|
বিলাসী-ভোজনে মত্ত জি-৮ নেতারাঃ
নিমন্ত্রণ নেই আফ্রিকান নেতাদের
ধনী-দরিদ্রের
বৈশ্বিক ব্যবধানের ব্যাপারটি প্রকটভাবে ধরা পড়ে গেছে এবারের জি-৮ সম্মেলনে।
খবরে প্রকাশ,
বিশ্বব্যাপী খাদ্য-সঙ্কট
ও তা থেকে বেরিয়ে আসার পথ খোঁজাকে এবারের সম্মেলনের প্রধান উপজীব্য করা হলেও,
বিশ্বের সর্বাপেক্ষা
শিল্পোন্নত আটটি দেশের নেতারা নিজেরাই সম্মেলন-জুড়ে বিপুল-বিলাসী
চর্ব্য-চোষ্য-লেহ্য-পেয়তে মত্ত হয়ে পড়েছেন।
পরিস্থিতি এতোই নির্মম
যে,
সম্মেলনে যোগ দিতে আসা আফ্রিকান
কয়েকজন নেতাকে এসব বিপুল-বিলাসী ভোজসভাতে যোগ দেয়ার জন্য ডাক পাঠানো হয়নি।
জি-৮ নেতাদের এহেন
আচরণের কারণকে সমালোচনা করা হয়েছে বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে।
উল্লেখ্য,
যুক্তরাষ্ট্র,
যুক্তরাজ্য,
কানাডা,
ইতালী,
জাপান,
ফ্রান্স,
জার্মানী,
রাশিয়া মিলে জি-৮ জোটটি
গঠিত।
জোটের এবারের বার্ষিক সম্মেলনটি
সোমবার শুরু হয়েছে জাপানের হৌক্কাইডোতে।
খবরে
প্রকাশ,
সম্মেলনের আনুষ্ঠানিকতাতে
বিশ্বব্যাপী খাদ্য সঙ্কট ও
ক্ষুধার প্রকোপ
মোকাবেলা-সহ অনেক বড়ো-বড়ো বিষয় নিয়ে কথা হলেও,
উদ্বোধনী দিনে জি-৮
নেতারা ব্যস্ত থেকেছেন বিলাসী ভোজনে।
জানা গেছে,
সোমবার দুপুরে ও রাতে
তারা যথাক্রমে ছয় ও আট পদের অতি দামী খাবার খেয়ে লাঞ্চ ও ডিনার সারেন।
এ-পদগুলোর প্রত্যেকটিই
ছিলো দুর্লভ ও দুর্মূল্য।
জাপান কর্তৃপক্ষের দেয়া
তথ্যের বরাতে জানা গেছে, রাতের ডিনারে জি-৮ নেতাদের দেয়া হয় ক্যাভিয়ার,
স্মৌকড স্যামন,
কিয়েটো বিফ ও 'জি-৮
ফ্যান্টাসী ডেসার্ট'।
ব্যাঙ্কোয়াটে দেয়া হয়
পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলের দামী-দামী পানীয়।
এসব পানীয়ের মধ্যে ছিলো
শ্যামেপইন,
ফ্রেঞ্চ বার্গোন ও জাপানী সাকে।
দুপুরের 'ওয়ার্কিং
লাঞ্চে' নেতাদের খাওয়ানো হয় ওয়াইট
এাসপেরাগাস,
ট্রাফল স্যুপ,
ক্রাযাব
এবং চিকেনের বিশেষ একটি পদ।
সংবাদ-মাধ্যম জানিয়েছে,
সম্মেলনে যোগ দিতে আসা
সাতটি আফ্রিকান রাষ্ট্রের নেতাদেরকে মধ্যাহ্ন বা নৈশকালীন ভোজসভাতে ডাকেননি জি-৮
নেতারা।
বিশেষ নিমন্ত্রণ পেয়ে এবারের
সম্মেলনে যোগদানের দিতে এসেছেন নাইজেরিয়া,
ঘানা,
তানজানিয়া,
দক্ষিন আফ্রিকা,
ইথিওপিয়া,
তানজানিয়া ও সেনেগালের
রাষ্ট্রনেতারা।
উল্লেখ্য,
সদস্য নয় এমন বেশ কয়েকটি
দেশের নেতাদের নিমন্ত্রণ জানিয়ে সম্মেলনে নিয়ে এসেছেন জি-৮ নেতারা।
জি-৮
নেতাদের এহেন 'মুখে এক ভোজনে আরেক' মানসিকতার কড়া সমালোচনা করা হয়েছে বিভিন্ন মহল
থেকে।
সেইভ দ্য চিলড্রেন চ্যারিটির
পক্ষ থেকে ডমিনিক নাট সংবাদ-মাধ্যমকে বলেন,
'বিশ্বজুড়ে যখন খাদ্য-সঙ্কট চলছে, যখন মিলিয়ন-মিলিয়ন মানুষ দিনে একটি বেলা খাবারের
সংস্থানে ব্যর্থ হচ্ছে, তখন [জি-৮ নেতাদের] এ-রকম একের পর এক বিলাসী খাবার খেয়ে
চলাটা কপটতা ছাড়া আর কিছুই নয়।'
বিশ্বনেতাদের এহেন
অবস্থান প্রসঙ্গে নাট ব্যঙ্গ করে বলেন,
'জি-৮ যদি [ বিশ্বব্যাপী ] একটি প্রজন্মের শিশুদের আশা-প্রত্যাশার সাথে প্রতারণা
করতে চায়,
তাহলে এ-রকমের কান্ড-কারখানা
করাটা ঠিকই আছে।'
তিনি আরও স্মরণ করিয়ে দেন যে,
বিশ্বব্যাপী খাদ্য-সমস্যা এখন অত্যন্ত সঙ্কটময় সময় অতিক্রম করছে এবং জি-৮ এর উচিত
এ-দিকটির প্রতি যথাযথ গুরুত্ব প্রদান করা।
জি-৮
নেতাদের বিলাসী ভোজনে মত্ত হবার খবরে ব্রিটেইনেও বেশ প্রতিক্রিয়া তৈরী হয়েছে।
উল্লেখ্য,
লাঞ্চ-ডিনার মিলিয়ে
ব্রিটেইনের প্রধানমন্ত্রী গর্ডন ব্রাউনকে সোমবার খাওয়ানো হয়েছে সর্বমোট চব্বিশটি
বিভিন্ন পদের খাবার।
অথচ এর মাত্র কয়েক ঘন্টা
আগে ব্রিটেইন থেকে জাপান অভিমুখে বিমানে থাকা অবস্থায় খাদ্য-দ্রব্যের উপরে
'অপ্রয়োজনীয় চাপ সৃষ্টি' না করার সর্বমহলের প্রতি আহবান জানিয়েছিলেন ব্রাউন।
এছাড়াও খাবারের অপচয়
কমানোর জন্যও ব্রিটিশ পরিবারগুলোর প্রতি আহবান জানিয়েছিলেন তিনি।
ব্রাউন ও
জি-৮ নেতাদের সমালোচনা করে ব্রিটেইনের শ্যাডৌ ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলাপমেন্ট
সেক্রেট্যারী
এানড্রু
মিচেল
বলেন,
'বিপুল ব্যয়-সম্পন্ন
অতি-বিলাসী খাবার-দাবারে লিপ্ত হয়ে এবারের সম্মেলনের একটি বাজে সূচনা ঘটিয়েছে জি-৮।'
তিন বছর আগে
স্কটল্যান্ডের গ্লিনীগেলসে বৈশ্বিক ক্ষুধা নিরসনের যে-অঙ্গীকার করেছিলেন জি-৮ এর
নেতারা,
তা ভুলে না যাবার জন্যও আহবান
জানিয়েছেন টৌরি নেতা।
এানড্রু
মিচেল বলেন,
'[জি-৮]
নেতারা কী করছেন, সে-দিকে আমরা লক্ষ্য রাখছি,
অপেক্ষা করছি এবং তাদের
কথাবার্তা শুনে চলেছি।'
লন্ডনঃ ৭
জুলাই, ২০০৮ |