|
বাংলাদেশে ৪
সিটিতে ১৪-দলীয় মেয়র প্রার্থীর চূড়ান্ত
তালিকা ঘোষণা
বাংলাদেশে
চার সিটি করপোরেশন নির্বাচনের জন্য আওয়ামীলীগ নেতৃত্বাধীন ১৪-দলের মেয়র প্রার্থী
চূড়ান্ত করা হয়েছে।
রাজশাহী সিটি করপোরেশনে
ফজলে হোসেন বাদশা,
সিলেটে বদরউদ্দীন আহমেদ কামরান,
খুলনাতে তালুকদার আব্দুল
খালেক ও বরিশালে শওকত হোসেন হিরণকে সমর্থন দেবে ১৪-দল।
বৃহস্পতিবার রাতে আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জিল্লুর রহমানের বাসায় ১৪-দলের
বৈঠকে এ-চারজন প্রার্থী চূড়ান্ত করা হয়েছে।
বৈঠক শেষে এক সংক্ষিপ্ত
সংবাদ সম্মেলনে জিল্লুর রহমান এ-চার মেয়র-প্রাথীর নাম প্রকাশ করেন।
রাজশাহী সিটি করপোরেশনে
১৪-দলীয় জোটের সমর্থন পাবেন ওয়ার্কার্স পার্টির পলিট ব্যুরোর সদস্য ফজলে হোসেন
বাদশা।
সিলেট সিটিতে কারাবন্দী আওয়ামী
লীগ নেতা ও বর্তমান মেয়র বদরউদ্দীন আহমেদ কামরান,
খুলনায় আওয়ামী লীগের
কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্য তালুকদার আব্দুল খালেক এবং বরিশালে মহানগর
আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক শওকত হোসেন হিরণকে মেয়র প্রার্থী হিসেবে সমর্থন দেবে ১৪-দল।
চার
সিটির জন্য প্রার্থী চূড়ান্ত করার বিষয়ে ১৪-দলের নেতাদের মধ্যে গত কয়েকদিন ধরেই
আলোচনা চলছিলো।
সিলেট,
খুলনা ও বরিশালে
আওয়ামীপন্থী প্রার্থীকে ১৪-দলের পক্ষ থেকে সমর্থন দেয়া নিয়ে কোনো সমস্যা না থাকলেও
জটিলতা চলছিল রাজশাহীর মেয়র প্রার্থী নিয়ে।
আওয়ামী লীগের
খায়রুজ্জামান লিটন ও ওয়ার্কার্স পার্টির ফজলে হোসেন বাদশা রাজশাহী সিটিতে মেয়র
প্রার্থী হিসেবে ১৪-দলের সমর্থন দাবী করলেও জোট শেষ পর্যন্ত বাদশাকেই সমর্থন দেওয়ার
সিদ্ধান্ত নিলো।
এদিকে,
খায়রুজ্জামান লিটন
জানিয়েছেন দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সিদ্ধান্ত যাই হোক না কেনো,
তিনি নির্বাচন করবেন।
বৃহস্পতিবার রাতে
টেলিফৌনে ইউকেবেঙ্গলি প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে খায়রুজ্জামান লিটন বলেন,
'নাগরিক কমিটি আমাকে
প্রার্থী করেছে।
এ-অবস্থায় আমার সরে দাঁড়ানোর
সুযোগ নেই।
তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে কথা না
বলে কেন্দ্র থেকে এই সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে।
আমি এতে ক্ষুব্ধ।
ওয়ার্কার্স পার্টি ছাড়া
রাজশাহীতে ১৪-দলভুক্ত সবাই আমার সঙ্গে রয়েছে।
আমি নির্বাচন করবই।'
এ-ব্যাপারে ফজলে হোসেন
বাদশার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ইউকেবেঙ্গলিকে বলেন,
'আওয়ামী লীগ সাংগঠনিকভাবে এর সমাধান করবে।
আমি ব্যক্তিগতভাবেও
উদ্যোগ নেবো।'
১৪-দল
সমর্থিত প্রার্থীদের নাম ঘোষণার পর সাংবাদিকরা জিল্লুর রহমানের কাছে জানতে চান,
নয়টি পৌরসভায় কারা
১৪-দলের সমর্থন পাবে?
এর জবাবে তিনি বলেন,
'স্থানীয়ভাবে এ-ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।'
এর আগে জিল্লুর রহমান
১৪-দলের পক্ষ থেকে শেখ হাসিনা ও আব্দুল জলিলের নিঃশর্ত মুক্তি,
মোহাম্মদ নাসিমকে
সুচিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানো,
অবিলম্বে জরুরী অবস্থা
প্রত্যাহার,
জাতীয় নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা,
দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ ও
রেশন ব্যবস্থা চালু,
ট্রেইড ইউনিয়নের কর্মকাণ্ড
চালুর অনুমতি এবং যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবী জানান।
জিল্লুর
রহমানের সভাপতিত্বে প্রায় দেড় ঘণ্টার এ-বৈঠক আওয়ামী লীগের আমির হোসেন আমু,
তোফায়েল আহমদ,
সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত ও
মতিয়া চৌধুরী;
ওয়ার্কার্স পার্টির রাশেদ খান
মেনন ও বিমল বিশ্বাস;
জাতীয় সমাজমান্ত্রিক
দলের (জাসদ-ইনু) মাঈনুদ্দিন খান বাদল ও
শিরীন আখতার;
গণতন্ত্রী পার্টির নুরুল
ইসলাম;
গণ আজাদী লীগের আব্দুস সামাদ;
ন্যাপের এনামুল হক ও
আমিনা আহমেদ এবং
সাম্যবাদী দলের দিলীপ বড়ুয়া উপস্থিত ছিলেন।
আগামী ৪
আগষ্ট চার সিটি করপোরেশন ও নয়টি পৌরসভার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
বিএনপি নেতৃত্বাধীন চার
দলীয় জোট তাদের নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া-সহ অন্যান্য নেতাদের মুক্তি ছাড়া বর্তমান
সরকারের সময়ে কোনো নির্বাচনে অংশ নেবে না বলে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছে।
তবে কেন্দ্রের ঘোষণা
অমান্য করে চার সিটি করপোরেশন-সহ নয়টি পৌরসভার নির্বাচনেই বিএনপি'র প্রার্থীরা
প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে।
ঢাকা
থেকে আবদুর রহিম হারমাছি
১০
জুলাই, ২০০৮ |