|
ইসরায়েল ছুঁতে-পারা মিসাইল 'সাহাব' ছুঁড়ে পরীক্ষা করেছে ইরান
পরমাণু
কর্মসূচি নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে নিজেদের প্রস্তাব হাজির করার রেশ কাটতে
না কাটতেই দূরপাল্লার মিসাইলের পরীক্ষা চালিয়ে আরেক দফা আলোড়ন তুলেছে ইরান।
তেহরান জানিয়েছে, বুধবার
পরীক্ষামূলক নয়টি মিসাইল ছোঁড়া হয়েছে।
এ-মিসাইলগুলোর মধ্যে
একটি আবার ইসরায়েলের ভূখন্ডে আঘাত হানতে সক্ষম বলে জানানো হয়েছে।
ইরান মিসাইল উৎক্ষেপণের
সংবাদে তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল।
ইরানের
রাষ্ট্র-নিয়ন্ত্রিত টেলিভিশনের খবরে বলা হয়, দূর ও মধ্যপাল্লার যে-মিসাইলগুলো
পরীক্ষা করা হয়েছে, সেগুলোর মধ্যে সাহাব-৩ মিসাইলটির পাল্লা বারোশো পঞ্চাশ মাইল।
উল্লেখ্য,
সত্যই এ-দূরত্ব অতিক্রমে
সক্ষম হলে সাহাব-৩ ইসরায়েলে আঘাত হানতে সক্ষম হবে।
বস্তুতঃ
পশ্চিম ইরান থেকে
ইসরায়লের রাজধানী তেল আবিবের দূরত্ব সাড়ে ছ'শো মাইলের মধ্যে।
লক্ষণীয় বিষয়,
ইরান এমন একটি সময়ে
মিসাইল পরীক্ষা চালিয়েছে, যখন মার্কিনীরা এশিয়া-ইউরৌপের অন্ততঃ দুটি স্থানে
সমর-বিষয়ক তৎপরতা চালাচ্ছে।
সোমবার,
চেক রিপাবলিকের সাথে
বহুলালোচিত মিসাইল শীল্ড স্থাপন বিষয়ক চুক্তিতে পৌঁছেছে যুক্তরাষ্ট্র।
তথাকথিত 'দূর্বৃত্ত
রাষ্ট্রগুলোর' মিসাইল হামলা ঠেকানোর কথা বলে এ-উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
চেক রিপাবলিকের
প্রতিবেশী রাশিয়া দীর্ঘদিন থেকেই এ-ধরণের উদ্যোগের বিরোধিতা করা হচ্ছে।
পূর্ব ইউরৌপ ছাড়াও
পারস্য উপসাগরীয় এলাকাতেও চলছে মার্কিন সমর-সজ্জা।
এ-স্থানটিতে মার্কিন ও
ব্রিটিশ যুদ্ধ-জাহাজগুলো গত কয়েকদিন ধরে নৌ-মহড়া চালিয়ে যাচ্ছে।
ইরানের
সর্বশেষ কর্মকান্ডের ব্যাপারে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে ইসরায়েল জানিয়েছে, তারা
দেশটির সাথে যুদ্ধ চায় না।
তবে প্রধানমন্ত্রী এহুদ
ওলমার্টের মুখপাত্র মার্ক
রেজেভ বুধবার জানিয়েছেন,
ইরানের পরমাণু কর্মসূচি এবং ব্যালিস্টিক মিসাইল কর্মসূচি পুরো আন্তর্জাতিক
সম্প্রদায়ের জন্য ভয়ের ব্যাপার।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের
পক্ষ থেকে দেয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়, ইরান যে-ঘটনা ঘটিয়েছে, তা জাতিসংঘ নিরাপত্তা
কাউন্সিলের প্রস্তাবনার বিরোধী।
বুধবার ইরানী মিসাইল উৎক্ষেপণের ঘটনার পরে দেয়া এক বিবৃতিতে
ওয়াইট হাউসের মুখপাত্র
গর্ডন জনড্রী
বলেন,
'এ-ধরণের কর্মকান্ডের
মধ্য দিয়ে ইরানের শাসকরা ইরানের জনগণকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছ থেকে আরও এক
দফা বিচ্ছিন্ন করেছে।'
ভবিষ্যতে আর কোনো মিসাইল
উৎক্ষেপণ না করার জন্য তিনি তেহরাণের প্রতি আহবান জানিয়েছেন।
আসন্ন
মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে দুই প্রার্থীও বুধবার বেশ কড়া কথা বলেছেন ইরানের
বিরুদ্ধে।
রিপাবলিকান পার্টির প্রার্থী জন
ম্যাককেইন জানান, ইরানের তৎপরতার মধ্য দিয়ে চেক রিপাবলিক ও পৌল্যান্ডে মিসাইল শীল্ড
বসানোর মার্কিন পরিকল্পনার যৌক্তিকতা আরো ভালোভাবে ফুটে উঠেছে।
অন্যদিকে ডেমোক্র্যাটিক
পার্টির প্রার্থী বারাক ওবামা মনে করেছেন, কৃতকর্মের জন্য ইরানের বিরুদ্ধে আরও কঠিন
বিধি-নিষেধ আরোপ করা প্রয়োজন।
লন্ডনঃ ৯
জুলাই, ২০০৮ |