|
বিরোধীরা প্রেসিডেন্ট না মানলে আলোচনায় বসেবেন না
রবার্ট মুগাবে
বলতে
গেলে নিয়ম মেনে প্রতিদিন রাজনৈতিক দৃশ্যপটের পরিবর্তন ঘটছে জিম্বাবুয়েতে।
বিরোধী দল ও পাশ্চাত্যের
পক্ষ থেকে তীব্র চাপের মুখে থাকা রবার্ট মুগাবে জানিয়েছেন, তাকে প্রেসিডেন্ট মেনে
না নিলে বিরোধীদের সাথে কোনো ধরণের বসা হবে না।
বিরোধী দলের পক্ষ থেকে
অবশ্য মুগাবের কথাবার্তাকে 'তামাশা' হিসাবে উড়িয়ে দেয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য,
বুধবার আফ্রিকান
ইউনিয়নের পক্ষ থেকে বিরোধীদের সাথে আলোচনায় বসা ও জাতীয় সরকার গঠনের আহবান জানানো
হয় মুগাবের প্রতি।
মুগাবে এ-আহবানে সাড়া
দিলেও বেঁকে বসে বিরোধীরা।
তারা জানায়,
গত সপ্তাহের প্রেসিডেন্ট
নির্বাচনে ফল বাতিল না করলে সরকারের সাথে কোনো আলোচনায় বসা হবে না।
উভয় পক্ষের মধ্যেকার
দ্বন্দ্ব-উত্তেজনার ধারাবাহিকতাতেই মুগাবের পক্ষ থেকে কড়া হুমকিটি দেয়া হলো
শুক্রবার।
আফ্রিকান
ইউনিয়নের সম্মেলন শেষে দেশে ফিরে এসে রাজধানী হারারের বিমান-বন্দরে কয়েক হাজার
সমর্থকের সামনে দেয়া ভাষণে মুগাবে জানান, নির্বাচনের ফলাফল বাতিল করা হবে এমন
ভাবনায় 'বিভ্রান্ত' হওয়াটা প্রধান বিরোধী দল এমডিসি নেতা মর্গান চাঙ্গিরাইর জন্য
সমীচিন হবে না।
এছাড়াও প্রেসিডেন্ট পদের দাবী
ছেড়ে দেয়ার জন্যেও চাঙ্গিরাইর আহবান জানিয়েছেন মুগাবে।
তিনি বলেন,
'আমি জিম্বাবুয়ের প্রেসিডেন্ট,
এটাই হচ্ছে বাস্তবতা।
কেউ যদি সংলাপে বসতে
চায়, তাহলে এ-সত্য মেনে নিতে হবে।'
সংলাপের সম্ভাব্যতা
প্রসঙ্গে মুগাবে বলেন,
'তারা [বিরোধীরা] যদি
এভাবে রাজী থাকে
এবং আমরা যদি তাদের কথাবার্তাতে
সন্তুষ্ট হতে পারি,
তাহলে সংলাপে বসতে পারি এবং
তাদের কথাবার্তা শুনতে পারি।'
দক্ষিণ আফ্রিকার
প্রেসিডেন্ট থাবো এমবেকি-সহ প্রভাবশালী আফ্রিকান নেতাদের পক্ষ থেকে আসা সমর্থনের
ব্যাপারে শুক্রবারের ভাষণে সন্তোষ প্রকাশ করেন মুগাবে।
এদিকে,
এমডিসি জানিয়েছে, মুগাবে
যে-সব কথাবার্তা বলেছেন, তা নিতান্ত 'তামাশা' ছাড়া আর কিছু নয়।
দলের মুখপাত্র নেলসন
চামিসা সংবাদ-মাধ্যমকে বলেন,
'এটা
একটা অবাস্তব পূর্বশর্ত ছাড়া আর কিছু নয়।
আমরা এটা কোনোভাবেই মেনে
নেবো না।'
এছাড়াও আফ্রিকান নেতাদের পক্ষ
থেকে যেভাবে মুগাবের প্রতি সমর্থন জানানো হয়েছে, সে-ব্যাপারেও এমডিসির পক্ষ থেক
উষ্মা প্রকাশ অব্যাহত আছে।
উল্লেখ্য,
বতসোয়ানার প্রেসিডেন্ট
ছাড়া আর কোনোও আফ্রিকান নেতার পক্ষ থেকে চাঙ্গিরাইর জন্য এখন পর্যন্ত তেমন কোনো
সমর্থন আসেনি।
এমডিডি শুক্রবার জানিয়েছে,
প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের পর থেকে ক্ষমতাসীন জানু-এফপি পার্টির হাতে তাদের ১০৩ জন
কর্মী প্রাণ হারিয়েছেন এবং ৫ হাজার সমর্থক নিখোঁজ আছেন।
লন্ডনঃ ৪ জুলাই, ২০০৮ |