|
মূলভূমি চীনের বিমান নেমেছে তাইওয়ানেঃ মাঝে গেলো ছয়
দশক
প্রায়
ষাট বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো একটি বিমান
স্বাভাবিকভাবে
চীন থেকে উড়ে এসে নেমেছে তাইওয়ানে।
শুক্রবারের এ-উড়ানটিকে
বেইজিং ও তাইপে উভয়ে 'ঐতিহাসিক' হিসাবে আখ্যায়িত করেছে।
উল্লেখ্য,
চীন কর্তৃপক্ষ সবসময়
তাইওয়ানকে নিজেদের অংশ হিসাবে মনে করেন।
কিন্তু তাইওয়ান তা মানতে
রাজী নয়।
১৯৪৯ সালে চীনে বিপ্লবের সময়
থেকেই এ-ব্যাপারটি নিয়ে বিরোধ অব্যাহত আছে।
সে-সময় জাতীয়তাবাদী নেতা
চিয়াং কাইশেকের কিছু অনুসারী মূল ভূখন্ড থেকে চার্টার করা বিমান নিয়ে তাইপে
গিয়েছিলেন।
তবে
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চীন ও তাইওয়ানের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্কের বিশেষ-বৃদ্ধিজনিত
কারণে সম্পর্কের বরফ গলতে শুরু করেছে।
এ-বছরের শুরুতে
প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বিজয়ী প্রার্থী মা ইয়িং-জেও চীনের সাথে সম্পর্কের ক্ষেত্রে
যুগান্তকারী পরিবর্তন আনয়নের অঙ্গীকার করেছিলেন।
খবরে প্রকাশ,
শুক্রবার দিনের প্রথম ভাগে চীনের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর
গুয়াংঝাও থেকে যাত্রা শুরু করে একটি বিমান তাইপের তাওইওয়ান
আর্ন্তজাতিক বিমান-বন্দরে অবতরণ করে।
বিমানটিতে মূল ভূখন্ড
থেকে আসা একশো জনের অধিক পর্যটক ছিলেন।
এ-সময় থেকে যাত্রীদের
অভ্যর্থনা জানানোর জন্য বিমান বন্দরে হাজির হয়েছিলেন শতো-শতো তাইওয়ানবাসী।
বিমান থেকে অবতরণের পরে
যাত্রীদের সম্মানে বেশ কিছু শিল্পী ড্রাগন নৃত্য পরিবেশন করেন।
প্রথম বিমানটি অবতরণের
কিছু সময় পরে চীনের দক্ষিণাঞ্চলীয় অপর শহর জিয়ামেন বিমান-বন্দর থেকে উড়ে আসা অপর
একটি বিমান তাইপির সংশান সিটি বিমান-বন্দরে অবতরণ করে।
এখানেও মূল ভূখন্ড থেকে
আসা যাত্রীদের সাদর অভ্যর্থনা জানানো হয়।
পর্যবেক্ষকদের পক্ষ থেকে চীন-তাইওয়ান বিমান চলাচল শুরু হওয়াকে দ্বিপাক্ষিক
সম্পর্কের বড়ো ধরণের উন্নতি হিসাবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
বেইজিং থেকে দেয়া এক বিবৃতিতে চীনের তাইওয়ান
এফেয়ার্স অফিসের
পরিচালক ওয়াং য়ি বলেন,
'আজকের দিনটি দু-পক্ষের সম্পর্কের উন্নয়নের ক্ষেত্রে একটি ঐতিহাসিক দিন হিসাবে
বিবেচিত হবে।'
চীন থেকে তাইপেতে আসা এয়ারবাস
এ-৩৩০ বিমানটির পাইলট লিউ শাওয়ুন
নিজ-প্রতিক্রিয়া
ব্যক্ত-কালে সংবাদ-মাধ্যমকে বলেন,
পরিকল্পনা মাফিক সবকিছু
চলতে শুরু করলে চীনের মূল ভূখন্ড ও তাইওয়ানের মধ্যেকার জলভাগের উপরে
জঙ্গী-বিমানগুলোর জায়গায় বাণিজ্যিক বিমানগুলোর দেখা মিলবে।
ঐতিহাসিক ফ্লাইটটির
পাইলটের আশা, শুক্রবারের বিমান-উড্ডয়ন সূচনার মাধ্যমে মূল ভূখন্ডের সাথে তাইওয়ানের
সম্পর্কের ক্রম-উন্নতি ঘটতে থাকবে।
উল্লেখ্য,
গত মে মাসে তাইওয়ানের
প্রেসিডেন্টের বেইজিং সফরের সময় থেকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের পালে বেশ হাওয়া লেগেছে।
জুন মাস থেকে অর্থনৈতিক
সম্পর্ক উন্নয়ন ও বিমান চলাচলের উপর থেকে বিধি-নিষেধ তুলে নেয়ার ব্যাপারে
বেইজিং-তাইপে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হয়।
জানা গেছে,
বেজিং ও সাংহাই-সহ মূল
ভূখন্ডের পাঁচটি শহর থেকে আগামী কিছুদিনের মধ্যেই তাইওয়ান অভিমুখে বিমান চলতে শুরু
করবে।
তবে বিমান চলাচলের সূচনা ঘটলেও
ষাট বছরের বিরোধ অবসানের লক্ষ্যে একটি শান্তি-চুক্তি প্রতিষ্ঠা এবং পরস্পরের
অভিমুখে তাক করে রাখা শতো-শতো অস্ত্রপাতি সরিয়ে নেয়ার ব্যাপারে এখনো কোনো কথাবার্তা
শুরু হয়নি।
লন্ডনঃ ৪
জুলাই, ২০০৮ |