|
ভারতে পরমাণু ইস্যুতে কংগ্রেসীয় বিদেশ মন্ত্রীকে চিঠি দিলো বামেরা
মার্কিন
যুক্তরাষ্ট্রের সাথে পরমাণু চুক্তি না করার ব্যাপারে কংগ্রেসের নেতৃত্বাধীন ইউপিএ
সরকারকে আগামী সাত তারিখ পর্যন্ত সময়-সীমা বেঁধে দিয়েছে ভারতের বামেরা।
চারটি বামপন্থী দলের
পক্ষ থেকে শুক্রবার এ-ব্যাপারটি নিয়ে বিদেশ-মন্ত্রী প্রণব মুখার্জীর বরাবরে একটি
চিঠিও পাঠানো হয়েছে।
চিঠি পাঠানো দলগুলো
হচ্ছে কমিউনিস্ট পার্টি অফ ইন্ডিয়া (মার্কসিস্ট),
কমিউনিস্ট পার্টি অফ
ইন্ডিয়া,
ফরোয়ার্ড ব্লক ও রেভুলিউশনারী
সৌশ্যালিস্ট পার্টি।
কংগ্রেসের পক্ষ থেকে
অবশ্য এ-ধরণের কোনো সময়-সীমা মান্য করার ব্যাপারটি প্রত্যাখান করা হয়েছে।
উল্লেখ্য,
বিতর্কিত পরমাণু চুক্তি
সাক্ষরের ব্যাপারটি নিয়ে শুক্রবার দিনও উত্তাল থেকেছে ভারতের রাজনীতি।
বামেদের যুক্তি হচ্ছেঃ
এ-ধরণের চুক্তির মধ্য দিয়ে ভারতের পরমাণু কর্মসূচি মার্কিনীদের ইচ্ছা-অনিচ্ছার কাছে
বাঁধা পড়ে যাবে।
বাম-সমর্থিত কংগ্রেসের
নেতৃত্বাধীন ইউপিএ সরকারের ভবিষ্যতের ব্যাপারেও দেখা দিয়েছে বড়ো ধরণের সন্দেহ।
অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে
মার্কিনীদের সাথে বহুল সমালোচিত পরমাণু চুক্তি করার ব্যাপারে মরীয়া মনমোহন সিংয়ের
সরকার,
মুলায়েম সিং যাদবের নেতৃত্বাধীন
সমাজবাদী পার্টির সমর্থন নিয়ে সরকার চালানোর ব্যাপারে এক-ধরণের সিদ্ধান্তে পৌঁছে
গেছে।
কমিউনিস্ট পার্টি অফ ইন্ডিয়া (মার্কসিস্ট),
কমিউনিস্ট পার্টি অফ
ইন্ডিয়া,
ফরোয়ার্ড ব্লক ও রেভুলিউশনারী
সৌশ্যালিস্ট পার্টির চার নেতা যথাক্রমে প্রকাশ কারাত,
এবি বর্ধন,
দেবব্রত বিশ্বাস ও টি জে
চন্দ্রশুধন স্বাক্ষরিত চিঠিটি শুক্রবার দিল্লীতে আয়োজিত এক সংবাদ-সম্মেলনে পাঠ করে
শোনানো হয়।
চিঠিতে বলা হয়ঃ শাসক কোয়ালিশনের
নেতাদের মুখ থেকে এবং কয়েকজন ইউনিয়ন মিনিস্টারের কথাবার্তা থেকে মনে হচ্ছে,
সরকার [যুক্তরাষ্ট্রের
সাথে] পরমাণু চুক্তি করার ব্যাপারে অগ্রসর হচ্ছে।
ইন্টারন্যাশনাল
এাটমিক
এনার্জী কমিশনের বৌর্ড অফ গভর্নরের কাছ থেকে এ-সংক্রান্ত 'এাপ্রুভ্যাল
অফ সেইফগার্ডস' চাওয়ার জন্য সরকার অগ্রসর হচ্ছে কি-না, তা আমরা সুস্পষ্টভাবে জানতে
চাই।
তথ্য
প্রকাশের জন্য আগামী সাত তারিখ পর্যন্ত সরকারকে সময়
বেঁধে দেয়া হয়েছে
বামেদের পক্ষ থেকে।
প্রকাশ
কারাত জানিয়েছেন, আগামী ১৪ তারিখ থেকে বামেদের পক্ষ থেকে পরমাণু চুক্তির বিরোধিতার
কারণগুলো আরেক দফা ব্যাখ্যা-সহ ভারত-ব্যাপী প্রচারাভিযান শুরু করা হবে।
ভারতে মুদ্রাস্ফীতি ও
দ্রব্যমূল্যের মতো চলমান
সমস্যাগুলোর প্রতি
মনোযোগ দিচ্ছে না বলে মনমোহন সকরারে প্রতি অভিযোগ করেছে বাম-দলগুলো। এছাড়াও,
তারা সতর্কতা ব্যক্ত করে জানায় যে,
হিন্দুত্ববাদী বিজেপি
সাম্প্রদায়িক বিভাজন তৈরীর মাধ্যমে রাজনৈতিক ও নির্বাচনী ফায়দা লোটার চেষ্টা শুরু
করেছে।
এদিকে,
বামপন্থীদের পক্ষ থেকে
সময়-সীমা বেঁধে দেয়ার ব্যাপারে আপত্তি প্রকাশ করা হয়েছে কংগ্রেসের পক্ষ থেকে।
দলের মুখপাত্র শুক্রবার
সংবাদ-মাধ্যমের সামনে বলেন,
'একটি সার্বভৌম সরকার অথবা একটি রাজনৈতিক দলকে কোনো ধরণের সময়-সীমার অধীন হতে পারে
না।'
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে
পরমাণু চুক্তির ফলে ভারতের জাতীয় স্বার্থ রক্ষিত হবে বলে তিনি দাবী করেছেন।
লন্ডনঃ
৪ জুলাই, ২০০৮ |