|
বাংলাদেশে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐক্য চাইলেন খালেদা জিয়া
বাংলাদেশের
বর্তমান রাজনৈতিক সঙ্কট থেকে উত্তরণের জন্য দেশটির সকল রাজনৈতিক
দলগুলোর ঐক্য চেয়েছেন
বর্তমানে কারাবন্দিনী সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।
মাস দেড়েক আগে দলটির
ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব খন্দকার দেলোয়ার হোসেন একই আহ্বান জানিয়েছিলেন।
সে-সময় অন্যতম বৃহত্তম
রাজনৈতিক দল আওয়ামীলীগ সে-প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখান করেছিলো।
বুধবার
সংসদ ভবনের বিশেষ আদালতে গ্যাটকো দুর্নীতি মামলার অভিযোগ গঠনের শুনানির পর,
অন্যতম আসামী খালেদা
জিয়া সাংবাদিক ও আইনজীবীদের সামনে ঐক্যের ডাক দিয়ে বলেন,
'এখন ঝগড়া বিবাদের সময় নয়,
বর্তমান সঙ্কট থেকে
উত্তরণ ও একটি অবাধ,
সুষ্ঠু এবং নিরপেক্ষ নির্বাচনের
¯^v‡_©
সব বির্তক ভুলে আমাদের সকলকে
ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।'
১/১১
বিএনপি সৃষ্টি করেছে- আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জিল্লুর রহমানের এ-রকম অভিযোগ
সম্পর্কে খালেদা জিয়ার অভিমত জানতে চাইলে উপরের মন্তব্য করে আরও বলেন,
'কার জন্য কী হয়েছে,
তা জনগণই জানেন।
ভিডিও ক্যাসেটও আছে।
কীভাবে মানুষ হত্যা করা
হয়েছে,
তা আপনারাই (সাংবাদিক) দেখেছেন।
এ-নিয়ে আমাদের মধ্যে এখন
বির্তক সৃষ্টি করা সঠিক হবে না।'
এখন যে-সঙ্কট চলছে,
তা উত্তরণে কাজ করা চাই।
খালেদা জিয়া আবারও তার
দু'ছেলে তারেক রহমান ও আরাফাত রহমান কোকোকে চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানোর দাবী
জানান।
তারেক ও কোকোর বর্তমান অবস্থা
ব্যাখ্যা করে খালেদা জিয়া বলেন,
তাদের মিথ্যা মামলায়
জড়ানো হয়েছে।
তারা অসুস্থ।
তাদের চিকিৎসা এখানে
হচ্ছে না।
তাই সরকারের কাছে দ্রুত দেশের
বাইরে পাঠানোর দাবী করছি আমি।
গ্যাটকো
দুর্নীতি মামলায় অভিযোগ গঠনের শুনানির জন্য বিশেষ কারাগার থেকে খালেদা জিয়াকে এবং
অন্য ১৫ আসামীকে কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে সকাল সোয়া ১০টার দিকে বিশেষ আদালত-৩ সমীপে
হাজির করা হয়।
মামলার অপর আসামী আরাফাত রহমান
কোকোকে অসুস্থতার জন্য হাজিরা থেকে আদালত অব্যহতি দেওয়ায় তাকে হাজির করা হয়নি।
সকাল ১০টা ২৬ মিনিটে
বিচারক শাহেদ নূরউদ্দিন এজলাসে আসেন।
শুরুতে খালেদা জিয়ার
আইনজীবী
এাডভোকেইট
আবদুর রেজ্জাক খান সুপ্রিম কোর্টে গ্যাটকো মামলা স্থগিত সংক্রান্ত একটি লিভ টু
পিটিশনের শুনানির কথা আদালতকে অবহিত করে দুই সপ্তাহের জন্য মামলার কার্যক্রম
মুলতবির আবেদন জানান।
এ বিষয়ে রাষ্ট্র ও
আসামীপক্ষের সংক্ষিপ্ত শুনানি শেষে বিচারক আগামী ২০ জুলাই মামলার পরবর্তী দিন ধার্য
করেন।
দ্রব্যমূল্যে বর্তমান অবস্থা থেকে উত্তরণে সংসদ নির্বাচন দ্রুত অনুষ্ঠানের দাবী করে
বিএনপির চেয়ারপার্সন বলেন,
'দ্রব্যমূল্য
নিয়ন্ত্রণে সরকার ব্যর্থ হয়েছে।
আমি এ জন্য তাদের
দোষারোপ করছি না।
তারা তো এ বিষয়ে দক্ষ নন।
জনপ্রতিনিধির সরকার
থাকলে ঠিকই এ-বিষয়ে সমাধান আসতো।
তত্ত্বাবধায়ক সরকারের
প্রতি সহযোগিতার মনোভাব প্রকাশ করে খালেদা জিয়া বলেন,
'আমরা
সব দলের অংশগ্রহণে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন চাই।
আমরা কারো সঙ্গে সংঘাত
চাই না।
আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সমাধান
চাই।
সরকার বলেছে
wW‡m¤^‡i
সংসদ নির্বাচন হবে।
এটা দুই মাস আগে
অক্টোবরে করলে আপত্তি কোথায়?
জরুরি অবস্থার প্রসঙ্গ
টেনে খালেদা জিয়া বলেন,
এ আইনের জন্য কোনো কথা
মানুষ বলতে পারছে না।
গণমাধ্যমগুলোও
স্বাভাবিকভাবে কাজ করতে পারছে না।
আজ নির্বাচিত সংসদ থাকলে
সংকট উত্তরণে আলোচনা করে একটি সমাধান পাওয়া যেতো।
কিন্তু এভাবে অবরুদ্ধ
অবস্থায় দেশ চলতে পারে না।'
গত বছরের
২ সেপ্টেম্বর রাতে দুর্নীতি দমন কমিশন গ্যাটকো মামলা দায়ের করার কয়েক ঘণ্টা পরই
যৌথবাহিনী বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া ও কোকোকে গ্রেপ্তার করে।
গ্যাটকো মামলায় অভিযুক্ত
২৪ জনের মধ্যে সাবেক মন্ত্রী আবদুল মান্নান ভূঁইয়া,
ডঃ খন্দকার মোশাররফ
হোসেন,
এম শামসুল ইসলাম,
এম কে আনোয়ার,
মতিউর রহমান নিজামীসহ ১৭
জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
সাবেক অর্থমন্ত্রী এম
সাইফুর রহমান,
বাণিজ্যমন্ত্রী আমীর খসরু
মাহমুদ চৌধুরীসহ এ মামলার সাত আসামীকে পলাতক দেখানো হয়েছে।
দুর্নীতির মাধ্যমে চট্টগ্রাম বন্দর ও কমলাপুরের পণ্যবাহী কন্টেইনার ডিপো পরিচালনার
দায়িত্ব গ্লৌবাল এগ্রৌ ট্রেইড কোম্পানিকে (গ্যাটকো) দেওয়ার অভিযোগে খালেদা জিয়া ও
কোকো-সহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে ২০০৭ সালের ২
†m‡Þ¤^i
রাজধানীর তেজগাঁও থানায় মামলাটি
দায়ের করে দুর্নীতি দমন কমিশন।
মামলা
দায়েরের সময় খালেদা জিয়া ছাড়া সাবেক কোনোও মন্ত্রীকে আসামী করা হয়নি।
তদন্ত শেষে গত ১৩ মে
ঢাকার মহানগর হাকিমের আদালতে মামলার অভিযোগপত্র দেন দুর্নীতি দমন কমিশনের
উপ-পরিচালক মোহাম্মদ জহিরুল হুদা।
এতে আগের ১৩ জনের সঙ্গে
জোট সরকারের নয় জন মন্ত্রীসহ মোট ২৫ জনকে আসামী করা হয়।
আসামীদের মধ্যে সাবেক
নৌমন্ত্রী আকবর হোসেন মারা যাওয়ায় তাকে অব্যাহতি দেওয়া হলে আসামীর সংখ্যা ২৪ জনে
দাঁড়ায়।
ঢাকা
থেকে আবদুর রহিম হারমাছি
লন্ডনঃ
৯ জুলাই,
২০০৮ |