|
মেয়র বরিস জনসনের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরুর ঘোষণা
লন্ডন
এাসেম্বলীর
পরপর
তিনজন শীর্ষস্থানীয় পদত্যাগের ঘটনায় এমনিতেই বিব্রতকর অবস্থায় থাকা লন্ডন মেয়র বরিস
জনসনের জন্য আরেক দফা খারাপ খবর এসেছে বুধবার।
লন্ডন
এাসেম্বলী
জানিয়েছে,
মেয়র নির্বাচিত হবার পরে জনসন
যেসব গুরুত্বপূর্ণ স্টাফ ও উপদেষ্টাদের নিয়োগ দিয়েছেন,
তাদের নিয়োগের ধরণটি
জানার জন্য একটি তদন্ত শুরু করা হবে অবিলম্বে।
উল্লেখ্য,
আর্থিক অনিয়ম ও অসঙ্গত
ব্যবহারের অভিযোগ মাথায় নিয়ে গত শুক্রবার পদত্যাগ করেছেন ডেপুটি মেয়র ফর ইয়ং পিপল
রে লিউস।
এছাড়া একজন সাংবাদিকের সাথে
আলাপকালে বর্ণ-বিদ্বেষী মন্তব্য করার দায়ে গতমাসের শেষের দিকে মেয়র অফিস ছাড়তে
বাধ্য হন জেইমস ম্যাকগ্রাথ।
কেন লিভিংস্টৌনকে হারিয়ে
দিয়ে গত মে মাসে মেয়র নির্বাচিত হবার পরে বরিস জনসন যাদেরকে নিয়োগ দিয়েছেন তাদের
মধ্যে পদত্যাগকারী দুই ব্যক্তির স্থান ছিলো একেবারের উপরের দিকে।
রে লুইসের বিরুদ্ধে যেসব
অভিযোগ উঠেছিলো, সেগুলোর জের এ-মঙ্গলবার মেয়র অফিস থেকে সরে গেছেন নিকৌলাস বৌলস।
ধারণা করা হচ্ছে লুইস বিষয়ক বিতর্কে যতি টানার লক্ষ্য থেকেই আচমকা সরানো হয়েছে
বোলসকে।
বুধবার
এক বিবৃতিতে গ্রেইটার লন্ডন এ্যাসেম্বলী (জিএলএ) জানিয়েছে, আলোচ্য তদন্তটি
পরিচালনার ক্ষেত্রে চারটি মূল প্রশ্নের জবাব পাবার দিকে জোর দেয়া হবে।
এগুলো হচ্ছেঃ (১) পলিসি
এডভাইজারদের বেছে নেয়ার ক্ষেত্রে বরিস জনসন কী পন্থা অবলম্বন করেছিলেন,
(২) নিয়োগদানের
নিয়মাবলীগুলো যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছিলো কি-না,
(৩) নিয়োগদানের ক্ষমতা
ব্যবহারের ধরণ সম্পর্কে মেয়রকে যথাযথ পরামর্শ দেয়া হয়েছিলো কি-না,
এবং
(৪)
ভবিষ্যতে সিটি হলে [মেয়র অফিসে] পরিবর্তন আনয়নের ব্যাপারে তদন্ত থেকে কী শিক্ষা
নেয়া যেতে পারে।
উল্লেখ্য,
লন্ডন
এাসেম্বলীর
সদস্য জন বিগসের পক্ষ থেকে বরিস জনসনের নিয়োগ-নীতির ব্যাপারে তদন্ত শুরুর জন্য
আহবান জানানো হয়।
বিগস তার দাবীর সপক্ষে বক্তব্য
পেশকালে বলেন,
'একজন উপদেষ্টাকে হারানোটাকে দূভার্গ্যজনক বললেও বলা যেতে পারে,
কিন্তু দু'সপ্তাহের
মধ্যে দু'জন [উপদেষ্টার] বিদায় হওয়াকে দায়িত্বজ্ঞানহীনতা বলেই মনে হয়।'
সরকারী খাত থেকে বেতন
হয়, এমন নিয়োগগুলোর ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষের সুদক্ষ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার ব্যাপারে
গুরুত্ব আরোপ করেন লেবার পার্টির জিএলএ সদস্য জন বিগস।
তিনি আরও বলেন,
"আমরা জানি যে, সিটি হলে
এবারই প্রথমবারের মত ক্ষমতার পালা-বদল ঘটেছে,
কিন্তু তাই বলে এটা শেষ
পালা-বদল নয়।
তদন্তের মধ্য দিয়ে আমরা যে
শিক্ষা পাবো, তা ভবিষ্যতে নতুন যে-মেয়র আসবেন, তাকে অনেক ঝামেলা মুক্ত থাকার সহায়তা
করবে।'
স্মরণ করা যেতে পারে, ২০০০ সালে
প্রথমবারের মত লন্ডন মেয়র পদের জন্য নির্বাচন পদ্ধতির সূচনা হয়।
পরপর দু'বার নির্বাচনে
জিতে এ-বছর মে মাসের প্রথম দিন পর্যন্ত মেয়র পদে আসীন ছিলেন কেন লিভিংস্টৌন।
পয়লা মে'র নির্বাচনে
তিনি জনসনের কাছে লক্ষাধিক ভৌটের ব্যবধাবে হেরে যান।
বুধবার
জন বিগসের পক্ষ থেকে তদন্ত শুরুর প্রস্তাবটি উত্থাপন করা হলে, তা সমর্থন করেন
লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির জিএলএ সদস্য মাইক টাফ্রী|
তদন্তের পক্ষাবলম্বন করে
তিনি বলেন,
বরিস জনসন স্বচ্ছ এবং সুস্পষ্ট
পন্থায় উপদেষ্টাদের নিয়োগদানের মাধ্যমে সিটি হলে স্বজনপ্রীতির সমাপ্তি টানার
অঙ্গীকার করেছিলেন।
কিন্তু আজ আমরা টিম
পার্কারের কাছ থেকে যে-সব কথা শুনতে পাচ্ছি তা [মেয়র অফিসে ] নিয়োগদান সংক্রান্ত
বিষয়টিকে স্পষ্ট করে তোলায় ব্যর্থ হচ্ছে।
টাফ্রী
আরও জানান, সাম্প্রতিক পদত্যাগ
দুটির মধ্য দিয়ে নতুন মেয়রের নিয়োগ-নীতি উন্মোচিত হয়ে পড়েছে।
উল্লেখ্য,
ফার্স্ট ডেপুটি মেয়র ও
জিএলএ গ্রুপের শীর্ষ নির্বাহী টিম পার্কার মেয়র বরিস জনসনের সপক্ষে যে-সব কথাবার্তা
বলছিলেন, তার বিপরীতে এসব মন্তব্য করেন মাইক টাফ্রী
।
লন্ডনঃ ৯
জুলাই, ২০০৮ |