|
পাকিস্তানে লাল-মসজিদ বার্ষিকী শেষে আত্মঘাতী বোমাঃ ১২ প্রাণহানি
পাকিস্তানের
রাজধানী ইসলামাবাদে এক আত্মঘাতী বোমা-হামলায় কমপক্ষে ১২ ব্যক্তি প্রাণ হারিয়েছে,
যার মধ্যে অধিকাংশই পুলিস অফিসার। প্রাথমিক পর্যায়ে এ-হামলার দায়িত্ব কেউ দাবী না
করলেও আল-কায়দা সমর্থিত লাল-মসজিদপন্থী ইসলামী জঙ্গীদের সন্দেহ করা হচ্ছে।
পাকিস্তানের সরকার ও প্রেসিডেন্সীর পক্ষ থেকে ঘটনার নিন্দা করা হয়েছে।
রোববার রাজধানী
ইসলামাবাদে লাল-মসজিদ বার্ষিকী উপলক্ষ্যে অনুষ্ঠিত সমাবেশের পর নিরাপত্তা-বিধানে
কর্মরত পুলিস দলের উপর এ-হামলাটি সমাবেশে অংশগ্রহণকারীদের একজন বলে ধারণা করা
হচ্ছে। প্রত্যক্ষদর্শীর রবাত দিয়ে সংবাদ-মাধ্যমগুলো জানাচ্ছে, উত্তেজনাপূর্ণ
ভাষণ-শোনা সমাবেশ শেষে অংশগ্রহণকারীরা যখন ফিরে যাচ্ছিলেন, তখন একজন পার্শ্ববর্তী
পুলিস বেস্টনীর কাছে গিয়ে নিজের শরীরে বাঁধা বোমাটির বিস্ফোরণ ঘটায়। বিস্ফোরণের
সাথে-সাথেই ঘটনা-স্থলে আত্মঘাতী বোমারু-সহ কমপক্ষে ১২ ব্যক্তি প্রাণ হারান। এদের
মধ্যে অধিকাংশই পুলিস অফিসার বলে পুলিস কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা যায়।
রোববারের
এ-বোমা হামলাটি লাল-মসজিদপন্থী কোনো জঙ্গীর কাজ বলে প্রাথমিকভাবে সন্দেহ করা হচ্ছে।
সংবাদ-মাধ্যমগুলো জানাচ্ছে, গত বছরের জুলাই মাসে ইসলামী জঙ্গীদের দখলে থাকা
লাল-মসজিদে ১০০-প্রাণঘাতী সরকারী-হামলার প্রথম বার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষ্যে রোববারে
এক জমায়েতে আয়োজন করা হয়। জানা যায়, জমায়েত শান্তিপূর্ণ হলেও এতে বিভিন্ন বক্তার
দেয়া ভাষণ ছিলো অত্যন্ত উত্তেজনাপূর্ণ। স্বভাবতই শাব্দিক আক্রমণের মূল লক্ষ্য ছিলেন
প্রেসিডেন্ট মুশাররফ। সমাবেশে অভিযোগ করা হয় যে, আমেরিকার প্রেসিডেন্ট বুশের
ইঙ্গিতে পাক-প্রেসিডেন্ট মুশাররফ লাল-মসজিদে সেনা-অপারেশন পরিচালনা করেন।
উল্লেখ্য,
লাল-মসজিদ ও তার ভিতরে প্রতিষ্ঠিত মাদ্রাসার বংশানুক্রমিক ধর্মগুরু মৌলানা আব্দুল
আজিজ ও তার সহোদর আব্দুল রশিদ পাকিস্তানে শারিয়া আইন কর্যকর-সহ কতিপয়
ধর্মীয়-রাজনৈতিক দাবীর ভিত্তিতে শিক্ষার্থীদের জিম্মী করে দীর্ঘ-কালীন সশস্ত্র
অবস্থান গ্রহণ করে। এ-পরিস্থিতিতে প্রেসিডেন্ট মুশাররফ লাল-মসজিদ সংলগ্ন এলাকায়
সেনা-সমাবেশ ঘটান। এক পর্যায়ে জিহাদী নেতা আব্দুল আজিজ নারী-বেশে পালাতে যেয়ে ধৃত
হন কিন্তু তার সহদোর আব্দুল রশিদ আত্মসমর্পণে অস্বীকৃতি জানিয়ে লড়ে যাবার অঙ্গীকার
করেন এবং তার মৃত্যুর পর জিহাদ সারা পাকিস্তানে ছড়িয়ে পড়ার ভবিষ্যতবাণী করেন।
রোববারের
লাল-মসজিদ বার্ষিকীতে প্রয়াত আব্দুল আজিজের ১২ বছর বয়েসী পুত্র হারুনুর রশিদ ভাষণ
দেয়। ভাষণে হারুন এক বছর আগে সরকারী হামলায় লাল-মসজিদে যারা প্রাণ হারিয়েছে, তাদের
প্রশংসা করে বলে, 'ইসলামী আইন প্রতিষ্ঠার জন্য আমিও আমার জান কুরবানী দিতে প্রস্তুত
আছি।'
এদিকে, ইসলামী
জঙ্গীদের প্রতি নরম মনোভাব নিয়ে উন্নয়নের পথে স্থিতি আনার প্রচেষ্টায় নিযুক্ত
পিপিপি সরকারের প্রধান মন্ত্রী রাজা জিলানী রোববারের আত্মঘাতী বোমা-হামলার তীব্র
নিন্দা করেছেন। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, 'এটি কখনও ইসলাম নির্দেশিত পথ হতে পারে না
এবং এ-পথে কোনো কিছু অর্জনও করা যাবে না।'
প্রেসিডেন্ট
মুশাররফ রোববারের ঘটনার নিন্দা জানিয়ে ইসলামী জঙ্গীবাদের বিরুদ্ধে তার লড়াইয়ের
প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, না রোখা গেলে 'সারা দেশে লাল-মসজিদ গড়ে
উঠবে।'
লন্ডনঃ ৬ জুলাই, ২০০৮ |