে প্রৌপার্টী ট্যাক্স রেয়াত পেয়ে আসছে ভ্যাটিকান।
লন্ডনঃ ১০ জুলাই, ২০০৮ |