|
আক্রান্ত
হলে
হরমুজ
প্রণালী
বন্ধ
হবেঃ পাশ্চাত্যের প্রতি
হুমকি ইরানের
পরমাণু
কর্মসূচিতে পূর্বের অবস্থানে অনড় থাকার ঘোষণা দিয়েছে ইরান।
শুক্রবার তেহরান
জানিয়েছে,
জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের
প্রস্তাবনার মেনে নিয়ে ইউরেনিয়াম পরিশোধন কর্মসূচি বন্ধের কোনো পরিকল্পনা তাদের নেই।
এছাড়াও ইরান জানিয়েছে,
আক্রান্ত হলে পাল্টা
ব্যবস্থা হিসাবে পৃথিবীর অন্যতম ব্যস্ততম জলপথ হরমুজ প্রণালী
বন্ধ করে দেয়া হবে।
উল্লেখ্য,
উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে
বর্হিবিশ্বে জ্বালানীর চালান যাবার ক্ষেত্রে হরমুজ প্রণালীর গুরুত্ব অপরিসীম।
এছাড়াও
'ঝটিকা
হামলা'
চালিয়ে শত্রু র সমূহ ক্ষতিসাধনের হুমকিও দেয়া হয়েছে ইরানের পক্ষ থেকে।
শনিবার
তেহরানে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে সরকারী মুখপাত্র গোলাম হুসেইন এলহাম বলেন,
'পরমাণু কর্মসূচি
সংক্রান্ত ন্যায্য অধিকার থেকে ইরান কোনোভাবেই সরে আসবে না।'
তিনি আরও বলেন, 'ইরানের
জনগণের মনোবল অত্যন্ত দৃঢ় আছে এবং তারা সর্বোচ্চ পথ-প্রদর্শক আয়াতুল্লাহ আলী
খামেনির প্রদর্শিত নীতিমালাকে অবলম্বন করে এগিয়ে যাবে।'
এলহাম জানান,
পরমাণু কর্মসূচির ব্যাপারে
আলাপ-আলোচনায় বসতে রাজী আছে তার দেশ।
কিন্তু সংলাপে বসার নামে
জাতীয় বা আর্ন্তজাতিক কোনো অধিকার বিসর্জন দেয়া হবে না।
উল্লেখ্য,
পরমাণু কর্মসূচির
ব্যাপারে ছয় 'বড়ো শক্তির' কাছ থেকে আসা প্রস্তাবের ব্যাপারে গত শুক্রবার আনুষ্ঠানিক
প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইরান।
যুক্তরাষ্ট্র,
রাশিয়া,
যুক্তরাজ্য,
চীন,
ফ্রান্স ও জার্মানী
যৌথভাবে ইরানের পরমাণু কর্মসূচির ব্যাপারটি নিয়ে আর্ন্তজাতিক পর্যায়ে তৎপর আছে।
এদের মধ্যে রাশিয়া ও
চীনের অবস্থানের সাথে অবশ্য অপর চার দেশের অবস্থানের পার্থক্য আছে।
প্রথমোক্ত দেশ-দু'টি
সর্বতোভাবেই ইরানের উপরে যে-কোনো ধরণের বল-প্রয়োগের বিরোধী।
পক্ষান্তরে,
যুক্তরাষ্ট্রের
কথাবার্তায় প্রায়শঃ যুদ্ধংদেহী মনোভাবে পরিচয় পাওয়া যায়।
জর্জ বুশ কয়েকদিন আগেও
জানান সমস্যা নিরসনের ক্ষেত্রে কূটনীতিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়া হলেও,
অন্যান্য সম্ভাবনাগুলো
বাতিল করে দেয়া হচ্ছে না।
এ-বছরের শুরুর দিকে
ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট নিকোলাস সারকোজীর কাছ থেকে একবার আক্রমণাত্মক কথাবার্তা শোনা
গিয়েছিলো।
জার্মানী বা ব্রিটেইনের পক্ষ
থেকে হামলার পক্ষে সরাসরি কোনো বক্তব্য না পাওয়া গেলেও,
মোট বিচারের
যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষেই এদের অবস্থান।
উল্লেখ্য,
আলোচ্য ছয় জাতির পক্ষ
থেকে ইউরেনিয়ান পরিশোধন কর্মসূচি বন্ধ করার বিনিময়ে ইরানকে প্রযুক্তিগত সহায়তা-দান
প্রস্তাব ও সংলাপে বসার আহবান জানানো হয়েছিলো কিছুদিন আগে।
শুক্রবার ইরানের পক্ষ
থেকে উক্ত আহবানেরই জবাব দেয়া হয়েছিলো।
সরকারের পক্ষে পরমাণু
প্রকল্প বিষয়ক ইরানের প্রধান আলোচক সায়িদ জালিলি জানিয়েছিলেন,
তাদের পক্ষ থেকে
'গঠনমূলক
ও সৃষ্টিশীল'
প্রস্তাব পেশ করা হয়েছে।
ইরানের প্রস্তাবনাতে
অর্ন্তভূক্ত বিষয়াদি সম্পর্কে শুক্রবার জালালি স্পষ্ট করে কিছু না জানানোর কারণেই
আর্ন্তজাতিক পর্যায়ের ব্যাপক কানাঘুষা তৈরী হতে থাকে।
শনিবারের বক্তব্যের পরে
অবশ্য ইরানের অবস্থানটি স্পষ্ট হয়েছে।
স্মরণ করা যেতে পারে,
ইরানের পরমাণু কর্মসূচির
পিছনে বোমা বানানোর আকাঙ্খা লুকিয়ে আছে।
কিন্তু ইরান সব-সময়
এ-অভিযোগ অস্বীকার করছে।
শুধু
প্রশাসন নয়,
ইরানের সামরিক বাহিনী ও
রেভ্যুলিউশনারী গার্ডের পক্ষ থেকেও
'ছয়
জাতির'
উদ্দেশ্যে হুমকি দেয়া হয়েছে শনিবার।
সেনা-প্রধান জেনারেল হাসান ফিরোজাবাদি
সংবাদ-মাধ্যমে বলেন,
'এটাই স্বাভাবিক যে,
অত্র অঞ্চলে আমাদের স্বার্থ বিঘ্নিত হলে আমরা কোনোভাবেই হরমুজ প্রণালী ব্যবহার করতে
দেবো না,
এ-কথাটি সকল দেশেরই জানা থাকা
উচিত।'
তবে সেনা উপ-প্রধান জানিয়েছেন,
হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে
দেয়া নয়,
বরং খোলা রাখাটাই হচ্ছে
তেহরানের লক্ষ্য।
এদিকে,
এলিট রেভ্যুলিউশনারী
গার্ডের প্রধান জেনারেল মোহাম্মদ আলী জাফরী বলেন,
সর্বশেষ প্রযুক্তির
মিসাইল নিয়ে আমরা প্রস্তুত হয়ে আছি।
শত্রুর বিরুদ্ধে মরণ
আঘাত হানতে আমরা সক্ষম।'
ইরানের
পক্ষ থেকে শনিবার যে-ধরণের মনোভাব ব্যক্ত করা হয়েছে সে-ব্যাপারে বিশেষতঃ ইসরায়েল ও
যুক্তরাষ্ট্র কী-ধরণের প্রতিক্রিয়া দেখায়,
সেদিকেই এখন তাকিয়ে
আর্ন্তজাতিক মহল।
উল্লেখ্য,
ইসরায়েল যে-কোনো সময়ে
ইরানে হামলা চালিয়ে বসতে পারে বলে এক ধরণের গুঞ্জন রয়েছে।
লন্ডনঃ ৫
জুলাই, ২০০৮ |