|
বাংলাদেশে সংলাপঃ
নেত্রীর স্থায়ী-মুক্তি-সহ ৬ দফা আওয়ামী লীগের
বাংলাদেশে সরকারের সঙ্গে
আনুষ্ঠানিক সংলাপে শেখ হাসিনার স্থায়ী-মুক্তি,
আটক সব নেতার মুক্তি ও
মামলা প্রত্যাহার-সহ মোট ৬ দফা দাবী জানিয়েছেন আওয়ামী লীগ।
বৃহস্পতিবার সেনা-নিয়ন্ত্রিত
তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাথে সংলাপ-কালে উপরোক্ত দাবীগুলো ছাড়াও দলের নেতা মোহাম্মদ
নাসিমকে সুচিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানো,
স্থানীয় নির্বাচনের আগে
জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠান ও অবিলম্বে জরুরী অবস্থা প্রত্যাহারের আহবান করা হয়েছে
আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে।
এর বাইরে অবিলম্বে
যুদ্ধাপরাধীদের বিচার এবং নির্বাচনে তাদের অংশগ্রহণ নিষিদ্ধকরণে যথাযথঃ আইনী
ব্যবস্থা গ্রহণের করার দাবী জানিয়েছে আওয়ামী লীগ।
আওয়ামী লীগের পক্ষে
ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম সংলাপের বিষয়বস্তু তুলে ধরেন।
আশরাফুল আলোচনার মাধ্যমে সবকিছু
সমাধান করে 'নির্বাচনের দিকে যাওয়ার' আশা প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন,
'আমরাই প্রথম সংলাপের
প্রস্তাব দিয়েছিলাম।
আলোচনার মাধ্যমে সব
সমস্যার সমাধান করে সবাইকে নিয়ে নির্বাচন সম্ভব।
আজই (বৃহস্পতিবার) সংলাপ
শেষ নয়।
অনেক বিষয়ে আলোচনা রয়েছে।
'জরুরী অবস্থা প্রত্যাহার প্রসঙ্গে তিনি বলেন,
'জরুরী অবস্থায় নিরপেক্ষ
নির্বাচন সম্ভব নয়।
জরুরী অবস্থায় মৌলিক
অধিকার স্থগিত থাকে।'
তত্ত্বাবধায়ক সরকার
ঘোষিত নারী-নীতি সমর্থন করে তিনি বলেন,
'এ-নারী-নীতি বাস্তবায়নে
আমরা সমর্থন দেবো।
তবে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায়
গেলে ১৯৯৭ সালের নারী-নীতি বাস্তবায়ন করবে।'
স্থানীয় নির্বাচনে অংশ
নেওয়ার ক্ষেত্রে সরকারের সঙ্গে কোনো ধরণের আঁতাতের অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে সৈয়দ আশরাফ
বলেন,
'আওয়ামী লীগ কারও সঙ্গে আঁতাত করে না।
আমরা সব দলের অংশগ্রহণে
সফল সংলাপ ও নির্বাচন দেখতে চাই।'
সংলাপ প্রসঙ্গে সন্ধ্যায়
টেলিফৌনে আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জিল্লুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে
তিনি ইউকেবেঙ্গলিকে বলেন,
'আমরা
শেখ হাসিনার স্থায়ী-মুক্তি-সহ মোট ৬ দফা দাবী সরকারের কাছে উপস্থাপন করেছি।
আশা করছি আমাদের এ-সব
দাবী সরকার গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে দেশে একটি অবাধ ও নিরপেক্ষ জাতীয়
নির্বাচনের পথ সৃষ্টি করবেন।
তিনি আরও বলেন,
'আমরা
যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ও তাদের চিহ্নিত করতে নিরপেক্ষ কমিশন গঠনের জন্য সরকারের কাছে
জোর দাবী জানিয়েছি।
আমরা চাই যুদ্ধাপরাধীরা
যাতে আর কোনো নির্বাচনে অংশ নিতে না পারে।'
সংলাপে আওয়ামী লীগের দাবীর
পরিপ্রেক্ষিতে নির্বাচনের আগেই জরুরী অবস্থা প্রত্যাহারের বিষয়টি সরকার বিবেচনা
করছে বলে শিক্ষা ও বাণিজ্য উপদেষ্টা হোসেন জিল্লুর রহমান জানিয়েছেন।
তবে আগামীতে পরিস্থিতি
বিবেচনা ও আলোচনা সাপেক্ষেই এ-সম্পর্কে সিদ্ধান্ত হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
শেখ হাসিনাকে স্থায়ী
মুক্তি দেওয়ার ক্ষেত্রে 'আইনগত কিছু প্রক্রিয়া আছে' মন্তব্য করে উপদেষ্টা এ-বিষয়ে
সুস্পষ্ট কিছু বলতে রাজী হননি।
আওয়ামী লীগের পক্ষে ভারপ্রাপ্ত
সভাপতি জিল্লুর রহমানের নেতৃত্বে সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী,
আমির হোসেন আমু,
আব্দুর রাজ্জাক,
তোফায়েল আহমদ,
সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত,
মতিয়া চৌধুরী,
আতাউর রহমান খান কায়সার
ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম সংলাপে অংশ নেন।
প্রধান উপদেষ্টার
কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংলাপে সরকারের পক্ষে নেতৃত্ব দেন প্রধান উপদেষ্টা ফখরুদ্দীন
আহমদ।
শিক্ষা উপদেষ্টা ছাড়াও তার
সঙ্গে ছিলেন যোগাযোগ উপদেষ্টা গোলাম কাদের,
আইন উপদেষ্টা এ এফ হাসান
আরিফ,
স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা
আনোয়ারুল ইকবাল ও পররাষ্ট্র উপদেষ্টা ইফতেখার আহমেদ চৌধুরী।
উল্লেখ্য,
আনুষ্ঠানিক সংলাপ সামনে
রেখে গত ১৩ এপ্রিল সরকারের পাঁচ উপদেষ্টার সঙ্গে আওয়ামী লীগের নীতি-নির্ধারকদের
প্রাক সংলাপ হয়েছিলো।
এরপর বিদেশে চিকিৎসার
প্রয়োজনে গত ১১ জুন আট সপ্তাহের জন্য মুক্তি দেওয়া হয় শেখ হাসিনাকে।
সে-রাতেই কার্যনির্বাহী
সংসদের বৈঠক থেকে সংলাপে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় দলটি।
পরে সংলাপে অংশ নিতে
প্রধান উপদেষ্টার কাছে ৯ সদস্যের প্রতিনিধি দলের নাম পাঠায় আওয়ামী লীগ।
ঢাকা থেকে আবদুর রহিম হারমাছি
৩ জুন, ২০০৮ |