|
কাবুলে ভারতীয় দূতাবাসে আত্মঘাতী
বোমা
বিস্ফোরণঃ
বহু হতাহত
সোমবার
আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলের ভারতীয় দূতাবাসে ভয়াবহ এক আত্মঘাতী বোমা হামলায়
প্রাণ হারিয়েছেন প্রায়-অর্ধশত মানুষ।
এছাড়াও বিস্ফোরণে বেশ
কিছু মানুষ আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
বোমাতে প্রাণ হারানো
লোকজনের মধ্যে ভারতীয় দূতাবাসের সামরিক
এাটাচে,
পলিটিক্যাল কাউন্সেলর ও
দু'জন ভারতীয় নিরাপত্তা রক্ষীও ছিলেন বলে খবর পাওয়া গেছে।
আফগান কর্তৃপক্ষ ও
পর্যবেক্ষকদের অনেকে হামলার সাথে তালেবানের জড়িত ইঙ্গিত দিলেও
সংগঠনটি তা প্রত্যাখান
করেছে।
এদিকে,
পরিস্থিতির উপরে নজর
রাখার জন্য চার সদস্যের একটি উচ্চ ক্ষমতা-সমপন্ন দলকে কাবুল পাঠিয়েছে নয়াদিল্লী।
সংবাদ
মাধ্যমগুলো জানিয়েছে,
বিস্ফোরক-ভর্তি একটি
গাড়ী নিয়ে একজন আত্মঘাতী বোমারু কাবুলের কেন্দ্রস্থলে ভারতীয় দূতাবাসে হামলা চালায়।
২০০১ সালে আফগানিস্তানের
ক্ষমতা থেকে তালেবানীদের হটে যাবার পরে,
কাবুলে এতো বড়ো হামলার
ঘটনা আর ঘটেনি।
বিস্ফোরণের তাৎক্ষণিক পরিণতিতে
কমপক্ষে পঁয়তাল্লিশ ব্যক্তির প্রাণহানির সংবাদ পাওয়া গেছে।
এছাড়াও আহত হয়েছেন দেড়
শতাধিক মানুষ।
গাড়ী-বোমাটির বিস্ফোরণের আঘাতে
ভারতীয় দূতাবাসের দেয়ালের বড়ো একটি অংশ ও রাস্তার পাশের নিরাপত্তা অফিসটি উড়ে যায়।
এ-সময় বোমার
আঘাত-প্রাপ্ত মানুষের ছিন্ন-বিচ্ছিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ রাস্তার উপরে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে
পড়ে থাকতে দেখা যায়।
নিহতদের মধ্যে বেশির ভাগ
মানুষ ভারতীয় ভিসা সংগ্রহের জন্য দূতাবাসে এসেছিলেন বলে জানা যায়।
ভারতীয় ও আফগান
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন রাষ্ট্রদূত জয়ান প্রসাদ
নিরাপদ ও অক্ষত আছেন।
কাবুলে ভারতীয় দূতাবাসটি
আফগান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের সন্নিকটে শহরের ব্যস্ততম এলাকায় অবস্থিত।
দূতাবাসে আসা লোকজন
ছাড়াও ভবনের আশেপাশের দোকানপাটে থাকা বেশ কয়েকজন লোকও বিস্ফোরণে প্রাণ হারিয়েছেন।
জাকার্তা থেকে প্রচারিত
সরকারী খবরে প্রকাশ,
বিস্ফোরণের সময় ভারতীয় দূতাবাসে
অবস্থানরত দু'জন ইন্দোনেশীয় কূটনীতিক গুরুতর আহত হয়েছেন।
বিস্ফোরণের সাথে জড়িত থাকার দায়ে বিভিন্ন মহল থেকে অভিযুক্ত করা হলেও
আফগান তালেবান
জানিয়েছেন, ভারতীয় দূতাবাসে হামলার সাথে তাদের কোন সম্পর্ক নেই।
আফগান কর্তৃপক্ষের দাবী
'রিজিওন্যাল ইন্টিলিজেন্স সার্কেলের' সাহায্য-সহযোগিতার ভিত্তিতে 'সন্ত্রসবাদীরা'
হামলাটি পরিচালনা করেছে।
'রিজিওনাল ইন্টিলিজেন্স
সার্কেল' বলতে পাকিস্তানে অবস্থানরত তালেবানী মিত্রদের বুঝানো হচ্ছে কি-না, এমন
একটি প্রশ্নের উত্তর দিতে অস্বীকার করেন আফগান সরকারে একজন মুখপাত্র।
আফগান প্রেসিডেন্ট হামিদ
কারজাই জানিয়েছেন,
ভারত ও আফগানিস্তানের মধ্যে
বিদ্যমান সুসম্পর্কের যারা শত্রু , তারাই দূতাবাসে হামলাটি চালিয়েছে।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী
মনমোহন সিংয়ের সাথে আলাপকালে তিনি ঘটনার ব্যাপারে গভীর দুঃখ প্রকাশ করেন ও নিহতদের
ভারতীয়দের জন্য গভীর শোক প্রকাশ করেন।
হামলাকারীদের খুঁজে বের
করার ব্যাপারে সম্ভাব্য সকল কিছু করার অঙ্গীকারও ব্যক্ত করেন কারজাই।
আফগান কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট
করে কোনো সংগঠনের নাম উল্লেখ না করলেও,
বিস্ফোরণের ধরণ দেখে
পর্যবেক্ষকদের অনেকেই সোমবারের বিস্ফোরণটির সাথে তালেবানীদের জড়িত থাকার ব্যাপারে
দৃঢ় সন্দেহ পোষণ করছেন।
উল্লেখ্য,
আত্মঘাতী বোমারু ব্যবহার
করে লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানোর ব্যাপারটি তালেবানরা দীর্ঘদিন থেকেই করে আসছে।
কিন্তু এ-প্রসঙ্গে দেয়া
এক বিবৃতিতে তালেবান মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ সংবাদ মাধ্যমকে বলেন,
'আমরা এ-ঘটনা ঘটাইনি।'
এদিকে
ভারত সরকারের পক্ষ থেকে দেয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়,
আফগান সরকার ও জনগণের
প্রতি আমাদের যে-অঙ্গীকার,
এ-ধরণের সন্ত্রাসবাদী
তৎপরতা চালিয়ে তা থেকে আমাদেরকে সরিয়ে আনা যাবে না।'
ভারতীয় কর্তৃপক্ষ
সোমবারের হামলার সাথে তালেবানীদের জড়িত থাকার সন্দেহ পোষণ করছে বলে জানা গেছে
ভারতীয় মিডিয়া সূত্রে।
হামলার খবর পাওয়ার কিছু
পর থেকে কাবুলের ঘটনা-প্রবাহের উপরে কড়া নজর রাখতে শুরু করে নয়াদিল্লী।
বিদেশমন্ত্রী প্রণব
মুখার্জী ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রী একে এন্টনীর উপস্থিতিতে উচ্চ-পর্যায়ের এক বৈঠক শেষে,
বিদেশ মন্ত্রণালয়ের সচিব
নলিন সুরীর নেতৃত্বে চার সদস্যের এক প্রতিনিধি দলকে কাবুল পাঠিয়েছে ভারতীয়
কর্তৃপক্ষ।
সোমবারের হামলাতে যে-চার ভারতীয় প্রান হারিয়েছেন তারা হলেন ডিফেন্স
এাটাচে
ব্রিগেডিয়ার আর ডি মেহতা,
কাউন্সেলর ভেঙ্কটাশ্বরা
রাও,
নিরাপত্তা রক্ষী অজয় পাথানিয়া ও
রূপ সিং।
লন্ডনঃ ৭
জুলাই, ২০০৮ |