|
মঙ্গোলিয়ায় নির্বাচনে সাবেক কমিউনিস্টদের জয়ঃ বিরোধীরা
নারাজ
গত রোববার মঙ্গোলিয়াতে অনুষ্ঠিত
সাধারণ নির্বাচনে সাবেক কমিউনিস্টরা আবারও বিপুলভাবে জয়যুক্ত হয়েছে বলে খবর পাওয়া
গেছে।
ভৌট গণনা শেষে মঙ্গোলিয়ার
নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে এ-খবর দেয়া হয়েছে বৃহস্পতিবার।
তবে বিরোধী দল
ডেমোক্র্যাটিক পার্টির পক্ষ থেকে নির্বাচনের ফল প্রত্যাখান করা হয়েছে।
উল্লেখ্য,
নির্বাচনের পর থেকে
ক্ষমতাসীন মঙ্গোলিয়ান পিপলস রেভ্যুলিউশনারী পার্টির (এমপিআরপি) সঙ্গে বিরোধী
ডেমোক্র্যাটিক পার্টি সংঘাতের পরিণতিতে রাজধানী উলানবাটোরে কয়েক ব্যক্তি প্রাণ
হারিয়েছেন।
এছাড়াও এমপিআরএসের সদর দফতরেও
আগুন দেয়া,
পুলিস ফাঁড়ি লুট ও একাধিক ভবন
ভাঙ্গচুরের মতো ঘটনা ঘটেছে।
মঙ্গলবার থেকে মধ্য
এশিয়ার স্থল-বেষ্টিত এ-দেশটিতে জরুরী অবস্থা জারী আছে।
বৃহস্পতিবার রাজধানী উলানবাতোর
থেকে নির্বাচন কমিশন কর্তৃক প্রকাশিত ফলে দেখা যাচ্ছে, পার্লামেন্টের ৭৬টি আসনের
মধ্যে সাবেক কমিউনিস্টদের দল এমপিআরএস পেয়েছে ৪৭টি আসন।
এমপিআরপি-এর নেতৃত্বাধীন
সাবেক কোয়ালিশন সরকারের অংশীদার বর্তমান বিরোধী দল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি পেয়েছে
২৬টি আসন।
জানা গেছে,
বাকী ৩টি আসনে ক্ষুদ্র
দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন।
নির্বাচনের ফলাফল
প্রত্যাখান করে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির নেতা সাখিয়াগিন এলবেগর্জের পক্ষ থেকে ভৌট
পুনর্গণনার আহবান জানানো হয়েছে।
গত চার বছর ধরে কোয়ালিশন
সরকারে থাকা-কালে এমপিআরপি-এর সাথে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির ভীষণ তিক্ত সম্পর্ক তৈরী
হয়েছিলো,
যারা পরিণতিতে খনিজ-সম্পদে
সমৃদ্ধ এ-দেশটির অর্থনৈতিক উন্নয়নের গতি বলতে গেলে থমকে পড়েছিলো।
সর্বশেষ নির্বাচনী ফলের
পরিণতিতে জ্ব্বালানী-সমৃদ্ধ দেশটিতে সংঘাতের রাজনীতি দীর্ঘায়িত হবে বলে আশঙ্কা করা
হচ্ছে।
এদিকে,
বিরোধী দলের দাবী
প্রত্যাখান করে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, রোববারের নির্বাচনটি সুষ্ঠু ও
আইনসম্মতভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বিরোধী নেতার অভিযোগের
প্রতি ইঙ্গিত করে নির্বাচন কমিশনের মুখপাত্র পুরেভদরজীন নারানবাত সংবাদ-মাধ্যমকে
বলেন,
'কিছু লোক মানতে চাইছেন না যে,
তাদের প্রার্থীরা পরাজিত হয়েছেন।
আমরা একাধিকবার ভৌটগুলো
গণনা করেছি, কিন্তু প্রত্যেকবার একই ফল পেয়েছি।
সুতরাং প্রকাশিত ফলাফলে
কোনো ভুল নেই।' স্বাধীন
নির্বাচন পর্যবেক্ষণ সংস্থা সান্তা মারিয়া ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে মঙ্গোলিয়ার
পার্লামেন্ট নির্বাচনকে সুষ্ঠু-নিরপেক্ষ হিসাবে বর্ণনা করা হয়েছে।
ফাউন্ডেশনের একজন
পরিচালক বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন,
ডেমোক্র্যাটিক পার্টি
যে-অভিযোগ উত্থাপন করছে, তা ডাহা মিথ্যা।'
সংবাদ-মাধ্যমগুলো জানিয়েছে,
গত কয়েকদিনের প্রাণহানির
ঘটনার পুলিশ বাহিনীর কোনো জড়িত আছে কি-না, সে-ব্যাপারে আনুষ্ঠানিক তদন্তের ঘোষণা
দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
উল্লেখ্য,
উলানবাতোরের হাঙ্গামা
দমনের চেষ্টাকালে পুলিস গুলি চালিয়েছে বলে অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার
বিচারমন্ত্রী সেন্দ মুঙ্খ-ওর্গিল জানিয়েছেন, ঘটনার সাথে কোনো পুলিস সদস্য জড়িত
ছিলেন কি-না, তা তদন্তের মাধ্যমে খুঁজে বের করা হবে।
স্মরণ করা যেতে পারে,
১৯৯০ সালে কমিউনিজম
ত্যাগ করার পর থেকেই রাজনীতিক অস্থিতিশীলতা অব্যাহত আছে রাশিয়া ও চীনের মতো
দু-পরাশক্তির প্রতিবেশী মঙ্গোলিয়াতে।
১৯৯২ সালে দেশটিতে
প্রথমবারের মতো নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
২০০৪ সালের নির্বাচনে
মাত্র এক আসনের জন্য পার্লামেন্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি এমপিআরপি।
ফলে তাদেরকে
ডেমোক্র্যাটিক পার্টির সাথে মিলে কোয়ালিশন সরকার গঠন করতে হয়।
২০০৪ সাল থেকে ২০০৮
সালের মধ্যবর্তী সময়ে তিনজন প্রধানমন্ত্রীর মুখ দেখেছে মঙ্গোলিয়া।
এহেন রাজনৈতিক সংঘাতের
পরিণতিতে পার্লামেন্টে আইন প্রণয়ন থেকে শুরু করে খনিজ উত্তোলন সংক্রান্ত অনেক
গুরুত্বপূর্ণ কাজও অনেক সময় থমকে গেছে।
কমিউনিজম-পরবর্তী যুগে
মঙ্গোলিয়াতে ধনী-দরিদ্র ব্যবধানও বেড়ে চলেছে অতি-দ্রুত গতিতে।
লন্ডনঃ ৩ জুলাই, ২০০৮
|